নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১৮, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৩০ শাবান ১৪৩৯
স্বাগতম-মাহে রমজান
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
স্বাগতম মাহে রমজান। বছর ঘুরে আবার এলো রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস মাহে রমজান। মহান আল্লাহতায়ালার করুণা, বরকত, ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির পয়গাম নিয়ে ১৪৩৯ হিজরি সনের মাহে রমজানুল মোবারক আমাদের মাঝে সমাগত। এ মাস হলো কল্যাণ লাভের, বহুগুণ পুরস্কার লাভের ও গুনাহ মাফের উপযুক্ত সময়। পবিত্র রমজান মাস নিঃসন্দেহে অন্যান্য মাসসমূহ থেকে পৃথকভাবে মাহাত্ম্যের ও গুরুত্বের দাবি রাখে। বিশ্ব মানবতার সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তির সনদ সর্বযুগের সর্বদেশের সর্বজাতির সর্বাঙ্গীন জীবন ব্যবস্থার অপরিবর্তনীয় গ্রন্থ আল কোরআন যে মাসে নাজিল করা হয় সে মাসের পবিত্রতা, মাহাত্ম্য ও মহিমা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। আরবি মাসসমূহের এই 'রমজান' এ পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা নাজিল করেন আসমানী কিতাবসমূহের সর্বশেষ গ্রন্থ আল কোরআন। কোরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্টভাবে এরশাদ করেন, 'রমজান এমন এক মহিমাময় ও গৌরবাম-িত মাস যে মাসে (আল্লাহ তায়ালার পাক কালাম) কোরআন শরীফ নাজিল হয়েছে।

শুধু কোরআন শরীফই নয়, পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থসমূহ ও সহীফাগুলোও এই পবিত্র রমজান মাসে নাজিল করা হয়। রমজান মাসের পহেলা (কিংবা ৩ তারিখে) হযরত ইব্রাহীম (আ.) সহীফা লাভ করেন, ৬ তারিখে হযরত মূসা (আ.)-এর কাছে পবিত্র 'তাওরাত' পৌঁছায়। হযরত দাউদ (আ.)-এর কাছে পবিত্র যাবুর নাজিল হয় এই পবিত্র মাসের ১৮ তারিখে, আর হযরত ঈসা (আ.)-এর পবিত্র 'ইনজিল' লাভ করেন এই মাসের ১২ তারিখে। এ থেকে সহজেই পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব, পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য বোঝা যায়। 'রোজা' একটি ফারসি শব্দ, আরবি ভাষায় রোজাকে 'সিয়াম' বলা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ও সংযম করাকে রোজা বলে। 'সিয়াম' শব্দেরও ঐ একই অর্থ। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হলো সিয়াম বা রোজা। শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকা বা 'উপবাস' ব্রত বললে 'সিয়াম' এর সঠিক রূপ প্রকাশ পায় না। 'উপবাস ব্রত' পৃথিবীর সকল ধর্মেই রয়েছে। তবে সুদীর্ঘ ১ মাসব্যাপী ভোর (সোবহে সাদেক) থেকে সূর্যান্ত পর্যন্ত উপবাস এবং সেই সঙ্গে কঠোর সংযম সাধনার বিধান ইসলাম ছাড়া পৃথিবীতে আর অন্য কোনো ধর্মে নেই। 'রমজ' শব্দ থেকে এসেছে 'রমজান'। 'রমজ' শব্দের অর্থ হলো জ্বালিয়ে দেয়া, দগ্ধ করা। পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষের মনের কলুষ-কালিমা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়ে মনকে নির্মল ও পবিত্র করে তোলে, পাপ রাশিকে সম্পূর্ণ রূপে দগ্ধ করে দিয়ে মানুষকে করে তোলে পুন্যবান, যোগ্য করে তোলে সাধারণ মানুষকে পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার অসাধারণ করুণা ও ক্ষমা গ্রহণ করার জন্য।

