নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০১৯, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৯ শাওয়াল ১৪৪০
চিকিৎসা খাতের সুচিকিৎসা প্রয়োজন
আল-মাহমুদ
মানুষের মৌলিক অধিকারসমূহের মধ্যে চিকিৎসা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিকার। সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা প্রাপ্তি মানুষের শুধুমাত্র মৌলিক অধিকার নয়, তার থেকেও বড় কোনো অধিকার। কেননা এই চিকিৎসাব্যবস্থার উপর মানুষের জীবন-মৃত্যু নির্ভর করে। যদি রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো নাগরিক উন্নত ও সুচিকিৎসা পায়, সে নাগরিক অবশ্য রাষ্ট্রের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে। যেটা তাকে দেশপ্রেম ও দেশের প্রতি মমত্ববোধেও উদ্বুদ্ধ করে। বর্তমান সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করছে এবং সাথে সাথে এ খাতে সার্বিক উন্নয়নেও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। যার উপযুক্ত উদাহরণ হতে পারে 'কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প'! এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার নতুন সূর্য উদিত হয়েছে।

কিন্তু বর্তমানে সরকারের এমন নজরদারির পরেও চিকিৎসা ক্ষেত্রে যথেষ্ট দুর্নীতি, চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। যার ফলে দেশের চিকিৎসা খাতকে অসুস্থ বলাই চলে। সমপ্রতি সময়ে চিকিৎসক কর্তৃক রোগীকে লাঞ্ছিত হতেও দেখা যায়। যেটা একান্তই কাম্য নয়, চিকিৎসা ক্ষেত্রে চলমান দুর্নীতির স্বরূপ অন্বেষণ করে, তার যথাযথ চিকিৎসা তথা সমাধান করা একান্তই জরুরি।

দেশের প্রতিটা উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ ে থাকলেও, নেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা। কয়েক লাখ মানুষের সেবার জন্য এমন ছোট্ট একটা হাসপাতাল বড়ই নগণ্য, জেলা শহরে হাসপাতাল থাকলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা। এমনকি সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা পাওয়া নিয়েও থেকে যায় শঙ্কা। হাসপাতালগুলোর মৌলিক সমস্যার যেন অন্ত নেই। অবকাঠামোগত সমস্যা সব থেকে বড় বলে বিবেচিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায়, যে কক্ষে সর্বোচ্চ ৫ জন রোগী রাখা সম্ভব, সেখানে দশ অথবা ১২ জন রোগীও রাখা হয়। তাও আবার কক্ষ পাওয়া অনেক সময় ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। পর্যাপ্ত বেডের অভাবে কোনো কোনো সময় রোগীদের মেঝেতে এমনকি বারান্দায়ও থাকতে হয়। যে দৃশ্য দেশের প্রায় সকল সরকারি হাসপাতালে অতি সহজে চোখে পড়ে।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অভাবও রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে। দুর্গন্ধ পরিবেশ যেন হাসপাতালের মানকে ক্ষুণ্ন করছে নিয়মিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখে এমন পরিবেশ যেন বড় কোনো সমস্যা বলে মনেই হচ্ছে না! দেশের সরকারি হাসপাতালসমূহের প্রতি জনমানুষের অনীহা ও আস্থাহীনতা পরিলক্ষিত হয়। যেটা স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে। তবে অনীহা ও আস্থাহীনতার বিশেষ কারণও রয়েছে। পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব, সকল ধরনের পরীক্ষা -নিরীক্ষা একই স্থানে না পাওয়া অথবা মানসম্মত পরিবেশের অভাবই যেন মূল দায়ী। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসাসেবা এখনও স্বপ্নের মতো অস্পষ্ট হয়ে আছে। সাথে সাথে ওষুধের অভাবও পরিলক্ষিত হয়। যথা সময়ে ওষুধ না পাওয়ায় জনমানুষ সরকারি হাসপাতালের প্রতি ক্ষোভও প্রদর্শনও করে। ওষুধ সরবরাহের সমীকরণে দুর্নীতি চোখে পড়ার মতো। সমপ্রতি সময়ে লালমনিরহাটসহ কয়েকটি উপজেলা ও জেলার হাসপাতাল হতে কোটি টাকার ওষুধ গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে করে নজরদারির অভাব যেন আলোর মতো পরিষ্কার।

