নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জুন ২০১৮, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ রমজান ১৪৩৯
আল বিদা মাহে রমজান
স্টাফ রিপোর্টার
আজ পবিত্র মাহে রমজানের ২৮ তম দিবস। রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। তাছাড়া রমজান হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম ও শ্রম সাধনার প্রশিক্ষণের মাস। পরবর্তী এগার মাসে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ মানার জন্য এই মাসে বার্ষিক প্রশিক্ষণের ৩০ দিনব্যাপী দীর্ঘ কোর্স সমাপ্ত করতে হয়। এটা হচ্ছে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কোর্স। যে কোনো কাজের জন্য পরিশ্রম প্রয়োজন। যে যত বেশি পরিশ্রম করবে তার সাফল্যও ততবেশী হবে। গোটা বছরের ইবাদত তথা নামাজ, রোজা, হজ, যাকাতসহ অন্যান্য ইসলামী দায়িত্ব পালনেও কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন। রোজা মানুষকে এই কঠোর শ্রমের ট্রেনিং দেয়। দুনিয়ায় মানুষের চেষ্টা-তদবিরকে দুইভাবে ভাগ করা যায়। প্রথম ভোগ-বিলাসের জন্য কামাই-রোজগারের চেষ্টা। দ্বিতীয়ত, পারলৌকিক শান্তি ও মুক্তির জন্য আল্লাহর ইবাদতের চেষ্টা-প্রচেষ্টা।

মানুষ সাধারণত প্রথমোক্ত কাজেই নিজের বেশিরভাগ সময়, মেধা ও যোগ্যতাকে ব্যবহার করে। উদ্দেশ্য হলো, গাড়ি-বাড়ি ও শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সম্পদের প্রাচুর্য অর্জন করা। আর এ সকল কিছুর মূলে হচ্ছে, ভালোভাবে পানাহার করা, সুস্বাদু ও ভালো খাবার গ্রহণ করা এবং নিজের রসনা পূর্ণ করা ও ক্ষুনি্নবৃত্তি নিবারণ করা। কিন্তু রোজা মানুষের এই সর্বাধিক প্রিয় চাহিদার লাগাম টেনে ধরে পুরো দিন সুস্বাদু খাবার থেকে বিরত থাকতে বলে। যেই খাবারের জন্য গোটা দুনিয়ায় মানুষ হন্যে হয়ে ঘুরছে এবং লড়াই-ঝগড়া মারামারিতে লিপ্ত রয়েছে, সেই মানুষকে খাবার থেকে পুরো দিন বিরত রাখা যে কি কষ্ট তা আমরা অন্য মাসে তুলনা করে বুঝতে পারবো। অন্য মাসে সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরের খাবার যদি নির্ধারিত সময়ের চাইতে ১/২ ঘণ্টা দেরি হয় তখন আমরা খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং আর কাজ করা যাবে না বলে মত প্রকাশ করি। তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকেও আমরা খাওয়ার কথা বলে বিরতি নিতে পারি। একবেলা খাওয়া বন্ধের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া কি হবে তা দেরিতে খাবারের ক্লান্তি ও দুর্বলতার মানসিকতা থেকেই সহজে অনুমান করা যায়। অথচ রমজানে একাধারে দুই বেলা খাওয়া বন্ধ রাখা হয়। এতে অবশ্যই কষ্ট আছে। কিন্তু সেই কষ্ট ২ দিন, ৪ দিন কিংবা ১ সপ্তাহ পর্যন্ত হলেও মনকে সান্ত্বনা দেয়া যেত। কিন্তু দীর্ঘ ১টি মাস এভাবে পরিশ্রম করতে হয়।

পানির পিপাসার কষ্ট তো খাবারের চাইতেও মারাত্মক। কোনো পরিশ্রম বা কাজ করে আসার পর খানা একটু দেরিতে হলেও চলে। কিন্তু পিপাসায় বুকের ছাতি ফেটে যায়। রোদ থেকে আসলে তো আরো ভয়াবহ অবস্থা! কিন্তু রোজার মধ্যে তো দিনে খাদ্য ও পানীয় নিষিদ্ধ। দীর্ঘ ৩০ দিন যাবত একটানা এত কঠোর পরিশ্রম। এ ছাড়াও রয়েছে মানুষের পরবর্তী প্রিয় ও প্রয়োজনীয় বিষয় যৌন বাসনা পূরণ করা। কিন্তু রোজার মধ্যে দিনে তা নিষিদ্ধ। নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধার প্রাচীর তুলে নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার অভ্যাস সৃষ্টি করা হয় দীর্ঘ এক মাসব্যাপী এই রমজানে।

সন্ধ্যায় সূর্য ডুবার সাথে সাথে ইফতার। কিন্তু শরীরের অবস্থা হচ্ছে খুবই দুর্বল ও অবসাদগ্রস্ত। তখন যদি ইফতারের পর শুয়ে আরাম করা যেত, কতই না ভালো হতো! কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই একামতে বলা হচ্ছে, 'কাদ কামাতিস সালাহ' অর্থাৎ নামায শুরু হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্তির দাবি ছিল, মাগরিব না পড়া ও রমজানে তা মাফ করে দেয়া। কিন্তু তাতো হয়নি। মাগরিব থেকে আসার পর শরীরের দাবি হচ্ছে, পূর্ণ বিশ্রাম ঘুম। কিন্তু এশা পড়াই দায়, সেখানে আবার বয়েছে তাবারির মতো অতিরিক্ত নামাজের ব্যবস্থা। বলতে গেলে পরিশ্রমের উপর পরিশ্রম এবং কষ্টের উপর কষ্ট।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৭
ফজর৪:১৫
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫০
সূর্যোদয় - ৫:৩৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৩৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.