নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১০ আগস্ট ২০১৯, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ৮ জিলহজ ১৪৪০
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি আর বিড়ম্বনা
ঘরমুখো মানুষের স্রোত ট্রেনের শিডিউলে চরম বিপর্যয় উত্তরের পথে পথে সীমাহীন দুর্ভোগ বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ায় কিছুটা স্বাভাবিক লঞ্চ ও ফেরি চলাচল
বিশেষ প্রতিনিধি
একদিন পরই মুসলিমদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গতকালও রাজধানী ছেড়েছে অসংখ্য মানুষ। দিনভর ঘরমুখো মানুষের স্রোত দেখা গেছে ট্রেন স্টেশন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালের দিকে। তবে গত বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ছিল অসহনীয় যানজট আর ট্রেনের ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়। যানজট ও শিডিউল বিপর্যয়ের সে ধারা অব্যাহত ছিল গতকালও। তবে বৃহস্পতিবারের ন্যায় বিরূপ আবহাওয়া না থাকায় গতকাল ফেরি চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হলেও পূর্বের চেয়ে কয়েকগুণ ভোগান্তি বেড়েছে সড়ক ও রেলপথে। সাথে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। সবমিলে এবারের ঈদযাত্রায়ও চরম ভোগান্তি আর পদে পদে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা এসব মানুষের।

গতকাল শুক্রবার রাজধানী ত্যাগ করতেই সাভার, নবীনগর, চন্দ্রা, টঙ্গী ও আশুলিয়ায় ব্যাপক যানজটের সম্মুখীন হতে হয়েছে উত্তরাঞ্চলবাসীদের। গত বৃহস্পতিবার থেকেই বৃষ্টিতে ঢাকার সাভারে ঢাকা-আরিচা, নবীনগর-চন্দ্রা ও টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেডসহ শাখা সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। আর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহন চলছে ধীরগতীতে। এ সড়কের করটিয়া হাট বাইপাস থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন থেমে থেমে চলছে বলে জানা গেছে।

যানজট টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু ছাড়িয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সড়কটি দিয়ে চলাচলকারীরা। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের পাশাপাশি পশুবাহী ট্রাকের চলাচল কয়েকগুণ বেড়ে যায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে। এর ফলে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। রাত থেকে গাড়ি আরও বাড়তে থাকায় যানজটের দৈর্ঘ্য আরও বেড়ে যায়। এছাড়া সারারাত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হওয়ায় যানজটে পশুবাহী ট্রাক আটকা পড়লে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে মহাসড়কের গোড়াই এলাকায় ধীর গতিতে চলছে যানবাহন। কোরবানির পশুবাহী অসংখ্য ট্রাক এই পথ দিয়েই উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে ঢাকার দিকে আসছে। এরই মধ্যে মাঝে মধ্যেই ট্রাক বিকল হওয়ায় এবং চালকরা লেন না মেনে এলোমেলোভাবে গাড়ি চালানোয় জটিলতা আরও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট অনেকে জানান। তবে ঐ এলাকায় থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হলেও স্থায়ী নয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জ যেতে যেখানে ৪ ঘণ্টার মতো সময় লাগে সেখানে সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। নীলফামারীগামী শ্যামলী পরিবহণের যাত্রী নিয়াজ মোর্শেদ জানান, গাড়ি ছাড়ার কথা ছিল গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টায়, অথচ ৪ ঘণ্টা পর গাড়ি স্ট্যান্ডে এসে পৌঁছায় রাত সাড়ে ৩টায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গাড়ি ছাড়লেও ভোগান্তির শেষ হচ্ছে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করে তিনি বলেন, দূরত্ব অনুযায়ী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া ৬০০ টাকা হলেও, দেড়শো টাকা বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে সাড়ে ৭শ' টাকা। এরপর আবার ভোগান্তির শেষ নেই। গাড়ি ছাড়ার প্রায় ৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো সিরাজগঞ্জ পার হতে পারেনি। ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়ে গেছে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায়। এ মহাসড়ক দিয়ে সকাল থেকেই যানবাহনে ছিল ধীরগতি। একই অবস্থা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও। এছাড়া চলমান বিআরটি প্রকল্পের কাজ ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত থাকায় এ অবস্থা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, রেলপথের যাত্রীরা পড়েছে ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ের মধ্যে। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বেশিরভাগ ট্রেনই নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়ে গেছে। উত্তরবঙ্গের ট্রেনগুলো ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে ছেড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন রেলপথে ঘরমুখো মানুষ। গত দুইদিনে কমবেশি বিলম্ব হলেও ঈদ যাত্রার তৃতীয় দিন গতকাল শুক্রবার এ চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ট্রেনগুলো ঢাকা স্টেশনে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় এমন বিপর্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। ঘরমুখো মানুষের এমন দুর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যেই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়ের মধ্যে সাংবাদিকদের জানালেন, বঙ্গবন্ধু সেতু ডাবল লেন না হওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয় থেকে মুক্তি মিলবে না। এজন্য আগামী ২০২৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সেতুর লেন না বাড়িয়ে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ালে গতি আরও কমে আসবে। ফলে বিপর্যয় আরও বাড়বে।

