নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুন ২০১৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২১, ১৩ শাবান ১৪৩৫
বাজেটের বাস্তবায়নই চ্যালেঞ্জ : সুপ্র
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
বাজেটের আকার বাড়লেও অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবাখাতে বরাদ্দ অপ্রতুল। সেই সাথে বিশাল অঙ্কের বাজেটের ব্যয়, ঘাটতি পূরণ ও গুণগত বাস্তবায়নই প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র)। বাজেটে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে সেবাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি সংগঠনটির। গতকাল বুধবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে সুপ্র আয়োজিত বাজেটোত্তর পর্যালোচনা সভায় একথা জানান বিভিন্ন বক্তারা। সুপ্রর নির্বাহী পরিচালক এম এ কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনায় বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি আশ্রাফুল ইসলাম এমপি, সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল আলোচনা পেশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অন্বেষণ বিভাগের চেয়ারম্যান রাশেদ আল-মাহমুদ। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের প্রধান মাধ্যম শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ মৌলিক সেবাখাত। কিন্তু এবারের বাজেটে এ খাতগুলোতে বরাদ্দের পরিমাণ অনেক কম। বিশাল অঙ্কের বাজেট হলেও এর বড় অংশ যাবে সুদ পরিশোধে। জনপ্রশাসন খাতের পরই এ খাতে সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়নি। অথচ দেশে মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে। এছাড়া কৃষি খাতে বরাদ্দ ৩ শতাংশ কমানো হয়েছে যা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে প্রত্যক্ষ কর নির্ভরতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু পরোক্ষ কর বা ভ্যাটের বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধেই রয়ে গেছে। সেবাখাতে বরাদ্দ কম থাকার ফলে মানুষ ভ্যাট দিবে কিন্তু সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি বলেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া না দেয়ার মাধ্যমে তা কমানো সম্ভব নয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কালো টাকার উৎস বের করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাবেক বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, বাজেটের আকার বাড়ছে সে তুলনায় সেবাখাতসহ জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ বাড়েনি। বাজেটের বিশাল ঘাটতি মেটানো কঠিন হবে। জিডিপি'র প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাও সম্ভব হবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আশ্রাফুল আলম এমপি বলেন, বাজেট প্রণয়ন হতে হবে জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কর নির্ধারিত হয় বিধায় মানুষ কর দেয় না। বাংলাদেশের মানুষ এবং সম্পদশালীর তুলনায় কর আহরণের পরিমাণ অনেক কম। মানুষ ১৬ কোটি হলেও মাত্র কয়েক লাখ লোক কর দেয়। করদাতার হার কম হওয়ায় সরকারের অভ্যন্তরীণ আয় অনেক কম। আর এ কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ অনেক কম হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবাখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হলে মানুষকে ব্যাপক হারে করের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আর তা হলে মানুষ দেশ নিয়ে সতর্ক হবে। একই সাথে সরকারও জবাবদিহিতার জায়গায় আসবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত