নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১০ আগস্ট ২০১৫, ২৬ শ্রাবণ ১৪২২, ২৪ শাওয়াল ১৪৩৬
পুরনো সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
জনতা ডেস্ক
সরকারি পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে বেশিরভাগ সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রই ২৫ বছরের বেশি পুরনো হওয়ায় একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে, অন্যদিকে কমেছে গ্যাস ব্যবহারে দক্ষতাও। এ পরিস্থিতিতে সরকারি পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে রি-পাওয়ারিং তথা পুনঃক্ষমতায়নের মাধ্যমে নতুন রূপ দেয়া হবে। ফলে দেরিতে হলেও সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৪১ শতাংশই বেসরকারি খাতের। আর ভারত থেকে আসছে ৫ শতাংশের মতো। বাকি ৪৪ শতাংশ বিদ্যুৎই আসে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে। এ অবস্থায় রেন্টাল-কুইক রেন্টাল থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে তা বেশ সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ। এজন্য বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে রি-পাওয়ারিং প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রি-পাওয়ারিং করা হচ্ছে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র । যদিও আশির দশকে নির্মিত এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি এখন অবসরে যাওয়ার কথা। তবে ইতিমধ্যে সরকার ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এবার চতুর্থ ইউনিটটিও রি-পাওয়ারিংয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, রি-পাওয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে সাধারণত বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড় ধরনের সংস্কার করা হয়। পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তন ছাড়াও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন করা হয়। ফলে একই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে প্রায় দ্বিগুণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। যদিও এ ধরনের প্রকল্পে কিছু পরিবেশগত কিছু ঝুঁকি থাকে। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে পুরনো বাষ্পীয় প্রযুক্তির পরিবর্তে কম্বাইন্ড সাইকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি বয়লার, টারবাইন, কুলিং সিস্টেমসহ পুরনো বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও প্রতিস্থাপন করা হবে। তবে এর সুফল পেতে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র আরো জানায়, ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদনক্ষমতা ৯৫০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৬টি ইউনিট রয়েছে। তার মধ্যে দুটি ৫৫ মেগাওয়াটের এবং ৪টি ২১০ মেগাওয়াটের। এগুলোতে গ্যাসভিত্তিক প্রচলিত বাষ্পীয় টারবাইন প্রযুক্তি রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির গ্যাস ব্যবহারে গড় দক্ষতা ৩১ শতাংশ। যেখানে আধুনিক কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গড় দক্ষতা ৫৫ শতাংশ। এজন্যই ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিটটি কম্বাইন্ড সাইকেলে রূপান্তর করা হবে। ঘোড়াশালের এ ইউনিট ২১০ মেগাওয়াটের হলেও পুরনো হওয়ায় বর্তমানে উৎপাদনক্ষমতা ১৮০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান গ্যাস টারবাইনটি সংস্কারের পাশাপাশি নতুন আরেকটি স্থাপন ও বিদ্যমান বয়লার বদলে হিট রিকভারি স্টিম জেনারেটরও প্রতিস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বাষ্পীয় টারবাইনের পরিবর্তে কম্বাইন্ড সাইকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। তাতে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াবে ৪০৩ দশমিক ৫ ইউনিটে। ফলে একই পরিমাণ জ্বালানিতে অতিরিক্ত ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। তাছাড়া ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প গত মার্চে অনুমোদন করে সরকার। আশির দশকে ঘোড়াশালে ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে তা থেকে ১৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এখন রি-পাওয়ারিংয়ের আওতায় পুরনো ইউনিট সংস্কার করা হবে। এর সাথে যুক্ত হবে নতুন দুটি গ্যাস টারবাইনও। ফলে তা থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আসবে ২৬০ মেগাওয়াট। রি-পাওয়ারিং শেষে এ কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাবে মোট ৪১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

এদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে বিদ্যুৎ খাতে রি-পাওয়ারিং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আরো আগেই এ উদ্যোগ নেয়া দরকার ছিল। তাতে জ্বালানি ব্যবহার না বাড়িয়েও বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেক বাড়ানো সম্ভব হতো। তাছাড়া রেন্টাল-কুইক রেন্টাল থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রি-পাওয়ারিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশুগঞ্জ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ প্রকল্পটিও মূলত রি-পাওয়ারিং। তবে রি-পাওয়ারিংয়ের সুফল পেতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় ন্যূনতম ১৫ বছর গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্পটি নেয়া হয়েছিল ২০১১ সালে। ইতিমধ্যে একটি প্লান্ট চালু হয়েছে। তাতে ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দ্বিতীয় প্লান্টটি চালু হলে বাকি ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। আর চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এক্ষেত্রেও প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে রি-পাওয়ারিংয়ের নামে অতিরিক্ত খরচ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতউল্লাহর মতে আড়াই হাজার কোটি টাকায় ৪০০ মেগাওয়াটের নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রই নির্মাণ করা সম্ভব। তারমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন, সঞ্চালন লাইন নির্মাণও থাকে। আর রি-পাওয়ারিং হলো সংস্কার। এক্ষেত্রে জমি বা সঞ্চালন লাইন-সংক্রান্ত কোনো ব্যয়ও নেই। শুধু যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আধুনিকায়ন করা হবে। এ হিসাবে ঘোড়াশাল রি-পাওয়ারিং প্রকল্পে অন্তত ৭০০-৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। তাছাড়া রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের বেশ কিছু পরিবেশগত ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ পুরনো বয়লার প্রতিস্থাপন মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য বেশ ক্ষতিকর। অন্যান্য যন্ত্রপাতিও বেশ পুরনো হওয়ায় পরিবেশের জন্য ঝুঁকি বহন করে। প্রতিস্থাপনের সময় এগুলো থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া দূষিত পদার্থ পরিবেশ ও ফসলের জমির জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্পের পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রায় ২০৯ কোটি টাকা দরকার হবে। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম সার্ভিস (সিইজিআইএস) পরিচালিত এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে বিপিডিবির চেয়ারম্যান খন্দকার মাকসুদুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রি-পাওয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশগত কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য পরিবেশগত সমীক্ষা করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। যাতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের ক্ষতি নূ্যনতম পর্যায়ে রাখা যায়। আর প্রকল্প ব্যয় এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়। এফএনএস


Fatal error: Uncaught exception 'PDOException' with message 'SQLSTATE[HY000]: General error: 26 file is encrypted or is not a database' in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php:7 Stack trace: #0 /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php(7): PDO->query('Update newsHitC...') #1 /home/janata/public_html/lib/index.php(135): require('/home/janata/pu...') #2 /home/janata/public_html/web/details.php(10): lib->newsHitCount() #3 /home/janata/public_html/web/index.php(28): include('/home/janata/pu...') #4 /home/janata/public_html/index.php(15): include('/home/janata/pu...') #5 {main} thrown in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php on line 7