নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদী বাঁচাও-চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাঁচাও গোলটেবিল বৈঠক
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
নদী বাঁচাও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাঁচাও গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। সেভ দ্য নেচার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যোগে গত শনিবার সকালে শহরের সাধারণ পাঠাগারে গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক ছিলেন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহা. দাউদ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুকেশ কুমার, সমাজ সেবক মনিম উদ দৌলা চৌধুরী, শফিকুল আলম ভোতা, এড. সাইফুল ইসলাম রেজা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা, পাগলা, পদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন সেভ দ্য নেচার চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান সমন্বয়ক গণমাধ্যমকর্মী রবিউল হাসান ডলার, সমন্বয়ক শহীদুল হুদা অলক, এম মাহবুব আলম। বক্তারা বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা নদীগুলো মরে গিয়ে বর্তমানে মরভূমিতে পরিণত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের ময়লা পানি মহানন্দায় পড়ায় পানি দূষিত হচ্ছে। শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীর তীরে। নদীর নাব্যতা হারায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। ফলে প্রকৃতিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নদীগুলোকে বাঁচাতে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয় গোলটেবিল বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ সাংবাদিক ডি.এম তালেবুন্নবী, মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা 'চাঁপাই দৃষ্টি'র সম্পাদক এমরান ফারুক মাসুম, 'চাঁপাই দর্পণ'র সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, 'গৌড় বাংলা'র সম্পাদক হাসিব হোসেন, শিক্ষার্থী, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা। গোলটেবিল আলোচনায় পাঠ করা মূলপ্রবন্ধে বলা হয়, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এই জেলা দিয়ে পদ্মা, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদী প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার, মহানন্দা নদীর দৈর্ঘ্য ৯৫, পাগলা নদীর দৈর্ঘ্য ৪১ ও পুনর্ভবা নদীর দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটার। হিমালয়ের পাদদেশে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষ মৌসুমে বিপুল পরিমাণ পলি উজান থেকে আসে। অপরদিকে জেলা শিবগঞ্জ উপজেলার পাংখা পয়েন্ট থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ ও অপর তিনটি নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে পানির প্রবাহ সারা বছরই কম থাকে। স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় ভরাট হয়ে এ নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। নদীগুলো শুধু পানিরই আধার নয়, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাতে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় যেমন ৪টি নদী নাব্যতা হারিয়েছে, তেমনই নদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি জাতের মাছসহ নানা মেরুদ-ি-অমেরুদ-ি প্রাণীসহ জলজ উদ্ভিদ। পদ্মা ও মহানন্দা নদীর প্রাণ শুশুক আজ বিপন্ন। এভাবে চলতে থাকলে একসময় অস্তিত্ব সংকটে পড়বে পদ্ম, মহানন্দা, পাগলা ও পুনর্ভবা নদী। মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিবেশের উপর পড়বে বিরূপ প্রভাব। আরো উদ্বেগের বিষয় পদ্মা, মহানন্দা ও পাগলা নদী থেকে এক শ্রেণীর লোক অবৈধভাবে উত্তোলন করছে মাটি ও বালু। মৃতপ্রায় মহানন্দা নদী তীর দখল করেছে এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ। এছাড়াও পৌরসভার সব ড্রেনের পানি গিয়ে পড়ছে মহানন্দা নদীতে। ড্রেনের পানিতে দূষিত হচ্ছে নদী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের খালঘাটে ফেলা হচ্ছে পৌরসভার সমস্ত বর্জ্য। এতেও নদীর তীর দূষিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ 'ক'-এ পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন। এছাড়াও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন-২০১৩ নামে একটি আইন সংসদে পাস হয়। ঐ আইনে উল্লেখ করা হয়, নদীর অবৈধ দখল, প্রাণী ও পরিবেশ দূষণ, শিল্প কারখানা কর্তৃক সৃষ্ট নদী দূষণ, অবৈধ কাঠোমো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়ম রোধকল্পে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নদীর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নৌ-পরিবহণযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে একটি কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের সাথে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৮ 'ক' এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন-২০১৩ অনুযায়ী এ জেলায় প্রত্যাশিত ভূমিকা গ্রহণ করছে না। সংবিধানে জলাধার সংরক্ষণ এবং নদী রক্ষা কমিশনের তৃতীয় অধ্যায়ের ১২ নম্বর ধারায় নদী অবৈধ দখলমুক্ত এবং পুনঃদখলরোধ করা, নদী তীর দূণষমুক্ত রাখা এবং বিলুপ্ত বা মৃতপ্রায় নদী খনের বিষয় সরকারকে সুপারিশ প্রদান করবে কমিশন। কিন্তু পাগলা নদী খনন ও মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছাড়া উপরোক্ত কোনো বিষয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে আমরা দেখিনি। পাগলা নদী খননের বিষয়ে আমরা মনে করি পুরো নদী খনন না করে আংশিক করলে নদীতে আবারো পলি জমে নাব্যতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ করলে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হবে এবং রাবার ড্যামের বিপরীতে দিকে পানি শূন্যতা দেখা দিবে। এতে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সেভ দ্য নেচার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মনে করে মহানন্দা নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ না করে নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। অবিলম্বে জেলার মিঠা পানির উৎস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ জেলার ৪টি নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নদীর তীর দখল বন্ধ, ড্রেনের পানিতে মহানন্দা নদী দূষণ বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ বিপর্যয় থেকে শুরু করে আর্থ রাজনৈতিক নানা কারণে এ নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ আজ সংকটের সম্মুখীন। বিষয়টি সবাইকে চিন্তার মধ্যে রাখতে হবে। আর এতেই নদী বাঁচতে, বাঁচবে প্রাকৃতিক পরিবেশ। তাই সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নদী রক্ষায় সকলেই সোচ্চার হই।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২০
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩১
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০৯৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.