নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১৯ মে ২০১৭, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২২ শাবান ১৪৩৮
উলিপুরে এলজিএসপি প্রকল্প বাস্তবায়নে সীমাহীন দুর্নীতি
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় দুটি ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এলজিএসপি'র ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত টাকার বেশির ভাগই আত্মসাৎ করেছেন সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদ্বয়। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া এ দুই চেয়ারম্যান নির্বাচনকালীন সময়ে '১৬ সালের জুন মাসে ঐ বরাদ্দের দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ উত্তোলন করে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজেদের কাছে রাখেন। তারা পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যদের অন্ধকারে রেখে ১০ মাস আগে উত্তোলিত ঐ অর্থের বিপরীতে কিছু কিছু প্রকল্প শুধু কাগজ কলমে দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকার সিংহভাগ পকেটস্থ করেন। যেসব প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান রয়েছে সেসব প্রকল্পে বরাদ্দের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করায় এসব প্রকল্প মানুষের কোনো উপকারেই আসছে না বলে স্থানীয় মানুষজন জানান। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষদের নিয়ে সভা করে সর্বসম্মতভাবে প্রকল্প গ্রহণ করার কথা। কিন্তু এ দুই ইউনিয়নে তা একেবারেই মানা হয়নি। বিশ্বব্যাংকের এ অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিরিক্ষণে এসে চার্টার্ড একাউন্টের একটি দল দুর্নীতির ভাগ নিয়ে সমস্থ ভাউচার হালাল করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের মহোৎসব চলে তৃণমূল পর্যায়ে। জনপ্রতিনিধিরা প্রকাশ্যে দুর্নীতি করলেও দুর্নীতি দমন কমিশন কোনো ভূমিকা না রাখায় স্থানীয় মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসে দাখিলকৃত প্রকল্পের সূত্র ধরে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

উপজেলার বজরা ইউনিয়নে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড চাল নির্মাণ ও জানালা সংস্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সংস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েই এ কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি। একই বিদ্যালয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে ২ হাজার ইট দিয়ে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান। ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পশ্চিম বজরা দাখিল মাদ্রাসা গৃহের টিনশেড বেড়া, মেঝে পাকাকরণ ও বারান্দা নির্মাণের কথা। কিন্তু সেখানে তা না করে প্রতিষ্ঠান প্রধান রেফাকাত হোসেনের হাতে ২ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি সাংবাদিকদের জানান। ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা ডিগ্রি কলেজ, বজরা এলকে আমিন উচ্চ বিদ্যালয় ও বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈদ্যুতিক ফ্যান ও বাতি সরবরাহকরণ দেখানো হলেও সেখানে কোনো মালামাল সরবরাহ করা হয়নি। এ ছাড়া এলজিএসপি'র বিগত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮১ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা এলকে আমিন ডিগ্রি কলেজের গৃহনির্মাণ করার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষজনের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ডোনেশনের টাকায় পুরাতন টিনশেড ঘরের টিন দিয়ে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করে এলজিএসপি'র আত্মসাৎ করা হয়। একই মাঠে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ৩টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান নিজেই হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলার সাহস পাচ্ছে না। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা হাটের ড্রেন নির্মাণ করার কথা। সেখানে মাত্র ২ হাজার ইট কিনে পুরাতন ড্রেনের ইট ব্যবহার করে ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে সিংহভাগ টাকা পকেটস্থ করা হয়। ১ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিরহিম চরে ৫শ ইটের ইউড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ৮৬ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে চাঁদনি বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬টি বৈদ্যুতিক ফ্যান ও একটি সোলার সরবরাহ করা হয়। শুধু ১৫-১৬ অর্থবছরেই নয় বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দে খামার বজরা মৌজায় মোকছেদের বাড়ির সামনে ও ঝাকুয়াপাড়া আলতাবের বাড়ির সামনে যাত্রী ছাউনি, ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দে পুরাতন বজরা বাজারে যাত্রী ছাউনি এবং ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দে বিরহিম নয়ারহাটে যাত্রী ছাউনি দেখানো হলেও বাস্তবে এসব প্রকল্পের অস্তিত নেই।

অন্যদিকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে অনন্তপুর বাজারে আরসিসি রাস্তা বর্ধিতকরণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ৯৬ হাজার ৫৫৪ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে হাতিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংস্কার কাজের নামে সমুদয় টাকা পকেটস্থ করা হয়েছে। কারণ ঐ ইউপি'র চেয়ারম্যান আবুল হোসেন নিজেই ঐ প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, ৪ বছর আগে শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ বিদ্যালয়টি পাকা ভবন নির্মাণ করে দেয়। এ ছাড়াও এলজিএসপি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ঐ বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহের নামে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে গুঞ্জন রয়েছে। ২ লাখ টাকা বরাদ্দে অনন্তপুর বাঁধের রাস্তা হতে নদীরপাড়গামী রাস্তায় বাহের আলীর বাড়ির নিকট ইউড্রেন নির্মাণকরণ দেখানো হলেও সেখানে কোনো ইউড্রেন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে অনন্তপুর বাজার হতে হাতিয়া ভবেশগামী রাস্তায় বিবিজি'র অর্থ দ্বারা একটি ইউড্রেন নির্মাণের দৃশ্য চোখে পড়ে। যা তৈরি করতে ২ হাজার ইটের বেশি লাগেনি বলে গ্রামের লোকজন জানান। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দফতর থেকে পাওয়া প্রকল্প তালিকায় বিবিজি'র নামে কোনো প্রকল্প পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পিবিজি প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাগুয়া অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাগুয়া অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নীলকণ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিয়াজী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সরবরাহ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৫ জোড়া করে ও অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জোড়া বেঞ্চ সরবরাহ করা হয়েছে বলে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ জানান। হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক চেয়ারম্যান নিজে হওয়ায় সেখানে কত জোড়া বেঞ্চ সরবরাহ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো শিক্ষক বলতে রাজি হননি। ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দে হাতিয়া ভবেশ বাজারে হাটশেড নির্মাণ দেখানো হলেও এখানে কোনো হাটসেড নির্মাণ করা হয়নি। এ ছাড়া অন্যান্য প্রকল্পগুলোর একই চিত্র। নিবিড়ভাবে সরেজমিন তদন্ত করলে লাগামহীন দুর্র্নীতির স্বরূপ উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়রা মানুষের দাবি।

অভিযোগের ব্যাপারে বজরা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, বেসরকারি অডিট টিম তার কাজে সনুত্মষ্ট। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, তার কাজ দুর্নীতি কমিশনের লোক ৪ বার তদন্ত করেও কোনো দুর্নীতি পায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এসব দুর্নীতির ব্যাপারে আমার জানা নেই, আপনাদের কাছে কোনো ফাইন্ডিংস থাকলে আমাকে জানালে ব্যবস্থা নিব। এলজিএসপি প্রকল্প মনিটরিং-এর দায়িত্বে থাকা জেলা ফ্যাসিলেটর ফারুক আহমেদের সাথে কথা হলে তিনি জানান, অডিট টিম কি কি আপত্তি দেন সেটি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু ঐ ২ ইউনিয়নেই নয়, দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আরও বেশ কটি ইউনিয়নে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ার তথ্য আছে বলে তিনি জানান।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৯৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.