নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপকর্ম
মিরপুরে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর মিরপুরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের একটি অর্পিত সম্পত্তি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অর্পিত সম্পত্তি জালিয়াতির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)-এর কর্মকর্তারা। ঐ সম্পত্তি নিয়ে একাধিক দাবিদারের জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এমনকি একজন জালিয়াতকারীর নামে দেয়া হস্তান্তর, নামজারি ও পুনঃনির্মাণ অনুমতিপত্র বাতিল করে উচ্ছেদ নোটিশ জারির কয়েকদিনের ব্যবধানে সে সিদ্ধান্ত পাল্টে যায়। এ সংক্রান্ত নথির পাতায় পাতায় অপকর্মের প্রমাণ থাকলেও জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

জানা গেছে, মিরপুর ১০ নং সেকশনের 'বি' বস্নকের ১নং সড়কের ৯নং প্লটটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে 'ক' তালিকাভুক্ত। ১৯৬৮ সালে পাঁচ কাঠার এ প্লটটি পাকিস্তানের নাগরিক নাজির আক্তারের নামে বরাদ্দ হয়। ১৯৭৭ সালে নাজির আক্তার এবং ১৯৮০ সালে তার স্বামী ক্যাপ্টেন ই. এ. ভূইয়া মারা যান। এ দম্পতির একমাত্র পুত্র আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া তাদের জীবদ্দশাতেই নিরুদ্দেশ হন। এ অবস্থায় সকল বিধিবিধান অনুসরণ করে বেওয়ারিশ এ সম্পত্তি সরকার নিজ মালিকানায় নেয়। ১৯৮৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এস.আর.ও ৩৬৪-এল/৮৬ এর মাধ্যমে ঐ সম্পত্তি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। এরপরই একাধিক জালিয়াত চক্র ঐ সম্পত্তি দখলে তৎপর হয়ে ওঠে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে কেউ কেউ নথি খুলে সংগ্রহ করেন। কেউ আবার আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মালিকানা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চালায়।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, মালিকানা দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন সফীউদ্দিন ভূইয়া (পরবর্তীতে তার ওয়ারিশ হিসেবে রহিমা গং), মো. ইসমাইল পিতা মো. শামসুল হক, দবির উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, মামনুর রহমান, ফজলুল হক এবং সর্বশেষ জনৈক মিজানুর রহমান। অর্থাৎ মূল বরাদ্দ গ্রহীতার ওয়ারিশ দাবিদার আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়া সেজে অথবা সাজিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভন্ন সময় ঐ সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করেন।

বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, এটি যে পরিত্যক্ত সম্পত্তি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্টরা সেটিও এক সময় চেপে যাবার চেষ্টা করেছেন। এমনকি ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এ.কে.এ. সামছুদ্দোহা পাটোয়ারী নামের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ঐ সম্পত্তি 'পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত নয়' বলে প্রতিবেদন দেয়। এ সুযোগেই মালিকানা দাবিদার প্রত্যেকে স্ব-স্ব পক্ষে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো না কোনো চিঠি বাগিয়ে নিয়েছেন। যেমন আহমেদ নেওয়াজ ভূইয়াকে সম্পত্তির ওয়ারিশান সাজিয়ে সফীউদ্দিন ভূইয়ার অনুকূলে আমমোক্তার সম্পাদন, লিজ দলিল ও নামজারি হয়েছে। পরে ঐ লিজ দলিলমূলেই একটি ডেভেলপার কোম্পানি সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের চুক্তি করে। এমনকি ডেভেলপার কোম্পানি হাইপেরিয়ানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান লায়ন সামশুল আলমের নামে পাওয়ার অব এটর্নীও সম্পন্ন হয়। তবে সব জালিয়াতকারীদের পিছু হটিয়ে দ্রুত লাইম লাইটে এসে সব কিছু দখলে নেন জনৈক মিজানুর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক থাকার কারণেই অসাধ্যকে সাধন করতে পেরেছেন মিজানুর রহমান। রাশিদুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের সদস্য (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই এ অপতৎপরতা শুরু হয়। ঐ সময় তিনি তৎকালীন উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন মাহমুদকে দিয়ে একটি ফরমায়েশী প্রতিবেদন তৈরি করে পরিত্যক্ত সম্পত্তিটি মিজানুর রহমানের অনুকূলে ছেড়ে দেয়ার উদ্যোগ নেন। দুই কোটি টাকা দফারফায় জালিয়াতির নথি দ্রুত গতি পায় বলে তখন গুঞ্জন ওঠে। তবে রাশিদুল ইসলাম চেয়ারম্যান হবার পর সেই উদ্যোগে উল্টো টান পড়ে। কেননা, পরবর্তী সদস্য (ভূমি) মো. মকবুল হোসেন ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর এক আদেশে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মিরপুর ১০ নং সেকশনের 'বি' বস্নকের ১নং সড়কের ৯নং প্লটটি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটে প্রকাশিত হওয়ায় এ সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় ব্যবস্থাপনার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি পূর্বের সব আদেশ বাতিল করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সৃষ্ট নথির কার্যক্রম বন্ধ করে ঐ সম্পত্তি সরকারি ব্যবস্থায় নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে চিঠি পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা উপ-পরিচালক মো. তাজিম-উর রহমান উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর, নামজারি ও পুনঃনির্মাণ অনুমতিপত্র বাতিল এবং উচ্ছেদ প্রস্তাব প্রেরণের জন্য পৃথক দু'টি চিঠি দেন। অথচ একই কর্মকর্তা মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে অর্থাৎ গত ৩ জানুয়ারি অপর পৃথক চিঠিতে আগের দুই চিঠি বাতিল করেন। পরস্পরবিরোধী এসব চিঠি সুষ্ঠু যাচাই করলে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির ভয়াবহ এবং উদ্বেগজনক চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। সূত্র মতে, দুই কোটি টাকার বাণিজ্য মিশন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার কারণেই সদস্য (ভূমি) মকবুল হোসেনের ওপর ক্ষিপ্ত হন চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলাম। জনশ্রুতি রয়েছে, রাশিদুল ইসলাম প্রথমে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে দিয়ে মকবুল হোসেনকে ম্যানেজের চেষ্টা করেন। কিন্তু তদ্বির ও চাপে কাজ না হওয়ায় রাশিদুল ইসলাম সরাসরি ক্ষমতা অপব্যবহারের নিকৃষ্ট নজির গড়েন। গত ১ জানুয়ারি তিনি সশ্লিষ্ট নথি তলব করে মকবুল হোসেনের নির্দেশনা অনুযায়ী দেয়া আদেশ বাতিলের ব্যবস্থা করেন।

সূত্র মতে, রাশিদুল ইসলামের এ কর্মকা- শুধু ক্ষমতা অপব্যবহার নয়, পুরোপুরি অবৈধ। কেননা, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিধান অনুযায়ী সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আদেশদানের এখতিয়া কেবলমাত্র সদস্য (ভূমি)'র। তাছাড়া কোনো সদস্যের সিদ্ধান্ত বাতিলের ক্ষমতা চেয়ারম্যানের নেই। এটি একমাত্র উপযুক্ত আদালতের এখতিয়ারাধীন। অথচ ব্যক্তিস্বার্থে রাশিদুল ইসলাম সেই বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করেননি। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়ে পুরো বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ১৯
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫১২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.