নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
ঘুষখোর চক্র নাখোশ
যশোর সদর ভূমি অফিসটি এখন দুর্নীতিমুক্ত
যশোর থেকে শেখ দিনু আহমেদ
অবশেষে যশোর সদর ভূমি অফিস থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি। এসিল্যান্ড হিসেবে সৈয়দ জাকির হাসান যোগদান করার পর দুর্নীতি বন্ধে তিনি জিহাদ ঘোষণা করেন। এতে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে দেখা দিয়েছে চাপা ক্ষোভ। কাজেই অল্পদিনেই এসিল্যান্ড সাধারণ জনগণের কাছে নন্দিত হয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দীর্ঘদিন যাবৎ যশোর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর অফিসটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এখানে যখন যে এসিল্যান্ড এসেছেন তখন তার দুর্নীতির শিকার হয়েছেন সদর উপজেলার সাধারণ জনগণ। ঐসব দুর্নীতিবাজ এসিল্যান্ডদের ধারাবাহিক অপকর্মের পথ ধরেই অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে বড় কর্তা পর্যন্ত ঘুষের নেশায় উন্মাদ হয়ে ওঠেন। কাজেই এ অফিসটি ঘুষ-দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন পৌরসভাসহ সদর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। অবশেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত বছরের ১৯ অক্টোবর যশোর সদরে এসিল্যান্ড হিসেবে সৈয়দ জাকির হাসান যোগদান করেন। এখানে যোগদানের পর তিনি দুর্নীতি বন্ধে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। তার দুর্নীতি বিরোধী কঠোর মনোভাবের কারণে কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জোটবদ্ধ হয় এবং তাকে তাড়ানোর জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু ধর্মের ঢাক আপনি বাজে। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রকারীরাই সদর ভূমি অফিস থেকে অন্যত্র বদলি হয়েছেন। আর সততার কারণে সৈয়দ জাকির হাসান কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন।

সূত্রমতে, যশোর পৌরসভাসহ সদর উপজেলার ১৩টি ভূমি অফিস থেকে প্রতি মাসে নাম পত্তনের জন্য ৭ থেকে ৮শ আবেদন জমা পড়ে। এর আগের এসিল্যান্ডেদের সময়ে প্রতিটি নাম পত্তন কেসের জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ৫ থেকে ১০ হাজার আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায় করতেন। অর্থাৎ তৎকালীন সময় এ অফিসের অধীনে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ঘুষ আদায় হতো ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরে শুধুমাত্র নাম পত্তনের ক্ষেত্রে সদর ভূমি অফিসের অধীনে সর্বনিম্ন ঘুষ লেনদেন হতো সাড়ে ৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া মিস কেস, অর্ডারশিট ও নাম পত্তনের নকল সরবরাহের ক্ষেত্রেও ধার্য রেটে ঘুষ আদায় করা হতো। মাসের শেষ ঘুষের এসব টাকার বড় অংকটি যেতো এসিল্যান্ডের পকেটে। আর বাদবাকি টাকা নিতো পৌর ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা, নাজির, কাননগো ও পিয়নরা। কিন্তু এসিল্যান্ড হিসেবে সৈয়দ জাকির হাসান যোগদানের পর থেকে তার কঠোর নির্দেশে চিরাচরিত ঘুষ আদায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন ঘুষখোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বর্তমান এসিল্যান্ডকে তাড়ানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেরাই বিতাড়িত হয়েছেন। এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার পশ্চিম বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন জানান, আমি জমির নাম পত্তন করতে দিয়েছিলাম সেটি যথাসময়ে পেয়েছি, আগের মতো ৫/১০ হাজার টাকা ঘুষ দেয়া লাগেনি। দালাল চক্রেরও কোনো পাত্তা নেই এখন। সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চাঁদপাড়া গ্রামের ছাত্তার মোড়ল জানান, আমার জমির নাম পত্তন করেছি তাতে আমার খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪২০ টাকা। সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জঙ্গল বাধাল গ্রামের খন্দকার মনিরুজ্জামান জানান, সমপ্রতি আমার জমির নাম পত্তন করেছি তবে আগের মতো এখন আর অতিরিক্ত টাকা গোনা লাগছে না। নাম পত্তন করতে আমার মোট খরচ হয়েছে ১ হাজার ৪২০ টাকা। এব্যাপারে এসিল্যান্ড জাকির হাসান জানান, আমার বিরুদ্ধে যে যাই ষড়যন্ত্র করুক না কেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি যতোদিন এখানে থাকবো ততোদিন কঠোরহস্তে দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। তিনি জানান, সরকারি নিয়মে একটি নাম পত্তনে আবেদন ফি ২৫০ টাকা, কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং ডিসিআর বাবদ ১১৫০ টাকা লাগে। এর বাইরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী টাকা পয়সা নিলে প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ২১
ফজর৩:৪৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৬
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৩৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.