নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২২ শাবান ১৪৩৮
হাওড় অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অর্ধেক সুদে নতুন কৃষিঋণ দেয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী
নেত্রকোনা থেকে বাসস
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, হা্ওর এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে অর্ধেক সুদে নতুন কৃষিঋণ দেয়া হবে।

তিনি গতকাল এখানে আয়োজিত এক জনসভায় তাঁর সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, আগামী ফসল ঘরে ওঠা পর্যন্ত কৃষকদের মাঝে বিতরণকৃত কৃষি ঋণের টাকা মওকুফ করা হলো। শেখ হাসিনা বলেন, এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পুনরায় কৃষিকাজ শুরুর জন্য ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে নতুন কৃষিঋণ পাবেন। একইসঙ্গে সরকার তাদের পেশা বহুমুখিকরণের জন্যও সহায়তা প্রদান করবে। বন্যাদুর্গত এলাকার সুরক্ষায় সরকার পক্ষ থেকে সব রকমের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ অনাহারে থাকবে না, আশ্রয়হীন থাকবে না। কারণ ভিজিএফ কর্মসূচি এবং ওএমএস কর্মসূচি হাওর এলাকায় অব্যাহত থাকবে।

ভিজিএফ চাল সরকারের উদ্যোগে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, 'আমাদের এখন পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ আছে, প্রয়োজনে বিদেশ থেকেও খাদ্য আমদানি করা হবে।'

গতকাল সকালে জেলার বন্যাদুর্গত হাওর এলাকা স্বচক্ষে দেখার জন্য শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে বন্যাদুর্গত খালিয়াজুরি উপজেলা পরিদর্শনে আসেন। খালিয়াজুরি ডিগ্রী কলেজ মাঠে বন্যাদুর্গত কৃষক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পূর্বে তিনি এক জনসভায় বক্তৃতা করেন। পরে তিনি উপজেলার বন্যকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় দেশের এই উত্তরপূর্বাঞ্চলের ব্যাপক জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজার হাজার কৃষকের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকারি হিসাব মতে, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৮৬টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২৮ হাজার ৪২৫ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে যায়। এতে করে জেলার জেলার ১ লাখ ৬৫ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্থানীয় সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন জনসভায় বক্তৃতা করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এবং ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যার সঙ্গেই তাঁর সরকার দুর্গতদের পুনর্বাসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে সকল মন্ত্রণালয়গুলোও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা কোন নতুন কিছু নয়, কিন্তুু বন্যায় কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সরকারকে তৎপর থাকতে হয়েছে।

তিনি বলেন, আপনাদের এখানে যেটাকে হাওর বলে আমাদের গোপালগঞ্জে সেটাই বাওড়, কাজেই একজন হাওর এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমার জানা রয়েছে- এই বন্যায় আপনাদেরকে কি রকম দুঃখ কষ্ট পোহাতে হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যেই হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কৃষিঋণের সুদ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণটা কমিয়ে আনতে যত রকমের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন সরকার সবকিছু করবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় কৃষকদের শুধুমাত্র ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল না থেকে তাদের পেশার বহুমুখিকরণের মাধ্যমে পিসি কালচার, হর্টিকালচার এবং ডেইরী ও পোল্ট্রী শিল্পের প্রতি ঝোঁকার জন্য আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী হাওর এলাকায় বোরো ধানের পাশাপাশি মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুধু এক ফসলের ওপর (বোরো চাষ) নির্ভরশীল না থেকে ডাল, সরিষা এবং সবজি চাষের দিকেও কৃষকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, নেত্রকোনার জনগণকে বন্যার কবল থেকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল বাঁধ তৈরি ও সংস্কার করার উদ্যোগ নেবে সরকার। তাছাড়া এই হাওর এলাকার সমস্ত নদী গুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়া হবে। যাতে করে নদীগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ নাব্যতা বজায় রাখতে পারে।

সরকার প্রধান বলেন, দুযর্োগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় অতি দরিদ্রদের মাঝে ভিজিডি এবং ভিজিএফ'র মাধ্যমে খাদ্য সরবারাহ জোরদার করেছে এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ পরিবারের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিও চালু রেখেছে।

বিএনপির একমাত্র কাজ জনগণের ক্ষতি করা

খালিয়াজুড়ির (নেত্রকোনা) জনসভায় বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই দলটি যখন ক্ষমতায় আসে তখন দুর্নীতিতে আকুন্ঠ নিমজ্জিত হয় আর যখন বিরোধী দলে থাকে তখন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে।

তিনি বলেন, 'বিএনপি দেশের কোন উন্নতি করেনি, দলটি ক্ষমতায় আসে শুধু লুটপাট করতে এবং তাদের একমাত্র কাজ জনগণের ক্ষতি করা। এটা কোন ধরনের রাজনীতি'।

শেখ হাসিনা গতকাল সকালে খালিয়াজুড়ি ডিগ্রী কলেজ মাঠে বন্যা দুর্গত জনগণের মাঝে চাল এবং নগদ টাকা বিতরণের পর অনুষ্ঠিত জনসভায় ভাষণকালে কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা দেশের সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখিয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। কিন্তু এই বিএনপি'র দু:শাসনে দেশ আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ালেও বিএনপি বিদ্যুৎ ঘাটতি ঘটায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য আমাদের সরকারের চালু করা কমিউনিাটি ক্লিনিকগুলো বিএনপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে বন্ধ করে দেয়। এভাবে সকল সেক্টরে ব্যর্থ হয় তারা।

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালের অব্যাহত সন্ত্রাাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে ২৩১ জন মানুষকে হত্যা করে এবং তাদের অগি্নসন্ত্রাসের শিকার হয় ৩২২৪ জন সাধারণ নিরীহ মানুষ।

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসের বলি হয় ৫৫ জন গাড়িচালক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর ২৪ জন সদস্য। ৫৮২টি স্কুলে তারা আগুন দেয়, ৭০টি সরকারি দপ্তর এবং যানবাহন, বাস, ট্রেন, সিএনজি এবং লঞ্চে অগি্নসংযোগ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছিল একটাই লক্ষ্য নিয়ে যে, আওয়ামী লীগকে তারা চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। জনগণকে আবার হত দরিদ্রে পরিণত করে দেশের অগ্রযাত্রাকে আবার পেছনে ঘুরিয়ে দেবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৯
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৮০০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.