কমলাপুর স্টেশন থেকে রাজশাহীগামী ধুমকেতু এঙ্প্রেস গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশনে এসে পৌঁছায় সকাল সোয়া ১০টার পরে। এরপর ট্রেনটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় ১০টা ৪০ মিনিটে বলা হলেও ছেড়ে যায় সকাল ১১টায়। চিলাহাটীগামী নীলসাগর এঙ্প্রেস ট্রেনটি সকাল ৮টায় স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে ছাড়ার নির্ধারিত সময় দেয়া হয়েছে বেলা ১২টা ৫ মিনিটে। রংপুরগামী রংপুর এঙ্প্রেস ট্রেনটি সকাল ৯টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ১২টা পর্যন্ত স্টেশনে এসে পৌঁছায়নি। দিনাজপুর-পঞ্চগড়গামী একতা এঙ্প্রেস ট্রেনটি কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ১০টায়। পরে সেটি স্টেশন ছেড়েছে সকাল সাড়ে ১১টায়। রাজশাহীগামী ধুমকেতু এঙ্প্রেসের ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৬টা। কিন্তু ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ১০টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছায়। এসময় প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। মুহূর্তে হুড়োহুড়ি করে যাত্রীরা সবাই একসঙ্গে ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেন ভরে যায়। যাত্রীদের চাপ এত বেশি যে, ট্রেনজুড়ে পা ফেলার জায়গাটুকুও আর অবশিষ্ট ছিল না। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করলেও অনেক যাত্রীই আসনে বসতে পারেননি। ভিড়ের কারণে আসন খুঁজে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। একই অবস্থা দেখা গেছে, ট্রেনের ছাদেও। প্রতিটি ট্রেনের ছাদজুড়ে মানুষ আর মানুষ।

রংপুর এঙ্প্রেসের যাত্রী সাবানা আক্তার বলেন, সকাল ৯টার আগেই স্টেশনে এসে পৌঁছেছি। এখন বেলা ১২টা। সম্ভাব্য সময়ও দেয়া হয়নি। দুপুর ২টায়ও ট্রেনে উঠতে পারবো কিনা জানি না। বাচ্চাদের নিয়ে সমস্যায় পড়েছি। এদিকে, স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেকে ক্লান্ত। যাত্রীরা বলছেন, ট্রেনের বিলম্ব এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। এর অবসান দরকার।

অন্যদিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার আমিনুল হক বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে গতি কম ও স্টেশনে যাত্রী বেশি থাকায় যাত্রী ওঠা-নামা করতে সময় বেশি লাগে। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ট্রেনের যাত্রা যেন বিলম্বে না হয় সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। গতকাল রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ৩৭টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৪টি হচ্ছে নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেন; আর ৩টি হচ্ছে ঈদ স্পেশাল। এদিকে, গত দুদিন টানা বৃষ্টি আর বিরূপ আবহাওয়ায় বাধার মুখে পড়লেও গতকাল শুক্রবার অনেকটা স্বাভাবিক ছিল লঞ্চ ও ফেরি চলাচল। বৈরী আবহাওয়া কিছুটা কেটে যাওয়ায় পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌ রুটের ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ঈদে ঘরমুখো যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসযাত্রীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই ফেরি পারাপারের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। বিআইডাবিস্নউটিসি'র আরিচা অফিস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনভর বৈরী আবহাওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হলেও শুক্রবার তা কিছুটা কেটে গেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে পাটুরিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। পাটুরিয়া ঘাটে সকাল থেকে শতাধিক যাত্রীবাহী বাস, ছোট প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও প্রায় ৩শ' ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নদীতে স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল করছে ধীর গতিতে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে মোট ১৯টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে বলে জানান বিআইডাবিস্নউটিসি কর্মকর্তারা।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৮
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১১০৩৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.