নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
খুলনাকে মডেল ধরে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে আ'লীগ
সফিকুল ইসলাম
সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও দলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ ঐক্যবদ্ধতার কারণে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয় এসেছে বলে মনে করছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনকে 'মডেল' ধরে আগামীতে সকল স্থানীয় এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গতি আনতে চায় তারা। সরকারি দলটির নেতাদের মতে, অতীতে সিটি-স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে তাদের (সরকারি দল) হারের অন্যতম কারণ অভ্যন্তরীণ অনৈক্য। তৃণমূল আওয়ামী লীগে বিবাদ মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামীর সকল নির্বাচনের বিজয় মুকুটও তাদের ঘরেই যাবে বলেও মনে করছেন দলটির হাইকমা-ের নেতারা। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার মোটামুটি গোলযোগহীনভাবে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিজয়ী হয়েছেন। ২৮৬ কেন্দ্রের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৯১ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি'র নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ২৫১ ভোট। প্রায় ৫ লাখ ভোটারের এই সিটি কর্পোরেশনে মোট কেন্দ্র ছিল ২৮৯টি; অনিয়মের কারণে তিনটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হয়। এই তিনটি কেন্দ্রে সর্বমোট ভোট ৫ হাজারের কিছু বেশি।

এদিকে এই নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই নানান অভিযোগ তুললেও শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিল বিএনপি। তবে পরাজয়ের পর 'ভোট ডাকাতির' অভিযোগ তুলে নির্বাচন ও ফলাফল প্রত্যাখান করেছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপি'র এই দাবিকে মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করে জনরায় থেকে বিএনপি'কে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর নির্বাচন কমিশন বলেছে-এই নির্বাচন 'চমৎকার' হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নির্বাচনকে তারা নিজেদের জন্য 'কেস স্টাডি' হিসেবে নিয়েছিল। এখান থেকে নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে আওয়ামী লীগ। বিজয়ের পরে এখন অনেকটাই নির্ভার তারা। 'মূল চ্যালেঞ্জ' একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ঘাটতির জায়গা চিহ্নিত করে ঐক্যবদ্ধ থাকার উপর জোর দিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন-অর্জনের কারণে জয় এসেছে। সমুদ্র ও সীমান্ত বিজয় হয়েছে। পারমাণবিক ক্লাবে যোগ দেওয়া এবং স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে ঐতিহাসিক সাফল্যের কারণে মানুষ নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। নির্বাচন নিয়ে বিএনপি'র অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে আগামী নির্বাচনগুলোতে নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপি'র জন্য সামনে আরও বড় বড় হার অপেক্ষা করছে। খুলনা থেকে তাদের শিক্ষা নিতে হবে।

খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন। নির্বাচনে জয়ের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুলনার মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের উপর আস্থা রেখেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে এই অঞ্চলের মানুষ ভাল থাকে, শান্তিতে থাকে, তাদের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ধ্বংস আর সন্ত্রাসের উত্থান। এছাড়া অতীতে তালুকদার আব্দুল খালেক ক্ষমতায় থাকতে তিনি খুলনা ও খুলনার মানুষেরের যে উন্নয়ন করেছিলেন তা তারা স্মরণে রেখেছে এবং গণজোয়ার সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকাকে বিজয়ী করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি নির্বাচনগুলো নিজেদের জন্য একই সাথে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ হিসেবে মনে করছে আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনে একদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন নির্বাচন এবং বিজয় দুটোই দরকার ছিল তাদের। খুলনা সিটি কর্পোপেশন নির্বাচনে এই দুটি বিষয়েই নিজেদের বিজয় হয়েছে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। একদিকে এই জয়ে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা হবে আবার নিজেদের জনপ্রিয়তার বিষয়টিও স্পষ্ট হবে। আবার কিছু অভিযোগ থাকলেও সার্বিকভাবে সুষ্ঠু এই নির্বাচনও নিজেদের বড় অর্জন হিসেবে দেখছে ১৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক দলটি।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দৈনিক জনতাকে বলেন, সিটি নির্বাচনগুলো আমাদের জন্য ডাবল চ্যালেঞ্জ। একদিকে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে আবার নির্বাচন নিয়েও কোনো প্রশ্ন থাকা যাবে না। স্বভাবগতভাবে খুলনা নির্বাচন নিয়ে বিএনপি'র অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন অন্য সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয়েছে। এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া। আগামী সিটি ও জাতীয় নির্বাচনের আগে এই বিজয় আমাদের কাছে মডেল হিসেবে থাকবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। জনগণের ভোটের অধিকার প্রয়োগের বিজয় হয়েছে। একই বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য দৈনিক জনতাকে বলেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ সেখানে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। বিএনপি'র যারা সমর্থক তারা বিএনপি'কে ভোট দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থক ও সরকারে উন্নয়ন কর্মকান্ড দেখে যারা আস্থা রেখেছে তারা আওয়ামী লীগতে ভোট দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই বিজয়কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ঐ নির্বাচনেও জনগণের ভোটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো আওয়ামী লীগ জয়লাভ করবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮১৮৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.