নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুলাই ২০১৭, ৩ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮
জনতার মত
ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে সম্মিলিত উদ্যোগ
কাজী রিয়াদ হোসেন
কিরণ, লেগুনার হেলপার, বয়স ১০ এর গন্ডি পেরোয়নি এখনও। রাত সাড়ে ১১টায় আগারগাঁ মোড়ে ঘুম জড়ানো চোখে ক্ষীণ কণ্ঠে যাত্রী ডাকছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিশ্রান্ত পরিশ্রম চলতেই থাকে। অথচ রাতের এ সময়ে ছোট্ট কিরণের ক্লাসের পড়া শেষ করে ঘুমাতে যাবার কথা। শুধু রাজধানীতেই বিভিন্ন রুটে লেগুনার হেলপার হিসেবে হাজারো শিশু কর্মরত। কিরণের মতোই তারা লেগুনাসহ বিভিন্ন যানবাহনের পিছনে ঝুলে ঝুলে পার করছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ জীবন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা যায়- শুধু পরিবহণ খাতেই কাজ করে প্রায় দেড় লাখ শিশু। ৯ লাখ শিশু কাজ করে কারখানায়।

শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ৩৮টি কাজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এসব কাজে শিশুদের নিয়োগ নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- এ্যালুমিনিয়াম ও এ জাতীয় দ্রব্যাদি তৈরি; ব্যাটারি, ম্যাচ, কাঁচ ও কাঁচের সামগ্রী, প্লাস্টিক বা রাবার, কীটনাশক, আতশবাজি তৈরি; অটোমোবাইল, বিড়ি ও সিগারেট কারখানা; ইট বা পাথর ভাঙ্গা; ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ; লবণ, সাবান বা ডিটারজেন্ট কারখানা; স্টিল ফার্নিশার্স বা গাড়ি মেটাল; চামড়া জাতীয় দ্রব্যাদি; ওয়েলডিং বা গ্যাস বার্নার; কাপড়ের রং বস্নীচ; জাহাজ ভাঙ্গা; ভলকানাইজিং ও মেটাল কারখানা; জিআই সীট; চুনা পাথর; চক সামগ্রী; স্পিরিট ও এ্যালকোহল; জর্দ্দা বা তামাক জাতীয়; সোনার বা ইমিটেশন; ট্রাক, টেম্পো বা বাস হেলপার; স্টেইনলেস স্টিল, কার্বন ফ্যাক্টরি; তাঁতের কাজ; ইলেকট্রিক মেশিন; বিস্কুট বা বেকারি; সিরামিক; নির্মাণ কাজ; ক্যামিকেল ফ্যাক্টরি; বন্দরে বা জাহাজে মালামাল হ্যান্ডেলিং এর কাজ।

বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণসহ সকল কাজে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। তবে ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশু বা কিশোর ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন কাজ করতে পারবে। তবে এদেশের বাস্তবতা হচ্ছে- অধিকাংশ বাবা-মা জীবিকার প্রয়োজনে তার সন্তানকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করে। অনেক বাবা-মা এমন ধারণা করেন যে, কাজ করেই যখন খেতে হবে তখন ছোটবেলা থেকেই করুক। শিশু বয়সে কাজটি তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে কি না এ বিষয়ে তারা ভাবেন না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম নিরসনের ঘোষণা দিয়েছে। সেইসাথে ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসন করা হবে। এ লক্ষ্যে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্পের ৪র্থ পর্যায়ে বর্তমানে ৬০ হাজার শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে প্রত্যাহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আর এ প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব পরিবার এবং অভিভাবক তাদের সন্তানকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে দিতে বাধ্য হন তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে ২০১০ সালে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। শিশুশ্রম নিরসনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত ৯০ হাজার শিশু শ্রমিককেই ১৮ মাসব্যাপী উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও ৬ মাসব্যাপী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কর্মক্ষম করে তোলা সম্ভব হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ হাজার শিশুকে সংশ্লিষ্ট ট্রেডের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের ইতিবাচক ফলাফলও পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাব মতে, সারাদেশে বর্তমানে ১২.৮০ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। অথচ ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৪ লাখ। অর্থাৎ গত ১৩/১৪ বছরে প্রায় ২২ লক্ষাধিক শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। শিশুশ্রম বিষয়ে অন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর বলেন, বাংলাদেশে শিশুশ্রমের পেছনে বাবা-মায়ের দারিদ্র্যতা একমাত্র কারণ নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং মানসিকতাও দায়ী। তিনি বিভিন্ন নীতি ও আইন বাস্তবায়ন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের বিষয়টিকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা এবং শিশুশ্রমিকদের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকার বিষয়টিতে জোর দেন। শিশুশ্রম নিরসনে এ বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি আরও কতগুলো কাজ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে যেমন- শিশুশ্রম থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করে নতুন আইন প্রণয়ন এবং প্রণীত নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুর বাবা-মায়ের জন্য আয়বর্ধক শর্তযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে সন্তানের আয়ের দিকে না তাকিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠায়। শিশুশ্রম বন্ধে আশাপ্রদ ফলাফলের জন্য সরকার ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের এডভোকেসি নেটওয়ার্ক কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন এবং জোরদার মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয়, সকল শিশুশ্রম নিরসনে সরকার আন্তরিক। সরকারের একার পক্ষে এই বিপুল সংখ্যক শিশুকে শ্রম থেকে প্রত্যাহার করা কঠিন। এজন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগে নিতে হবে, লেগুনার পিছনে ঝুলে থাকা কিরণদের মতো শিশুদের স্বপ্ন দেখাতে হবে। বাবা-মায়ের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোও জরুরী। তাদেরও অঙ্গীকার হতে হবে নিজের শিশু সন্তানকে ঝুঁকির্পর্ণ কাজে পাঠাবেন না, স্কুলে পাঠাবেন।

পিআইডি ফিচার

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭০৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.