নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুলাই ২০১৭, ৩ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮
আমরা আমাদের মেয়েদের সর্বনাশ দেখতে পারি না
আজহারুল আজাদ জুয়েল
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এই রকম একটি অ-কাম কেন করলেন বুঝতে পারছি না। একজন প্রমীলা ক্রিকেটারকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত কোচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলনরত নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ কয়েক জনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছেন তিনি! তাদের বিরুদ্ধে কাপ-পিরিচ ভাঙা, পেপার ওয়েট ছুঁড়ে মারা, টেবিলের গ্লাসে চপেটাঘাত করা, হুমকি প্রদান, সন্ত্রাসী কর্মকা- চালানো, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা, ইত্যাদি অভিযোগ এনেছেন ঐ মামলায়।

যাদের বিরুদ্ধে এই রকম অভিযোগ, দিনাজপুরের মানুষ তাদের খুব ভালো ভাবে চেনেন। তাদের একজন আবুল কালাম আজাদ, যিনি সর্বদা সব ধরনের ভালো কাজের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন এবং সব সময়ই সব রকমের অন্যায়ের প্রতিবাদে উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করেছেন, প্রয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। একজন সাহসী, প্রতিবাদী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ তিনি।

আরেকজন নুরুল মতিন সৈকত। শিক্ষকতা করেন, সাংস্কৃতিক ও নাগরিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকেন। নিজে গান করেন, শিশুদের মননশীল মানস গঠনে কাজ করেন। ড. মারুফা বেগম, তিনিও শিক্ষকতায় যুক্ত, জেলা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। অল্প বয়স থেকেই জড়িয়ে আছেন এর সাথে। নারীর অধিকার, মর্যাদা, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছেন সব সময়। আরও একজন শহিদুল ইসলাম। জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু রাজনৈতিক আন্দোলনের চেয়ে সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত রাখেন নিজেকে। এই মানুষগুলোর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। তারা নাকি সন্ত্রাস করেছেন! জানি না জেলা প্রশাসকের মাথায় মামলা দেয়ার ভিমরতি কেন এলো।

দিনাজপুর ক্রিকেটের কোচ আবু সামাদ মিঠুর বিরুদ্ধে একজন প্রমিলা ক্রিকেটারকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন ঐ ৪ জনসহ দিনাজপুরের নাগরিক সমাজ। দিনাজপুর নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্মিলিত জোটের ব্যানারে ঐ দাবিতে স্মারক লিপি দিতে গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসকের কাছে। কিন্তু জেলা প্রশাসক অজ্ঞাত কারণে তাদের সাথে ভালো আচরণ করেন নাই, তাদের কথা শোনেন নাই। তারা কথা বলতে চাইলে ধমক দিয়ে থামানোর চেষ্টা করেছেন। ফলে একটা উত্তপ্ত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। কথা কাটাকাটি হয়েছে। আবুল কালাম আজাদও উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়েছেন। কিন্তু এই উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য জেলা প্রশাসক নিজেই দায়ী। জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা তিনি। অথচ জেলার মানুষের কথা শোনেন না। এই জেলার উন্নয়নে, এই জেলার স্বার্থে যারা কথা বলেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন, সকল নিপীড়ন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হন, যৌন নির্যাতনসহ সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, অপরাধীর শাস্তি চান, জেলা প্রশাসক তাদের কথা না শুনে ধমক দিয়েছেন! তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে তিনি কার কথা শোনেন, কার কথায় চলেন?

দিনাজপুর নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্মিলিত জোটের ব্যানারে নাগরিক সমাজ যৌন অপরাধী মিঠুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে এর আগে আরও একবার গিয়েছিলেন জেলা প্রশাসকের কাছে। তখনও জেলা প্রশাসক নির্লিপ্ত ছিলেন। দ্বিতীয়বার যাওয়াতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, ধমক দিয়েছেন, অতঃপর মিথ্যা কথা সাজিয়ে মামলাও ঠুকে দিয়েছেন। প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের এই রকম আচরণ দেখা গিয়েছিল ১৯৯৫ সালেও, যখন পুলিশের হাতে ইয়াসমিন নামের একজন কিশোরী ধর্ষিত ও নিহত হয়েছিলেন এবং প্রশাসন ধর্ষকদের বাঁচানোর জন্য নির্যাতিতা ও নির্মম হত্যার শিকার মেয়েটিকে পতিতা বলে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করেছিল। তখনও আব্দুল জব্বার নামের একজন জেলা প্রশাসক ছিলেন এবং যার কর্মকা- ধর্ষকদের কর্মকা-কে উৎসাহিত করেছিল। তিনি অপরাধীদের অপরাধ আড়াল করতে গিয়ে দিনাজপুরবাসীর এমন রোষাণলের শিকার হয়েছিলেন যে জনগণের হাত,পা ধরার জন্য একবার আইনজীবী সমিতিতে তো আরেকবার প্রেসক্লাবে ছুটাছুটি করেছিলেন, কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয়নি। কারণ বন্দুক, পিস্তল, আর ক্ষমতা সব সময় একই রকম কাজ করে না। এগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে হয়। সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে যদি অপব্যবহার হয় তাহলে তা ভোঁতা হয়ে যেতে পারে, অকেজো হয়ে যেতে পারে।

দিনাজপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসকের আচরণ থেকে মনে হয়েছে, মিঠুর বিরুদ্ধে একজন অভিভাবকের আনীত অভিযোগকে তিনি বিশ্বাস করেন না। হয় তিনি অভিযোগটিকে মিথ্যা বলে মনে করেন, না হলে ভিন্ন কোনো কারণ থেকে অভিযোগটিকে গুরুত্ব দিতে চান না। কিন্তু প্রশ্ন হলো নিজে নিজেই কী সিদ্ধান্ত নেয়া যায়? এটা এমন এক অভিযোগ, ভিষণ রকমের সেনসেটিভ, যা সহজে কেউ আনতে চায় না। এ রকম বহু ঘটনা লাজ, লজ্জার ভয়ে চাপা পড়ে যায়। মেয়েরা নির্যাতিত হয়েও অভিযোগ আনেন না, কাউকে বলেন না, কারণ এই ধরনের ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনায় দায় চাপানো হয় নির্যাতিত মেয়েদের দিকেই। তারপরেও অপরাধীর শাস্তি হবে এমন আশায় অনেক মেয়ে সাহস করে এগিয়ে আসেন কখনও কখনও মামলা করেন, লিখিত অথবা মৌখিকভাবে ঘটনা তুলে ধরেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অথবা সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া, তদন্ত করা এবং তদন্তের আলোকে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। যেমনটি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক রাজীব মীরের ক্ষেত্রে। তার বিরুদ্ধে একজন ছাত্রীকে যৌন হয়ারানির অভিযোগ ওঠার পর কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন এবং তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে সম্প্রতি তাকে স্থায়ীভাবে চাকরি হতে বরখাস্ত হতে হয়েছে।

বিখ্যাত কিংবা বিশেষ ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলে অনেকে সেটাকে মিথ্যা বলে আগেই ধরে নেন। কিন্তু সব অভিযোগই মিথ্যা এমন ধরে নেয়ার যৌক্তিকতা নেই। বিজ্ঞান বলে, সব মানুষের মধ্যেই অপরাধপ্রবণ একটা মন আছে। নানান পারিপার্শিকতায় এটা চাপা থাকে, সুযোগ পেলে বিকশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যদি অপরাধ করে, তো মিঠুর মতো একজন কোচ কী এমন আহামরী ব্যক্তিত্ব যে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত না করে আগেই অভিযোগটি মিথ্যা বলে ধরে নিতে হবে?

জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক। পদাধিকার বলে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি। তার সংস্থার একজন কর্মচারী/কোচের বিরুদ্ধে একজন প্রমীলা ক্রিকেটারকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ ওঠার পর তার বিরুদ্ধে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিলো। (নিয়েছেন, তবে অনেক পরে। তার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অভিযুক্তকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত টিম করেছে। যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ায় ক্রিকেট বোর্ডকে অভিনন্দন)। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক সেই রকম ব্যবস্থায় না গিয়ে উল্টো পদক্ষেপ নিয়েছেন! তিনি যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে আন্দোলনরত নাগরিক সমাজের বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দিয়েছেন। সুনির্দিষ্ট ৪জন সহ ২০-২৫জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ করেছেন!

তার এই পদক্ষেপ ধর্ষক, যৌন নিপীড়কদের উল্লাসের কারণ হবে তাতে সন্দেহ নাই। কিন্তু ভয়ের কারণ হবে আমাদের মেয়েদের, যারা মাঠে যায়, স্কুলে যায়, কলেজে যায়, কোচিং সেন্টারে যায়। আমাদের মেয়েদের কেউ যদি ইভটিজিং, যৌন হয়রানি, ধর্ষণের শিকার হয় তাহলে ইভটিজার, যৌন নিপীড়ক, ধর্ষকের বিরুদ্ধে এখন বোধ হয় আর বিচার চাওয়া যাবে না। বিচার চাইতে গেলে, স্মারকলিপি দিতে গেলে অভিভাবকদের, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরকে ধমক খেতে হবে, মামলার শিকার হতে হবে, সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে। দিনাজপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়ে সেই বার্তার জানান দিয়েছেন। ১৯৯৫ সালের জেলা প্রশাসক ধর্ষকদের বাঁচানোর পদক্ষেপে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসকও সেই রকম ভূমিকাই নিয়েছেন। এই রকম একজন মানুষ দিনাজপুরে থাকলে দিনাজপুরের মেয়েদের সর্বনাশ হবে। আমরা আমাদের মেয়েদের সর্বনাশ দেখতে চাই না।

যৌন নিপীড়কের বিরুদ্ধে স্মারক লিপি দিতে গিয়ে ধমক খাওয়া ও মামলার শিকার হওয়া নাগরিক সমাজ ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের অপসারণের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। দিনাজপুর নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সম্মিলিত জোট সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিতভাবে বলেছে, যৌন নিপীড়নের মতো একটি ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এবং ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন। তার মত জেলা প্রশাসক বহাল থাকলে যৌন নিপীড়করা আশ্রয়-প্রশ্রয় পেতে থাকবে। দিনাজপুরের নারীরা নিরাপদ থাকবে না। মাঠে-ময়দানে আমাদের মেয়েদের নিরাপত্তা থাকবে না।

আমি মনে করি, জোটের এই অভিমত সঠিক। বর্তমান জেলা প্রশাসকের ভূমিকা যৌন অপরাধীদের পক্ষে। কিন্তু আমরা আমাদের মেয়েদের সর্বনাশ দেখতে পারি না। আমাদের কাছে মিঠুর শাস্তি যেমন কাম্য, তেমনি আব্দুল জব্বার মার্কা জেলা প্রশাসকদের হাত থেকেও আমাদের মেয়েদের রক্ষা করা দরকার। যার কর্মকা- অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য পেতে সহায়ক হয় তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। ইয়াসমিনকে নিয়ে যে আন্দোলন দিনাজপুরবাসী করেছে, সেই পথ আমাদেরকে সব সময়ই ধরে রাখতে হবে। তা ধর্ষক মিঠু কিংবা পুলিশ হোক, আর তাদের রক্ষক প্রশাসনের যে কোনো কর্তা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হোক।

আজহারুল আজাদ জুয়েল : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ২১
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.