নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ জুন ২০১৭, ১ আষাঢ় ১৪২৪, ১৯ রমজান ১৪৩৮
প্রবল বৃষ্টিপাতে রাজধানীবাসীর অশেষ দুর্ভোগ বহু এলাকা তলিয়ে গেছে
হাজার কোটি টাকা খরচেও পরিণতির পরিবর্তন নেই ভরাট অধিকাংশ খাল ও ড্রেন বর্ষায় ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার
সামান্য অথবা তুমুল বৃষ্টি যাই হোক না কেন রাজধানী ঢাকার অধিকাংশ নিচু এলাকা, অলি-গলি এমনকি রাজপথ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাবে এটাই যেন এখনকার সময়ের সাধারণ একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। এমন পরিণতি থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশন বিগত ৫ বছরেই পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম চালাতে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে তবে তারপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি একটুও। গত সোমবারের টানা বৃষ্টি ও গতকালকের বৃষ্টি এর বড় উদাহরণ। মাঝারি ধরনের এ বৃষ্টিতেই ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোড, আলাউদ্দিন রোড, রাজারবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক এলাকার সড়ক ও অলিগলি পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। একই অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে, ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার, মিরপুর, কালশী, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, হাজারীবাগ, ধানম-ি, মধুবাগ এলাকাতেও। সাধারণ মানুষের ভাষ্য- বর্ষার মৌসুম আসন্ন হলেও এখনও ঢাকা শহরের ব্যস্ততম এলাকায় উন্নয়ন কাজের খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। ভরা বর্ষায় এই অবস্থা বিরাজমান থাকলে জলাবদ্ধতা কি ভয়াবহ রূপ নেবে তা নিয়ে এখন থেকেই শঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার সারাদিন মেঘের ঘনঘটা না থাকলেও বিকেল ৪টার পর থেকে আকাশে বিন্দু বিন্দু মেঘ জমতে শুরু করে। ৫টার পর কালো মেঘে ঢেকে যায় পুরো আকাশ এবং আবারো জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দেয় ঘর থেকে বের হওয়া রাজধানীবাসীর মনে। তাদের সেই ভয়কে পরিপূর্ণতা দিতেই বিকেল সাড়ে ৫টার পর তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বৃষ্টি থামলে সরেজমিন ঘুরে রাজধানীর মতিঝিল, দৈনিক বাংলা মোড়, ফকিরাপুল, পল্টনসহ আশাপাশের সমস্ত এলাকায় হাঁটু পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এসময় সড়কে চলাচলকারী মানুষ পড়েন বিপাকে।

ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় ঢাকা ওয়াসা ড্রেনেজ বিভাগের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা খচর করে সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করেছে। এর বাইরেও উলি্লখিত সময়ে ড্রেনেজ উন্নয়নের ব্যাপক কার্যক্রম চলেছে। তারপরও রাজধানীর ২৬টি খাল, ৩ হাজার কিলোমিটার ড্রেন ও জলাশয়গুলো ভরাট থাকছে আবর্জনায়। বেদখল হচ্ছে, আর বৃষ্টি হলেই সড়কে-গলিতে জমছে হাঁটু থেকে কোমর পানি। এবারের বর্ষায় রাজধানীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমিয়ে আনার আশ্বাস দিয়ে ঢাকার ২ মেয়র ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তৃতা রেখেছেন। খাল দখলমুক্ত অভিযানও চালাতে দেখা গেছে। কিন্তু কার্যত টেকসই নিরসন হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মূল কারণ দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব।

জানা গেছে, রাজধানীর পানি নিষ্কাশন পথগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিবছর কযেকশ কোটি টাকা খরচ করে এসব আবর্জনা পরিষ্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও উন্নয়ন করলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলছে না ঢাকাবাসীর। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতা, অপরিকল্পিত, অদূরদর্শী কার্যক্রম এবং নগরবাসীর অসচেতনতার কারণে এত খরচের সুফল মিলছে না। জনসচেতনতার ঘাটতি বড় সমস্যা হলেও এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকার ২ সিটি কর্পোরেশনের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নেই। সরেজমিন দেখা গেছে, কুড়িল থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কের ২ পাশে পানি নিষ্কাশন ড্রেন রয়েছে। প্রতিবছর এই ড্রেন পরিষ্কার করা হয়। তারপরও বর্ষার মৌসুমে এই ড্রেন দিয়ে যথাযথ নিয়মে পানি নিষ্কাশন হয় না। কারণ ড্রেনের ২ পাশের বসবাসকারী, দোকানদার, পথচারী সরাসরি এই ড্রেনে ফেলছে গৃহস্থালি বর্জ্য, নির্মাণ বর্জ্য, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন আবর্জনা। নগর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক এ বিষয়ে বলেন, বিদ্যমান অবস্থায় টেকসই ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি খালগুলো দখল ও ভরাটমুক্ত রাখতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তবেই জনগণের খরচ করা অর্থ কাজে লাগবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৯
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০১০০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.