নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯
আমানতে উচ্চ মুনাফার টোপ
একটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই। আর বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গত কারণেই এই খাতে যে কোনো ধরনের নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে তা আমলে নিয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সমপ্রতি খবরে প্রকাশ, সুদনির্ভর অনেক পরিবার এখন ব্যাংক ছেড়ে অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকতে পারেন এমন বিষয় উঠে এসেছে। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্রঋণ দান ও সমবায় সমিতির নামে গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানে বেশি মুনাফার আশায় সঞ্চয় জমা রাখতে উৎসাহিত হবেন এমন বিষয়ও সামনে আসছে।

প্রসঙ্গত বলা দরকার, ব্যাংকগুলো এখন সবোচ্র্চ ৬ শতাংশ সুদে আমানত নিচ্ছে। কিন্তু উচ্চ মুনাফার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত নিচ্ছে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান ফলে এই বিষয়টি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। জানা গেছে, সমবায় সমিতির এসব প্রতিষ্ঠান আমানতে সুদ দিচ্ছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, প্রতারিত হওয়ার নানা দৃষ্টান্ত থাকলেও এক শ্রেণির মানুষ এ ফাঁদে আবারও পা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই, ব্যাংকে আমানতের সুদহার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় এ প্রবণতা বাড়তে পারে_ এমন আশঙ্কা অমূলক নয়, ফলে অবৈধ ব্যাংকিং ঠেকাতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকেও।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সৃষ্ট পরিস্থিতিতে করণীয় নিধার্রণ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। এমন ঘটনাও সামনে এসেছে যে, একজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা ১২ শতাংশ সুদে একটি বেসরকারি ব্যাংকে ফিঙ্ড ডিপোজিট করেন। কিন্তু ১ জুলাই থেকে সুদহার ৬ শতাংশে নেমে আসায় দিশেহারা তিনি। এখন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে অন্য কোথাও তা বিনিয়োগের চিন্তা করছেন। দেখা যাচ্ছে অনেকেই বেশি সুদে আমানত রাখলেও আমানতে সুদ কমে আসায় ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিয়ে উচ্চ মুনাফার ঠিকানা খুঁজছেন। এভাবে অনেকেই বিকল্প সন্ধানে নামছেন, ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি উদ্বেগজনক বলেই আমরা মনে করি। বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মাত্র এক মাস আগে প্রায় ১১ শতাংশ সুদে ৮০ লাখ টাকা এক গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করেন তিনি। কিন্তু নতুন সুদ হারের কথা শুনে ওই গ্রাহক টাকা তুলে নেয়ার কথা জানিয়েছেন তাকে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমানতের এমন হার বজায় থাকলে ব্যাংকের তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে।

আমরা বলতে চাই যে, যখন সমবায় সমিতিগুলো ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সুদ অফার করছে এবং ব্যাংকে সুদ হার কমায় আমানতকারীরা অনেকেই টাকা তুলে বিকল্প চিন্তা করছে আর এর পরিপ্রেক্ষিতে তারল্য সংকটের বিষয়ও সামনে আসছে, তখন সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার এর পরিপ্রেক্ষিতে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, এর আগে এমন আশঙ্কা সামনে এসেছিল যে, যদি আমানতের সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৬ শতাংশ আর ঋণের সুদহার হবে ৯ শতাংশ, তবে আমানতকারীরা আগ্রহ হারাবে কিনা! কেননা আমানতের সুদহার কম, এই কারণে ব্যবসায়ীরা সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারে। এনআরবি কমার্শিয়াল (এনআরবিসি) ব্যাংকের চেয়ারম্যানও বলেছিলেন, ব্যাংকের সুদহার কমানোর পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রের দিকে নজর দিতে হবে। আর এখন আবার আমানতে উচ্চ মুনাফার টোপের বিষয়টি সামনে আসছে।

সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, যখন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তখন তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনিভাবে এর ফল যেন ইতিবাচক হয় সেই বিষয়টিকে সামনে রেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সমীচীন। বলাই বাহুল্য, বিভিন্ন সময়েই ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে যা কোনোভাবেই সুখকর নয়। ফলে ব্যাংকিং খাতের সুশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ উদ্যোগ জারি রাখতে হবে। আর যখন সমবায় সমিতি এবং নানারকম অবৈধ ব্যাংকি এর উচ্চ মুনাফার অফারের বিষয়টি সামনে আসছে তখন এর প্রভাব কী হতে পারে সেটি বিবেচনায় নিতে হবে। সামগ্রিকভাবে পুরো বিষয়টি আমলে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিশ্চিত হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৬
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৮৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.