নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুলাই ২০১৭, ৩ শ্রাবণ ১৪২৪, ২৩ শাওয়াল ১৪৩৮
গোবিন্দগঞ্জে বিভিন্ন রাস্তা সংস্কারের নামে টিআর প্রকল্পের প্রায় অর্ধকোটি টাকা লুটপাট
গাইবান্ধা থেকে মিলন খন্দকার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতি ও পিআইও'র বিরুদ্ধে।

তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে,২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) নির্বাচনী এলাকা বিশেষ (দ্বিতীয় পর্যায়),প্রকল্পের আওতায় উপজেলার সতেরটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়িতে ও প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দ দেয়া হয় ৮৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪৬ টাকা।

এর মধ্য উন্নয়ন খাতে ৪৩ লাখ ৪৯ হাজার ২২৩ টাকার বিপরীতে ৪৭টি,ও সোলার প্যানেল স্থাপনে সমপরিমাণ টাকার বিপরীতে ২৯টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। গত ১১ মে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকতা(পিআইও)এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসব প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠান। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ঐ মাসের ২২মে অনুমোদনের সুপারিশ করে জেলা প্রশাসকের কাযাঁলয়ে পাঠান। জেলা প্রশাসক ২৩ মে এসব প্রকল্প অনুমোদন করেন। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব প্রকল্পের সংস্কার কাজ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ঐ সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো কাগজ-কলমে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখানো হলেও বাস্তবে একটি প্রকল্পেও সংস্কার কাজ করা হয়নি। এরমধ্যে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের রাঘবপুর ছাদেক মেম্বারের বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজের বিপরীতে বরাদ্ধ দেয়া হয় দুইলাখ টাকা। সাবেক ইউপি সদস্য ছাদেক আলী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন থেকে এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ হয় না। ফলে বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। গত মাস দেড়েক আগে শুনেছিলাম রাস্তাটি সংস্কারে দুইলাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো এক টুকরো মাটিও ফেলা হয়নি। একই ইউনিয়নের তেলিয়া গ্রামের আলমের বাড়ি থেকে মানিক চন্দ্র সরকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজে বরাদ্ধ দেয়া হয় দুইলাখ টাকা। আলম প্রধানের ছেলে ফরহাদ প্রধান বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের বাড়ির সামনে থেকে মানিক সরকারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজের কথা শুনেছি। কয়েকজন লোক এসে মাপজোক করেও নিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো মাটির কাজ শুরু হয়নি।

মানিক চন্দ্র সরকারের বড় ভাবি স্কুল শিক্ষিকা শ্রী মতি হেনা রানী সরকার বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুল কলেজের অনেক ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে। বৃষ্টি পড়লে কাঁদার সৃষ্টি হয়। চার-পাঁচ বছর আগে এই রাস্তায় মাটির কাজ হয়েছে। পড়ে আর হয়নি। একই উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের ক্রোড়গাছা বুড়িরভিটা থেকে গাছুপাড়া শাহআলমের দোকান পর্যন্ত এবং বাজুনিয়াপাড়া ধীরেন ওরফে হীরেন মাস্টারের বাড়ি থেকে চিত্তরঞ্জনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত কাজে বরাদ্ধ দেয়া হয় একলাখ দশ হাজার টাকা।

গাছুপাড়া এলাকার আব্দুল জোব্বারের ছেলে ব্যবসায়ী শাহআলম মিয়া বলেন, প্রতিদিন দুই-তিন বার আমাকে দোকানের মালামাল কিনতে বুড়িরভিটা বাজারে যেতে হয়। সাইকেল-রিকসা তো দুরের কথা পায়ে হেটে চলাচল করা দুস্কর। এই রাস্তায় বড় বড় গর্ত থাকায় রাতের বেলা প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

হরিরামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খোকা মিয়ার ছেলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী সাদেক আলী মিয়া বলেন, কমপক্ষে এক বছর ধরে এই রাস্তাটির বেহাল দশা হয়েছে। মেম্বার চেয়ারম্যান কারোরই চোখে পড়ে না। অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাজুনিয়া পাড়া এলাকার হীরেন মাস্টার বলেন, চিত্তরঞ্জনের বাড়ী থেকে আমার বাড়ি পযর্ন্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘদিন থেকে রাস্তাটি সংস্কার না করার ফলে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এসব প্রকল্পে এক টুকরো মাটিও পড়েনি। পুরো টাকা আত্নসাৎ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোরও একই অবস্থা। একটিরও সংস্কার কাজ হয়নি।

এপ্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জহিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়। খোঁজ খবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সভাপতিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রকল্প সভাপতিদের নাম ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৫
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৯৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.