রোগীর নিকট চিকিৎসকের স্থান হয়তো খোদার পরেই। তবে সমপ্রতি সময়ে ডাক্তারদের বিরূপ আচরণও দেখা যায়। দৈনিক ইত্তেফাকের একটি কলামে লক্ষ্য করলাম যে, চিকিৎসকের বিরূপ আচরণের কারণে অধিকাংশ রোগী বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে চিকিৎসাসেবার জন্য। শুধুমাত্র ডাক্তারগণ নন সাথে সাথে নার্স বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও যথেষ্ট খারাপ আচরণ করে রোগীর সাথে। যেটা সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রে চলমান প্রক্রিয়া। এবং এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। চিকিৎসা ক্ষেত্রের বড় অন্তরায় চিকিৎসকের নিজ স্বার্থের প্রতি বিশেষ মনোযোগ। প্রায় প্রতিটি চিকিৎসকের ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিজস্ব প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার ফলে সরকারি হাসপাতালের দায়িত্বের প্রতি অবহেলা ও উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। এমনকি ভালো চিকিৎসা প্রাপ্তির জন্য রোগীকে ব্যক্তিগত হাসপাতালে আহ্বানও করে থাকেন তারা। যেটা সরকারি আইনের পরিপন্থী। ফলে তাদের সেবা প্রদানের মানসিকতা মানবকেন্দ্রিক না হয়ে অর্থকেন্দ্রিকে রূপান্তরিত হচ্ছে। এতে করে তাদের মধ্য হতে দেশপ্রেম ও মানবিক গুণাবলি বিদায় নিচ্ছে। ডাক্তার ও নার্সদের অদক্ষতাও অনেক সময় বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক সময় রোগীর ভোগান্তি বাড়ার সাথে সাথে মৃত্যু হওয়ার ঘটনা কারোর অজানা নেই। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাব,আধুনিক চিকিৎসা সম্পর্কে অজ্ঞতা-এর মূল কারণ।

গরিবদের প্রতি সহানুভূতি যেন চিকিৎসার বেলায় খাটে না। টাকা যেন চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির মূল হাতিয়ার। গরিবের প্রতি দয়া চিকিৎসা ক্ষেত্রে একেবারেই অনুপস্থিত। সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার শঙ্কা, ওষুধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় জনসাধারণ ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে দৌড়ায়। কিন্তু সেখানে আকাশ ছোঁয়া অর্থের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অনেক অসহায় পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অর্থের অভাবে অনেক সময় সুচিকিৎসা পাওয়া হয়ে ওঠে না। অতি সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে অসহ্য ফি, আবার কখনও অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষাও দিতে ইতস্ততবোধ করেন না ডাক্তারগণ নিজেদের লাভের জন্য। এ সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাহাড়সম ফি জনমনে ভীতির সৃষ্টি করে। তাই চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয় যেন ভয়ের কারণ। ফলে সরকারের চিকিৎসা ক্ষেত্রে কেন জানি অনীহা পরিলক্ষিত হয়। কর্তৃপক্ষের অবহেলা চিকিৎসা ক্ষেত্রকে আরো নিমজ্জিত করছে প্রতিনিয়ত। যা রীতিমতো চিন্তার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমন অবস্থা যেন সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপকে টেনে ধরছে সমূলে। এহেন অবস্থায় দেশের চিকিৎসা খাতে বিশেষভাবে নজর দেয়া প্রয়োজন। চিকিৎসা খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মনোভাবের পরিবর্তন, সরকারি নজরদারির পাশাপাশি মানবসেবায় চিকিৎসকদের এগিয়ে আসতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্রে অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। যাতে করে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে না হয়। হাসপাতাল ও হাসপাতালের আশপাশের পরিবেশকে উন্নত,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য উপযোগী করে তুলতে কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসা খাতকে এগিয়ে নিতে সব থেকে বড় পাথেয় হলো সুচিকিৎসক। চিকিৎসকদের আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের নিজ দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হতে হবে। সাথে সাথে চিকিৎসক পেশাকে সম্মানের চোখে দেখা উচিত। ডাক্তারদের মাঝে মানবিক গুণাবলি উদিত হলে দেশের চিকিৎসা খাতে নব সূর্য উদিত হবে। সাথে সাথে সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ সফল ও সার্থক হবে।

সরকারি ওষুধের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ওষুধ সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ খুবই জরুরি। এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐক্য প্রচেষ্টা চিকিৎসা খাতকে স্বচ্ছতার বিজয় অর্জনে সাহায্য করতে পারে। সরকারি হাসপাতালসমূহে আধুনিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সংযোজন করা অতীব জরুরি। অল্প ফি বা বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করে মানবসেবাই কর্তৃপক্ষের এগিয়ে আসতে হবে। যাতে করে জনমনে সরকারি হাসপাতালের প্রতি বিশেষ ভক্তি ও সম্মানবোধ জাগ্রত হয়।

ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনে মতো বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি। সরকারি চিকিৎসক বা কর্মকর্তাদের অন্য ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদানে বিধি-নিষেধ জারি করা প্রয়োজন। যাতে করে তাদের আত্মকেন্দ্রিক মনোভাবের পরিবর্তন হয়। সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন করার পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেন অর্থের ডাকাতি না করে সে দিকে সরকারের দৃষ্টি একান্ত জরুরি। রাস্তার আশপাশে অবস্থিত ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর অর্থ লালসার দিকে তাকানো প্রয়োজন। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান যাচাই করাও উচিত।

এখনই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর, না হলে অদূর ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্নীতি ও অসংগতি রোধ করা হয়তো অসম্ভব হয়ে যাবে। বাধাগ্রস্ত হবে সোনার বাংলাদেশের এগিয়ে চলা। জনমনে চিকিৎসা যেন ভীতির কারণ না হয় তার দিকে দৃষ্টি দেয়া হোক এমনটাই প্রত্যাশা করি আমরা। উক্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব হলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন মডেলে রূপান্তরিত হবে বাংলাদেশ।

আল-মাহমুদ : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৬৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.