নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
নারী নির্যাতন ঃ সব দোষ নারীর, সব দোষ পুরুষের?
আবু বকর সিদ্দিক শোয়েব
আমাদের দেশে অন্যায় আর অবিচার চলছেই। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, হত্যা, পারিবারিক কলহসহ নানা অপরাধ সমাজে বিদ্যমান। বহুকেন্দ্রিক এত সব অপরাধের অবশ্যই বহু কারণ আছে। অপরাধের শাস্তি না পাওয়া, আইনি জটিলতা, মানসিকতা, নৈতিক অধঃপতনসহ নানান কারণ। কিন্তু অতীতকাল থেকেই বেশির ভাগ সময়ে সমাজের একটা অংশ অপরাধীর পরিবর্তে অপরাধী নারী না পুরুষসহ নানা ভিত্তিহীন যুক্তি উপস্থাপন করে। কিছু নারীবাদীরা সব দোষ পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও পুরুষকে দায়ী করছে আবার নারীসহ সমাজের আর একটা অংশ শুধু নারীকে দায়ী করছে। ধর্ষণ যেহেতু সবচেয়ে বড় অপরাধ তাই ধর্ষণ দিয়েই শুরু করছি।

বর্তমান বাংলাদেশে ৩ বছরের শিশু থেকে শুরু করে শত বছরের বৃদ্ধাও ধর্ষণের হাত থেকে রেহাই পায় না। সেক্ষেত্রে অনেকের দাবি ধর্ষণ হচ্ছে শুধুমাত্র নারীর পর্দা না করার কারণে। কিন্তু পর্দা একমাত্র নারীদের জন্য? কোরআনে নারীপুরুষ উভয়ের পর্দা ফরজ করা হয়েছে। তাহলে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হলে শুধুমাত্র নারী পর্দা না করার কারণেই ধর্ষণের শিকার হয়েছে এমনটা বলা হবে? পুরুষ কি যেখানে সুযোগ পাবে সেখানেই ধর্ষণ করবে! সমস্যাটা এখানেই একপাক্ষিক চিন্তা ও দায়িত্ববোধ থাকার কারণেই পর্দা থেকে যতটুকু সফলতা পাওয়ার কথা তাও পাওয়া যাচ্ছে না। নুসরাত হত্যার আসামিরা যখন আদালতে গর্জন করে, আসামির জন্য যখন ফেনীর সোনাগাজির ইফতার মাহফিলে দোয়া করা হয় তখন খুব কষ্ট হয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কি জানতো না যে পর্দা নারী পুরুষ সবার জন্য ফরজ? একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয় কেন? তার উপর পর্দা করা তো ফরজ না তবুও তো সে আমাদের পুরুষদের কামনা চরিতার্থ পুরণ থেকে রেহাই পায় না। আবার নুসরাতসহ যে সমস্ত নারীরা হিজাব পালন করেন তারা কি ধর্ষকের হাত থেকে মুক্ত? নুসরাতের কথা তো হালের টপিক, তনুর কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? তনু তো বোরকা পরেই চলাচল করত তবু্ও তাকেও কেন ক্যান্টনমেন্টের মতো জায়গায় ধর্ষকের থাবায় পড়তে হল। আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় মন্তব্য করেছে যে তনু যে বোরকা পরত সেটা ক্রটিপূর্ণ হিজাব। তাহলে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদ্রাসা নামের হাফেজি ও কওমী মাদ্রাসার সানজিদা রশিদ মিম নামের ১৪ বছরের কিশোরীকে মাদ্রাসারই হুজুর নামের লম্পট ধর্ষকদের শিকারে পরিণত হতে হল, আমার জানা মতে মহিলা কওমী ও হাফেজী মাদ্রাসাগুলোর ৫-৬ বছর বয়সী ছাত্রীদের কালো হাত পা মুজাসহ বোরকা পড়তে হয়। এই ধর্ষণ ও হত্যায় যারা জড়িত সবাই নামধারী একেকজন মাওলানা মুফতি এবং পীরের অনুসারী। নারীর কথা বাদ দেই পুরুষের সাথে পুরুষের পর্দা তো ইসলামে নাই তবুও মাদ্রাসাগুলোতে শিশুরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে! মা বাবা অনেক স্বপ্ন আর আশা নিয়ে সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠায় কোরআনে হাফেজ ও আলেম বানানোর জন্য কিন্তু কিছু নরপিশাচরা ধর্মের লেবাস ধরে ধর্ষক হয়ে মাদ্রাসাগুলোতে বসে আছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, চলন্ত বাস, ট্রেন, অফিস এই সব জায়গার অবস্থা আরো ভয়াবহ। এতবড় সমস্যা শুধু নারী বা পুরুষের বলে দিলে অপরাধ তো কমবেই না বরং সুযোগ পেয়ে যাবে।

