নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯
বিশ্বকাপ ফুটবল ও বাংলাদেশ
সফিউল্লাহ আনসারী
চলছে বিশ্বকাপ ফুলবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা ওর্য়াল্ডকাপ-২০১৮। বিশ্বজুড়েই ফুটবল উন্মাদনা। পৃথিবীর সকল দেশেই ফুটবল জ্বরে ভুগছে ফুটবলপ্রেমী। আমাদের বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। দেশের আনাচে-কানাচে, দোকান, হাট-বাজার,স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি, ঘরে-অন্দরে সর্বত্রই বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা। নিজের পছন্দের দলকে সাপর্োট করে কেউ বাজি ধরতেও দ্বিধা করে না। সারা দেশে সর্মথকদের প্রিয় দলের পতাকায় ছেয়ে যায় পাড়া-মহল্লা, সড়ক-মহাসড়ক, বাড়ির ছাদ এমনকি গাড়িতেও উড়ছে প্রিয় দলের পতাকা।

বাঙালি মানেই ফুটবলপ্রেমী। এদেশের মানুষ ফুটবল পাগল। বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ছাড়াও সপেন, জার্মানী, ইটালি, ইংল্যান্ডের সমর্থকদের উন্মাদনা শহর-গ্রামে সমানতালে উৎসবের আমেজ ছড়ায়। প্রিয় দলের পতাকা, জার্সি, আর পাড়া-মহল্লায় ছোটখাটো আয়োজনে চলে জমজমাট ফুটবল প্রতিযোগিতাও। প্রিয় দলের খেলার তারিখে বিশাল প্যান্ডেলে বড় পর্দায় খেলা দেখার বিশাল আয়োজনে খাবার-দাবারের ব্যবস্থা চোখে পড়ার মতোই। সারা রাত জেগে খেলা দেখার উন্মাদনা ফুটবল ছাড়া যেনো অসম্ভব। দেশজুড়ে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাড়াবাড়িতে ঘটে মারামারির ঘটনা। অতিরিক্ত পাগলামিতে নিজের দল হেরে যাওয়ায় আত্মহত্যার ঘটনা আমরা পত্রিকায় পড়ছি। বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠছে ফ্যান ক্লাব, সর্মথক গোষ্ঠী, যার ব্যানারে মোটর শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজন বাঙালির ফুটবল প্রেমীরই পরিচয় বহন করে।

অনেক এলাকায় নিজের বাড়ি, প্রতিষ্ঠান প্রিয় দলের সমর্থনে রঙ দিয়ে সজ্জিত করা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে অঘটন আমাদের আনন্দের সাথে বেদনাকেও বাড়ায়। তবে চলতি বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে সবচেয়ে বেশি মাতামাতি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । নিজের সর্মথিত দেশ ও দল এবং প্রিয় খেলোয়ার নিয়ে বাকযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে ওসব দেশের খেলার চমকে দেয়া বিভিন্ন তথ্য দিয়ে হেনস্থাসহ নানা ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতাও চলে। অথচ এসব কিছুই সর্মথন প্রাপ্ত দেশ বা দেশের খেলোয়াড়া জানেন না। আর মেসি-নেইমার আর রোনাল্ডোর তা জানার প্রশ্নই আসে না অথচ এদের নিয়ে কতোই না মাতামাতি! তবে এসবের পেছনে একটিই কারণ বাঙালির ফুটবল নিয়ে পাগলামী। ফুটবলে পাগলামী থাকলেও ক্রিকেট তাদের অস্তিত্ব।

এক সময় বাংলাদেশে জমজমাট খেলার আসর মানেই ছিলো ফুটবল। আর বাঙালি ফুটবলপ্রেমী হিসেবে বেশ উৎসবমুখর। বিশ্বকাপ খেলা চলাকালীন সরগরম থাকলেও সময়ের পরিবর্তন আর বিশ্ব ক্রিকেটের দাপটে এখন সে অবস্থা আর নেই বললেই চলে। শুধু শহর নয় গ্রাম-গঞ্জের ছোট-বড় পাড়া মহল্লায়ও আজ ক্রিকেট উন্মাদনা, অথচ ফুটবলই ছিলো ওদের পায়ে পায়ে। আস্তে আস্তে যেনো ক্রিকেটের দাপটে ভুলেই যাচ্ছে বাঙালি ফুটবল খেলাকে। শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় দেশেই ক্রিকেটের রাজত্ব। তবে গর্বের বিষয় হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া থেকে জাপান ও দঃ কোরিয়ার বিশ্বকাপে খেলা। আরও গর্বের খবর চলতি বছর মেয়েদের ফুটবল খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া।

আমাদের গ্রামীণ আয়োজনে ফুটবল খেলায় এখনও দর্শকের বিপুল সমারোহ আর অংশগ্রহণ লক্ষ করা যায়। ফুটবলমোদীদের পদচারনায় ক্ষুদ্র আয়োজনও উচ্ছ্বাসে বাঁধ ভাঙে। বিশ্বকাপে বিপুল উৎসাহী দর্শক পাওয়া গেলেও, দর্শক খরায় ভুগছে ফুটবল টুর্নামেন্ট। এমনটি প্রায়ই শোনা গেলেও দর্শক মাঠে টানতে উদ্যোগ খুব একটা চোখে পড়েনা ! ক্রিকেট খেলা খুব বেশি দিন আমাদের দেশে মাঠ দখল না করলেও আমাদের বাংলাদেশের পরিচয় বিশ্বের বুকে নতুন করে দিয়েছে এই খেলা। বাংলার দামাল ছেলেরা ফুটবলে খুব একটা নাম না করতে পারলেও ক্রিকেটে পেরেছে, এটা গর্বের-আনন্দের। ফুটবলের জনপ্রিয়তার ক্ষেত্র পরির্বতন করে আজ ক্রিকেটে বেড়েছে ক্রীড়ামোদীর ঝোক। তাই বলে ফুৃটবলকে ভুলে থাকলে চলবে না।

