নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানাধীন জাহানপুর ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মিজান'র অত্যাচারে আর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ এলাকার সাধারণ মানুষ। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক নৈরাজ্য নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বীরদর্পে। শুধু তাই নয়, স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীদের ও সুন্দরী নারীদের পথে ঘাটে ইভটিজিং করে আসছে এ নেতা। অথচ দাম্পত্য জীবনে তিনি ৫টি বিয়ে করলেও স্ত্রী রয়েছে দুই জন। মৎস্য ঘাটের বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন পণ্য কেনার নামে বিভিন্ন পণ্য ছিনিয়ে নেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে কোন ব্যবসায়ী টাকা চাইলে উল্টো মারধর করে চলে যান । কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন মিথ্যা মামলার হুমকী দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই সে দুষ্ট প্রকৃতির লোক ছিলো। গত ২ বছর পূর্বে স্থানীয় রাজনীতিতে যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পান এ নেতা। উপজেলা নেতাকর্মীদের আশীর্বাদ নিয়ে পুরো গ্রাম চষে বেড়ান। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি জেলেদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন।

শুরু করে মৎস্য আহরণ। ইতোমধ্যে তিনি নিজস্ব ফিশিং বোট তৈরি করে নদীতে মৎস্য শিকারে নেমে পড়েন। সুযোগ পেলে সে সেখানেও থেমে থাকেনি তার অপকর্মে। অনেক জেলেরা অভিযোগ করেন, রাজনীতির দাম্ভিকতার সুযোগে জলদস্যুতায় হাত রাখেন এ নেতা। সর্বশান্ত করেছেন অনেক জেলেদের। রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। আইনের ফাক ফোকরে রাজনৈতিক নেতার কারণে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না। মৎস্য ব্যবসার সুবাদে স্থানীয় আটকপাট সুলিজ ঘাটে তার একক আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে। সেকেন্ড কমান্ড সহযোগী হিসেবে কাজ করেন কালু নামের এক নেতা। বিভিন্ন দোকানিরা জানান, দোকানের বিভিন্ন পণ্য কিনে ব্যাগ ভর্তি করে নির্বিগ্নে চলে যায়। পণ্যের দাম চাইলে ক্ষমতা দেখিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করেন। তার দুর্ব্যবহার ও অত্যাচারে অতিষ্ট বলে অভিযোগ করেন আটকপাট সুলিজ ঘাটের বেশকিছু মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি আটকপাট মৎস্য ঘাটের কাঠ ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন জানান, গত ৩০ মে বেলা ১১টায় যুবলীগ নেতা মিজান কাঠ কিনতে তার দোকানে যান। কাঠ বাকীতে কিনতে চাইলে দোকানী বাকি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে মিজান ক্ষিপ্ত হয়ে তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের সাথে নিয়ে ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন ও তার ছেলেকে বেদম মারপিট করেন। তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে তাদেরকেও হুমকি দিলে তারা সরে যান। সংবাদ শুনে ওয়ার্ড কৃষকলীগ সভাপতি নুরে আলম ছুটে আসলে যুবলীগ নেতা ও তার ৬ ভাই মিলে তাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলে যে বিষয়টি কোন আইনী ব্যবস্থা নিলে জানে মেরে ফেলবে এবং দোকানঘর উড়িয়ে দিবে। শাহাবুদ্দিন ও স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী জানান, কাঠ ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন, মিজানের কাছে ইতোপূর্বেই প্রায় ৯০ হাজার টাকা পাওনা। এরপরও বাকিতে কাঠ না দেয়ায় তাদেরকে মারধর করে। স্থানীয় রুহুল আমিন, ইব্রাহীম, নুরুজ্জামান ও আবাসনে থাকা এক মহিলা সহ কয়েকজন নারী-পুরুষ জানান, যুবলীগ নেতার অত্যাচারে এলাকার বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যায় অনেকে। এত অন্যায় এত অত্যাচারে অতিষ্ট হয়েও তার ও তার ছয় ভাইদের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পারছে না কেউ। আবাসন প্রকল্প এলাকার গরিব অসহায় সুন্দরী নারীদেরকে দেখলেই বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয়। কেউ এর প্রতিবাদ করতে চাইলে ধর্ষন, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলার জড়াবে বলে হুমকি দেয়। ইতোপূর্বে ইব্রাহীম নামে এক মোটরসাইকেল চালককে ভাড়ার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বেদম মারধর করে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, শশীভূষণ থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়। ঐ মামলায়ও এই মিজান ও তার সহযোগি মন্নানের সম্পৃক্ততা আছে।

এসবকিছুর প্রতিবাদ জানিয়ে শাহাবুদ্দিন বেপারী শশীভূষণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বিষয়টি আমলে না নিয়ে চরফ্যাশন আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ। এসব ঘটনার সত্যতা জানতে যুবলীগ নেতা মিজানকে ফোন করলে তিনি সংবাদটি না করার অনুরোধ করেন। এ ঘটনায় অফিসার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসলে আমি আদালতে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৫
ফজর৪:৫৪
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১২সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৭৮০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.