নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
দুর্নীতিবাজদের তালিকা হচ্ছে
সরকারি ২৫টি সেক্টরের দুর্নীতির উৎসের খোঁজে মাঠে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট
মশিউর রহমান রুবেল
দেশের শীর্ষ সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজদের একটি তালিকা তৈরি করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের গোয়েন্দা ইউনিট এই তালিকা তৈরি করবে। কমিশন ইতোমধ্যে পরিচালক মীর জয়নাল আবেদিন শিবলীকে প্রধান করে একটি গোয়েন্দা ইউনিটও গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, যার মাধ্যমে বছর শেষে বিভিন্ন সেক্টরের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তাদের দুর্নীতির কার্যকরভাবে প্রমাণ করা যাবে। দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, দুর্নীতি দমন কার্যক্রমকে জোরদার করা এবং শীর্ষ সন্দেহভাজন অসাধু ব্যক্তিদের মোকাবিলা করার জন্য এর সক্ষমতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কমিশন এক বছরব্যাপী কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

২০১৮ সালের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার আওতায় কমিশন বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবচেয়ে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে শীর্ষ সন্দেহভাজন অসাধু ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করবে।

দুর্নীতি পর্যবেক্ষণ শাখা ইতোমধ্যে ২৫টি প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছে, যারা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও সংস্থার সন্দেহভাজন অসাধু ব্যক্তিদের দুর্নীতি প্রমাণে তদন্ত করেছে। বর্তমানে ২৫টি বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৫টি টিম ঐসব প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

গেল বছর শিক্ষা খাত ও ভূমি খাতে দুর্নীতির উৎস, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজদের তালিকা তৈরি করার পর এ বছর ২৫ সেক্টরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দুদক। স্বাস্থ্য, যোগাযোগ খাত, পাসপোর্ট অধিদফতর, সিটি কর্পোরেশন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সেবা খাতের ২৫ সরকারি সেক্টরে দুর্নীতির উৎস খুঁজতে গত বছরই প্রাতিষ্ঠানিক টিম গঠন করেছিল দুদক। এসব প্রতিষ্ঠানে ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ বেহাত হচ্ছে বলে অনেকদিন ধরেই অভিযোগ পেয়ে আসছিল দুদক। প্রথমদিকে আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে অবগত করার পরও সমাধান না হওয়ায় মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদক কর্মকর্তারা বলেন, ২৫টি সরকারি সেক্টরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দুর্নীতির বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ঘুষ বাণিজ্য ও লুটপাটকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎকারী ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। দুদকের কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে গোয়েন্দা ইউনিট। গোয়েন্দা ইউনিটের এ টিমে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ টিমের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রয়েছে। তারা ছদ্মবেশে বিভিন্ন সরকারি দফতরের কোথায় কিভাবে দুর্নীতি হচ্ছে, সরকারি অর্থের বেহাত হচ্ছে কিনা এবং এসব প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসা মানুষের কাছে কোনো কোনো কর্মকর্তারা ফাইল বা কাজের বিনিময়ে ঘুষ নিচ্ছে এসব নিয়ে কাজ শুরু করছে। গোয়েন্দারা সরকারি দফতরের ঘুষখোর কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সমাজের উঁচু পর্যায়ের মধ্যে যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ আসছে তাদের বিষয়েও খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করেছেন। দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির উৎস, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে দুদক।

এছাড়া আগামী নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দলের পক্ষ হয়ে মনোনয়ন পাওয়া সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সম্পদের বিষয়েও দুদকের নজরদারি থাকবে।

সূত্র জানায়, গত বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির উৎস প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের দুর্নীতি খুঁজে বের করে দুদক। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৬ শতাধিক সরকারি শিক্ষকের তালিকা করা হয় যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে দুর্নীতি করে আসছিল। ঐসব শিক্ষকদের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এছাড়া ভূমি অফিসে কিভাবে খাজনা, পরসা ও নামজারির মাধ্যমে দুর্নীতি হয় এবং কোনো কোনো ভূমি অফিসে কোনো কোনো কর্মকর্তারা ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত তার একটি তালিকাও হয়। এ বছর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, রেল যোগাযোগ, নৌপথ যোগাযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, পাসপোর্ট অধিদফতর, সিটি কর্পোরেশন, কারা অধিদফতরসহ সরকারি ২৫টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির খাত বের করে সেগুলো বন্ধে সুপারিশ করবে দুদক। এসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকা করার পাশাপাশি দুর্নীতি বন্ধে শুদ্ধি অভিযানও চালাবে দুদক। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক টিমগুলোকে আরও সচল করা হয়েছে। সরকারি সূত্র জানায়, এসব টিম ঐসব প্রতিষ্ঠানের সন্দেহভাজন বড় দুর্নীতিবাজদের নাম তালিকাভুক্ত করবে এবং যাচাই-বাছাই করে শীর্ষ অসাধু ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মুনির চৌধুরী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াইয়ের জন্য কমিশন ইতোমধ্যে কমিশনের পরিচালক মীর জয়নাল আবেদিন শিবলীকে প্রধান করে একটি গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২২
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০২
মাগরিব৫:৪১
এশা৬:৫৭
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯১০৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.