এবার নারীর প্রতি পারিবারিক কলহ ও অন্যান্য নির্যাতন নিয়ে কিছু কথা। আমাদের নারীরা পারিবারিক কলহে নির্যাতনের শিকার হয় যেটা আমাদের বাজে ঐতিহ্য। কিন্তু এখানে এই অপরাধের দায়ভারও শুধুমাত্র পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও পুরুষের দিলে নির্যাতন ও সমস্যা সমাধান হবে না। পারিবারিক পরিম-লে নারীরা বাল্যবিবাহ, যৌতুক, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করাসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়। এ নির্যাতনেরও বহু কারণ আছে। এ ক্ষেত্রে সবার আগে আসে বাল্যবিবাহ। যে পরিবারের মেয়েটির বাল্যবিবাহ হচ্ছে সে পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি তার মা, বোন, ফুফু, খালা, চাচি, মামি দাদিসহ অসংখ্য নারী আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বাধা দেয়ার পরিবর্তে তারাই এই বিয়ের মূল উদ্যোক্তা ও অনুপ্রেরণা । তারা তখন যুক্তি দেয় যে তাদের, মা কিংবা দাদিদেরও তো অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে তাদের তো কোন সমস্যা হয়নি।

তেমন যৌতুকের ক্ষেত্রেও স্বামী এবং শ্বশুরের আগ্রহ তো থাকেই পাশাপাশি শাশুড়ি ননদের যৌতুকের টাকা না পেলেভাবে তাদের বাড়ির ছেলের জন্মই বৃথা। এখন আবার সিলেটসহ কিছু অঞ্চলে মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠানোর নামে যৌতুকের নতুন কিছু চালু হয়েছে, এই ইফাতারি নাকি এখন অনেক পরিবার বিক্রিও করে। এছাড়াও একটা মেয়ে যখন নতুন বউ হয়ে আসে সেখানে তখন তার হাতের মেহেদী শুকানোর আগে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। দায়িত্ব ভাল বিষয় কিন্তু দায়িত্বের নাম করে পুরো পরিবারের সব কাজ একজনের মাথার উপর চাপিয়ে দিয়ে অন্য সবাই বসে বসে ভুল ধরে খোটা দেয়াতেই সমস্যাটা দেখা দেয়। যেখানে মেয়েটি আসার আগে সব কাজ শাশুড়ি, ননদসহ সবাই করত সেখানে এখন রান্না, কাপড় ধোয়া, দূর থেকে কলসি ভরে পানি আনার পাশাপাশি পুরো প্যাকেজের বুয়া হতে হয়। তারা শাশুড়িকে মায়ের চোখে আর ননদকে বোনের চোখে দেখতে বলে অথচ শাশুড়ি তার মেয়ের সমান আর ননদ তার অন্য বোনের সমান চোখে তাকে দেখে না। যার কারণে এই বউ চরিত্রের প্রতি স্বামী, শ্বশুর, দেবর, শাশুড়ি, ননদসহ সবার সর্বমুখী নির্যাতন চলতে থাকে। শুধু পুরুষের দোষ দিলে সমাজের সমস্যা কমবে না বরং বাড়বে। এইরকম নির্যাতনের শিকার নারী ক্ষমতা পেলে শ্বশুর শাশুড়িকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে শোধ নেয়। বৃদ্ধাশ্রমে বৃদ্ধদের পাঠানোর দায় একমাত্র পুত্র বধূ বা পুত্রের নয় এর পিছনে অন্যান্য অনুষঙ্গও কাজ করে। সব অপরাধগুলো অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে আমাদের দেশের নারী ও পুরুষের চরিত্র বা পরিচয় সম্পর্কগুলোই অপরাধের সাথে সংযুক্ত। তাই অপরাধী বের করতে হলে ও এর সমাধান করতে হলে অপরাধে নারী বা পুরুষ না খুঁজে প্রত্যেকটা চরিত্র খুঁজে সমাধান বের করতে হবে। এভাবে চিহ্নিত করতে পারলেই আমাদের নারীরা এবং তাদের কেন্দ্রীক সবাই ভাল থাকবে।

আবু বকর সিদ্দিক শোয়েব : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ১৯
ফজর৩:৪৪
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫১৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.