নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২২ শাবান ১৪৩৮
নিমজ্জিত জাহাজ-কোস্টার অপসারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ঝুঁকিতে চট্টগ্রাম বন্দর
এফএনএস
চট্টগ্রাম বন্দরের নেভিগেশন চ্যানেল, রিভার মাউথ ও বহির্নোঙরের কাছাকাছি স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে ছোট ও মাঝারি আকারের অন্তত ৪৬টি কার্গোজাহাজ, কোস্টার, ট্রলার, নৌযান ও জাহাজের ভাঙ্গা র‌্যাক। তার মধ্যে ৩৬টি নিমজ্জিত হয়েছে গত দেড় দশকের মধ্যে। তার কোনো কোনোটি জোয়ারের সময় অধিকাংশ কিংবা পুরোপুরি ডুবে থাকে, ফের ভাটার সময় জেগে উঠে। সেব জাহাজ, নৌযানের কারণে সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে চলাচলে সবসময়ই সতর্কত থাকতে হচ্ছে। আর এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শিপিং সংগঠন-সমিতিগুলো আপত্তি আসার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নিয়ে নিমজ্জিত জাহাজ, নৌযান, র‌্যাকগুলো উদ্ধার করা জরুরি। পাশাপাশি নতুন করে কোনো জাহাজ যাতে ডুবতে না পারে সে বিষয়ে চুড়ান্ত সতর্কতার পাশাপাশি কোনো জাহাজ দুর্ঘটনা কবলিত হওয়ার সাথে সাথেই উদ্ধার প্রক্রিয়ার জন্য যুগোপযোগী আধুনিক প্রযুক্তির টাগ-জাহাজ বন্দরের সংগ্রহ করা অত্যাবশকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নিমজ্জিত কার্গো জাহাজগুলো উদ্ধারে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন বৃহাদাকার টাগ-জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষেও নেই। আর সিঙ্গাপুর থেকে বা অন্যকোনো দেশের সক্ষমতা সম্পন্ন বিদেশি স্যালভেজ প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করে ডুবে থাকা ওসব জাহাজ উদ্ধার প্রক্রিয়াও জটিল ও ব্যয়বহুল। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের নিজস্ব বড় আকারের টাগ না থাকা এবং বিদেশি স্যালভেজ প্রতিষ্ঠান এনে উদ্ধাও বেশি ব্যয় হওয়ার কারণে নিমজ্জিত জাহাজ-কোস্টারগুলো অপসারনের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। যদিও তলদেশে পড়ে থাকা জাহাজগুলো অপসারনে আগে বিভিন্ন ধরনের 'ফর্মুলা'র কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তার কোনটিই বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পরিবহন দপ্তর নির্বিকার। ফলে উদ্ধার প্রক্রিয়াও অনিশ্চিত। নিমজ্জিত জাহাজের সাথে তলায় ধাক্কা লেগে মাঝেমধ্যে ছোট-বড় দুর্ঘটনা এমনকি আবারও জাহাজডুবির ঘটনা ঘটছে মাঝে মধ্যে। আপাতত মার্কিং বয়া দিয়ে নিমজ্জিত ওসব জাহাজের কিছু কিছু স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। ওসব স্থান এড়িয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য পরামর্শ দিয়ে আসছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভরশীল। বন্দরের মূল চ্যানেল ও তার ধারেকাছে বহির্নোঙর ও উপকূলভাগে কোস্টার, কার্গোজাহাজ, ট্যাংকার, ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান ডুবির ঘটনায় সেসব জাহাজ-নৌযানের চারপাশে স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘি্নত হচ্ছে। ধীরে ধীরে পলি-বালি জমে সংকুচিত হচ্ছে নাব্যতা। ফলে সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে তলদেশে পড়ে থাকা ওসব জাহাজ নৌযানের ফুয়েল ট্যাংকারে ভর্তি রয়েছে জ্বালানি তেল। যা পর্যায়ক্রমে গ্যাসীয় তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। তলদেশে এসব ডেড ভেসেলে ঘটছে বিক্রিয়া। ফলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে। পাশাপাশি বন্দর কিংবা বন্দরের কাছাকাছি স্পর্শকাতর এলাকায় জাহাজ ডুবে গেলে জাহাজের মালিকের মাধ্যমে তা সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে অপসারন নিশ্চিত করার বিষয়েও দেশে কঠোর কোনো আইনি বিধি-বিধান তেমন নেই। অথচ প্রতিবেশী দেশসহ উন্নত বিশ্বের সমুদ্র বন্দরগুলোতে জাহাজ, নৌযান নিমজ্জিত হওয়ার সাথে সাথেই উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে নৌ চ্যানেল কিংবা আউটার চ্যানেল পরিস্কার করে দেয়া হয়। কিন্তু এদেশের বন্দর ও শিপিং বিভাগ নোটিশ জারি করেই দায়িত্ব শেষ করে। আর অনায়াসে পার পেয়ে যায় মালিকরা। নিমজ্জিত জাহাজ উদ্ধারে যে পরিমান খরচ পড়ে সেই তুলনায় উদ্ধারের পর আর্থিক মূল্য কম হওয়ার কারণেই মূলত মালিক পক্ষ উদ্ধার কাজে অনীহা দেখায়।

সূত্র আরো জানায়, নিমজ্জিত লাইটার জাহাজ, নৌযানগুলো অপসারনে বন্দর ছাড়াও দেশীয় অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেনি। তবে ডুবে থাকা ওসব জাহাজের স্ক্র্যাপমূল্য থাকার ফলে ইতিপূর্বে ভিন্ন আরেকটি 'ফর্মুলা'য় বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধারের পরিকল্পনা করেছিল। তা হলো দেশীয় ছোট ছোট স্যালভেজ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজে লাগিয়ে উদ্ধার কাজ ভাগাভাগির ভিত্তিতে চালানো। সেই লক্ষ্যে এক পর্যায়ে স্থানীয় নৌযান উদ্ধারকারী (স্যালভেজ) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে আবেদনপত্র গ্রহণও শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তা মাঝপথে থমকে যায়। তার আগে নিমজ্জিত জাহাজগুলো অধিগ্রহণ করে দরপত্রের মাধ্যমেও অপসারনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিলো। তাও বেশিদূর আগায়নি।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোঃ জাফর আলম জানান, নিমজ্জিত লাইটার জাহাজ, নৌযান বা র‌্যাকগুলোর কারণে বন্দর চ্যানেলে জাহাজ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না। তাছাড়া সেগুলোর উদ্ধার প্রক্রিয়া খুবই ব্যয়বহুল। ওই প্রযুক্তির উদ্ধারকারী জাহাজও বন্দরের নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিকল্পনা অনুসারে বে-টার্মিনাল নির্মিত হলে ভবিষ্যতে ওই ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমান অবস্থায় তলদেশে থাকা জাহাজ, র‌্যাকের স্থানগুলো এড়িয়ে জাহাজ চলাচলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তা করা হচ্ছে। তাছাড়া অনেক স্থানে বয়া দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিমজ্জিত ওসব জাহাজের সাথে তলায় ধাক্কা লেগে ফের দুর্ঘটনা বা জাহাজডুবির প্রসঙ্গে তার মত হচ্ছে জাহাজের মাস্টারের ভুলে ও অদক্ষতার কারণে এমনটি হতে পারে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৯
ফজর৩:৪৫
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৭৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.