এক সময় দেশের আনাচে-কানাচে দেখা যেতো ছেলে-বুড়োর ফুটবল নিয়ে ব্যস্ততা। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুম ছাড়া দেশে ফুটবল চর্চা নেই বললেই চলে। মনে হয় ফুটবল অনেকটা বাণিজ্যিক বা সরকারি উদ্যোগে শহর কেন্দ্রিক গন্ডিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক চর্চা না থাকায় ফুটবলের মান নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতেও। এরকম কারণেও ফুটবল মাঠে দর্শক উপস্থিতি কম। আজকের প্রতিযোগিতার এই সময়ে শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবল নিয়েও আমাদের ব্যাপক উদ্যোগী ও উৎসাহী হতে হবে।

শুধু যে ফুটবল তা নয়, আমাদের জাতীয় খেলা হা-ড-ুডুসহ দেশীয় প্রায় খেলার আজ বেহাল দশা। অন্য কারণেগুলোর সাথে রয়েছে ক্রিকেট উন্মাদনা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, স্থানীয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক উৎসাহ ও আয়োজনে অনীহা, সামাজিক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণ।

''ফুটবল খেলা কোন দেশে কখন প্রথম চালু হয় সে সম্বন্ধে ঐতিহাসিকরা একমত নন। কেউ বলেন চীন, কেউ গ্রিস, কেউ রোম, কেউবা ইংল্যান্ডকে ফুটবল খেলার আবিষ্কারক মনে করেন। তবে রোমানরাই ফুটবল খেলাকে ইউরোপের সঙ্গে প্রথম পরিচয় করিয়ে দেয় এবং এ খেলার বিস্তৃতি ও জনপ্রিয়তা দান করে। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে ফুটবল ইংল্যান্ডে প্রবেশ করার পর থেকে এর প্রচার, প্রসার ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ১৮৪৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রথম ফুটবলের জন্য আইন-কানুন প্রনয়ন করে। পরবর্তীকালে এর আরও পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন ঘটে এবং ফুটবলের জন্য একটি পরিপূর্ণ নীতিমালা তৈরি হয়। তাই ইংল্যান্ডকে আধুনিক ফুটবলের জনক বলা হয়। তারাই ফুটবলকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয় এবং জনপ্রিয় করে তোলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পৃথিবীতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ে। ১৯০৪ সালের ২১ মে প্যারিসে ইউরোপের ৭টি দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকে ফেডারেশন ইন্টারন্যাশনাল দ্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ফিফা) গঠিত হয়। ১৯৩০ সালে আয়োজন করা হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের। উরুগুয়ে প্রথম বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে।'' খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মন দুটোকেই উজ্জীবিত রাখে, রাখে উৎফুল্ল। কিন্ত বর্তমানে মাঠ নির্ভরতা কমে খেলা এখন গেম নামে মোবাইল, কমপিউটার আর ইন্টারনেটে বন্ধী হয়ে যাচ্ছে। যদিও আশা জাগিয়ে রাখছে ক্রিকেট খেলা । শুধু দেশের মাঠে নয় বিদেশেও আমাদের টাইগাররা জয়ের ধারাবাহিকতায় বয়ে আনছে গর্ব করার মতো সুনাম। আমরা ফুটবল পাগল জাতি হিসেবে ক্রিকেটের সুনামের পাশাপাশি ফুটবল খেলায়ও বিশ্বের মাঝে সুনাম বয়ে আনতে চেষ্টা চালাতে হবে। শুধু কথায় নয় কাজে প্রমাণ রেখে ফুটবলের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনা সময়ে অনিবার্য দাবি।

ক্রিকেটের পাশাপাশি সর্বসাধারণের প্রিয় খেলা, বিশ্বের জনপ্রিয় খেলা ফুটবলকেও বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুধু বাফুফে নয়, ফুটবলকে উজ্জীবিত রাখতে আমাদের স্কুল-কলেজে সেই আগের মতো আয়োজন অব্যহত রাখা দরকার। ফুটবলের সোনালী দিন ফিরিয়ে আনতে আমাদের শুধু বিশ্বকাপ উন্মাদনাই নয়, বছর জুড়ে এই খেলার প্রতি টান, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা নিয়ে চেষ্টা চালাতে হবে। আমরা চাই বিশ্বকাপে ভিনদেশি দল আর খেলোয়াড় নয় আমাদের বাংলাদেশ ও আমাদের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা মাতামাতি করবো। আমার দেশে শুধুই পতাকা উড়বে লাল সবুজের, অন্য দেশের না। জয় হোক ফুটবলের, জয় হোক বাংলাদেশের।

সফিউল্লাহ আনসারী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৬
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৫২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.