নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
হাওড়াঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় জাতের ধান
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষি কাজের উপরেই হাওড় বেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলাবাসী নির্ভরশীল ও জীবন জীবিকা পরিচালনা করে থাকে। এক সময় হাওড়াঞ্চলের প্রচুর পরিমাণে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন সুস্বাদু ধানের চাষ হলেও আধুনিক প্রযুক্তি, বেশি উৎপাদন জমিতে অধিক ধান ফলানোর আশায় সময় এবং বাস্তবতার কাছে হার মেনে স্থানীয় স্বল্প খরছে পরিবেশবান্ধব সুস্বাদু জাতের ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে কৃষকগণ। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন রকমের ধান উন্নত ও উচ্চ মাত্রায় বেশি ফলনশীল ধানের জাত আবিষ্কার করার ফলে কৃষকরা সে দিকেই দৌড়াছে।

জানা যায়, জেলার হাওড়জুড়ে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও খরার কবলে থাকার পরও চাষ যোগ্য ফসলি জমিতে চাষাবাদ করছে। কিন্তু বিগত ১০-১২ বছরের ব্যবধানে জেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানীয় জাতের সুস্বাদু ধান। কৃষকগণ জমিতে আর আগের মতো মন জুড়ানো বিভিন্ন সুস্বাদু জাতের আলাদা বৈশিষ্ট্য, গন্ধ ও লোভনীয় স্বাদের ধান চাষে তাদের কষ্টার্জিত ফসলের সঠিক মূল্য ও চাহিদা না থাকায় কৃষকরা জমিতে চাষ করছেন না।

আরো জানা যায়, জেলার-তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়রা বাজারসহ ১১টি উপজেলার হাওড়গুলোতে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জাতের ৫৮ রকমের ধান চাষ করত। গত ১ যুগের ব্যবধানে ঐসব উপজেলার হাওড়গুলোতে বিভিন্ন কারণেই স্থানীয় জাতের ও সুস্বাধু ধান চাষ করা হয় না। এসব ধানের মধ্যে রয়েছে আকর্ষণীয় নাম স্বাধ, গন্ধ ও খেতের ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য। স্থানীয় জাতের মধ্যে লাখাই, রাজাসাইল, সোনামুখী, মধুমালতি, স্বর্নমূয়রী, মধূবিরইন, চিনিগুড়া, ময়নাসাইল, লতাশাইল, পাইজম, নাজিরশাইল, বাইগুন বিচি, ধলাকাচাই, মৌমাইল, গড়িয়া ইত্যাদি জাতের ধান চাষ হয় না। পূর্বে গ্রাম বাংলার বাড়ি বাড়ি বিভিন্ন রখমের সুস্বাদু জাতের ধানের চাল দিয়ে রান্না করা হতো অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য এবং বিশেষ কোনো অনুষ্ঠানে, বিয়ে, বনভোজন ইত্যাদিতে। এখন কেবল কিছু এলাকার সচ্ছল ও শৌখিন কৃষকরা নিজেদের খাওয়া ও অতিথি আপ্যায়নের জন্য কয়েক প্রকার সুস্বাধু জাতের ধান চাষ করে।

তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওড়ের কৃষক নুর জামাল জানান, তিনি ২ একর জমিতে ব্রি আর ২৮ জাতের উচ্চ ফলনশীল ধানের চাষাবাদ করেছেন। এর উৎপাদন দেশি ধানের চেয়ে অনেক বেশি। তাহিরপুর উপজেলার কৃষক নুরুল হক মিয়া জানান, তিনি কিছু জমিতে দেশীয় লাকাই ধানের চাষাবাদ করেছেন। উৎপাদন কম হলেও এই ধানের চাল খেতে সুস্বাদু। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার আবাদ জমির পরিমাণ ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪শ ৪৭ হেক্টর। এবার ২ লাখ, ২১ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। আর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্র ১২ লাখ ১৯ হাজার ৪১৪ মেট্রিক টন ধান। যার মূল্য ২ হাজার ৯২৪ কোটি ৬৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। কিন্তু সুস্বাধু ও স্থানীয় জাতের ধানের পরিমাণ একবারেই সামান্য।

খেলু মিয়া, বাচ্চু মিয়া, সংগ্রামসহ জেলার কৃষক ও সচেতন জেলাবাসী বলেন, হাওড়াঞ্চলের দেশি জাতের ধানের তৈরি পিঠা পায়েস, চিড়া, খই মুড়ির বেশ কদর ছিল এখনও আছে। থাকলে কি হবে দেশি জাতের সেই ধানগুলোই তো আর নেই। যদি সরকার ও কৃষি বিভাগ ঐসব ধান চাষাবাদ ও সংরক্ষণ না করে তাহলে আমাদের পরিবর্তিত প্রজন্মে কাছে এর কোনো ধারণাই থাকবে না। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, বেশি ফলনের আশায় কৃষকগণ হাইব্রিড জাতের ধানের দিকে ঝুঁকে পড়ছে সবাই। আমাদের দেশীয় জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে হাওড়াঞ্চল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুস্বাদু জাতের ধান। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগের মাধ্যমে আবহমান বাংলার কৃষকদের স্থানীয় জাতের ধান চাষে আগ্রহী করে তুলতে ও সুস্বাধু জাতের ধান রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২০
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩১
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০৫৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.