নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
নাটোরে নিম্নমানের বীজ ধানে পুড়ল কৃষকের কপাল
স্টাফ রিপোর্টার ও নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামের মাঝগাঁও ইউনিয়নের ৫ কৃষক তাদের ১৬ বিঘা জমিতে ধানের বীজ বুনলেও কোনো ফলন পাননি। তেজ নামে হাইব্রিড ধানের বীজ বোনার পর কৃষক সেই ধান ঘরে আনতে পারেননি। ধান আছে অথচ ভেতরে কোনো চাল নেই। অর্থাৎ শতভাগ চিটা। গ্রামের অন্য কৃষক অন্য সব জাতের ধান ঘরে তুললেও এই নকল ধান চাষ করে ৫ কৃষকের সর্বনাশ হয়েছে। সেইসঙ্গে পুড়েছে তাদের সবার কপাল। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঝগাঁওয়ের গুরুমশৈল গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান সাড়ে ৮ বিঘা, আলমগীর হোসেন দুই বিঘা, জামালউদ্দিন প্রামাণিক আড়াই বিঘা, জিয়াউল রহমানের দুই বিঘা ও আরিফুল ইসলাম এক বিঘা ১৬ কাঠা জমিতে অ্যারাইজ তেজ নামে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ কিনে বপন করেন। এই ধানের বীজের প্যাকেটে উৎপাদক হিসেবে বায়ার বায়োসায়েন্স (প্রা.) লিমিটেড ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার উত্তরার বায়ার ক্রপসায়েন্স লেখা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, উপজেলার বনপাড়া বাজারের মজিদ বীজ ভা-ার ও হানিফ বীজ ভা-ার থেকে তারা গত জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বীজগুলো কেনেন। বীজ কেনার পর যথাযথভাবে বপন ও পরিচর্যা করা হয়। কিন্তু ধান পাকার মুহূর্তে দেখা যায়, ঐ ধানের গাছ মরে গিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ধানের ভেতরে চাল নেই। সবই চিটা।

এ ব্যাপারে কৃষকেরা ঐ বীজ বিক্রেতা মজিদ সেখ ও হানিফ সেখকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, বায়ার কোম্পানি থেকে এ বীজ আমরা কিনে বিক্রি করেছি।

এদিকে, বায়ার ক্রপসায়েন্স'র স্থানীয় বিক্রয় প্রতিনিধি রাকিব হোসেন জানান, ঐ দুই বীজ ভা-ারের কাছে এই কোম্পানি কোনো বীজই বিক্রি করেনি। উপায় না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা গত ১০ মে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহমেদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে কৃষি কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটি কয়েক দফায় পরিদর্শন করে যথাসময়ে রিপোর্ট দাখিল করার পর কৃষি কর্মকর্তার কাছে পুনরায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি এই বীজগুলো সরাসরি ধান থেকে বীজ করে থাকে তবে ফলন আসবে না। হাইব্রিডের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরিতে ক্রসিং করে বীজ উৎপাদন করলে তবেই ধানের ফলন হবে। এখন বায়ার ক্রপসায়েন্সই বলতে পারবে এর আসল কথা।

এ ব্যাপারে তিনি বায়ার ক্রপসায়েন্স'র প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা এ বীজ সরবরাহ করেননি বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তাকে।

এদিকে, আসল বীজের পরিবর্তে নকল বীজ বিক্রির দায়ে ঐ দুই বীজ ভা-ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, প্রমাণ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে এই ধান বপন থেকে কাটা পর্যন্ত খরচ হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার টাকা। যদি এ ধানের ফলন হতো তাহলে তারা বিঘাপ্রতি ১৭ হাজার টাকার ধান পেতো। এ ধান রোপণ করতে অনেকেই চড়া সুদে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও'র কাছ থেকে লোন নিয়েছেন। তারা এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল আলীম বলেন, সরেজমিনে ঐ ধানের জমিতে আমি গেছি এবং কৃষকদের অভিযোগ সত্য হিসেবে প্রমাণ পেয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাবার দাবি করাটা যৌক্তিক।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২০
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩১
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০৮৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.