স্বভাবতই নামাজের পরেই মুসলমানের জন্য আল্লাহতায়ালা যে এবাদত ফরজ করেছেন তা হলো পবিত্র রমজান মাসের রোজা। পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ, তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমােেদর পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল। নামাজের মতো এই রোজাকে ও আবহমানকাল থেকেই সকল নবীর শরীয়তেই ফরজ করা হয়েছে। পবিত্র রমজানের রোজা তিনটি ভাগে বিভক্ত 'রহমত' 'মাগফেরাত' ও 'নাজাত'। প্রথম দশদিন পরম করুণাময় আল্লাহ-তায়ালার অসীম রহমত ঝরে পড়তে থাকে পৃথিবীর উপরে, তার রোজাদার মোমেন বান্দাদের উপর। দ্বিতীয় দশদিনে পাওয়া যায় 'মাগফেরাত' বা ক্ষমা- অন্যায় কাজ ও চিন্তার জন্য ক্ষমা, পাপাচার ও চারিত্রিক নোংরামির জন্য ক্ষমা। শেষ দশদিনে পাওয়া যায় মুক্তি- দোজখের শাস্তি থেকে মুক্তি, পাপ থেকে মুক্তি, যৌন-ক্ষুধা থেকে মুক্তি, কামনা থেকে মুক্তি, অশ্লিলতা থেকে মুক্তি, লোভ-লালসা থেকে মুক্তি, সকল প্রকারের অযৌক্তিক বন্ধন থেকে মুক্তি, সকল অশুভ কার্যকলাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তি। আর এই মুক্তির জন্য' এতেকাফের সাধনা। মাহে রমজানের এই রোজার মাধ্যমে সংযম সাধনার ফলে মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় পরম করুণাময়ের নৈকট্য লাভ করার। কারণ, রমজানের 'সিয়াম' মানুষের মনের রিপুগুলোকে সংযত করে, দীন-দরিদ্র ক্ষুধার্তদের কষ্ট ও যন্ত্রণা, ব্যথা ও বেদনা হৃদয়ঙ্গম করতে সাহায্য করে, মানুষকে ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন 'আমি সেই মহান আল্লাহর কসম করিয়া বলিতেছি, যাহার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয় জানিও আল্লাহর নিকট রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ মেশক বা কস্তরীর' চেয়ে অধিক সুগন্ধি বলিয়া বিবেচিত'। সর্বযুগের সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো এরশাদ করেছেন, 'রোজাদারের নিদ্রা এবাদতের সমতুল্য। তাহার নীরবতা তসবীহ পড়ার সমতুল্য। সে সামান্য এবাদতেই অন্য সময় অপেক্ষা অনেক বেশি সাওয়াবের অধিকারী হয়, তার দোয়া কবুল হয় এবং গোনাহ মাফ হয়। ঈমান ও এ তেকাফের সাথে যে ব্যক্তি রোজা রাখবে তার অতীতের সব গোনাহ- অপরাধ মাফ করে দেয়া হবে'। সুতরাং পবিত্র রমজান মাসের 'সিয়াম' এর ফজিলত সত্যিই অসীম ও অতুলনীয়। কঠোর 'সিয়াম' এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্বাত্মক চেষ্টা করা সকল মুসলমানের কর্তব্য। রোজার মাধ্যমে, তারাবির মাধ্যমে, সেহরী ও ইফতারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ একমাস ব্যাপী সংযম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভের এই সুযোগ আর কোনো মাসেই পাওয়া যায় না। উপরন্তু এই পবিত্র মাসে যেভাবে আল্লাহর রহমত আমাদের উপর বর্ষিত হয়, সে ধরনের দুর্লভ ও অসাধারণ সুযোগ আমরা কেউ কোনো দিনও হারাতে চাই না। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, 'মানুষ যত প্রকার নেকী বা নেক কাজ করে আমি তার সাওয়াব দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেই। কিন্তু রোজা এই নিয়মের বহির্ভূত। রোজার সওয়াব এভাবে সীমাবদ্ধ বা সীমিত নয়। রোজার পুরস্কার আমি স্বয়ং প্রদান করিব।'

পরিশেষে এ মুনাজাত, হে দয়াময় আল্লাহ! তুমি আমাদের এই মাহে রমজানের যথাযথ হক আদায় করার তাওফিক দাও এবং দূর কর সব অন্যায়-অবিচার, পাপাচার। আমাদের দাও একটি সুন্দর সমাজ। যে সমাজে থাকবে সুখ, শান্তি। যে সমাজের মানুষ হবে সত্যিকারের মানুষ, হবে তোমার প্রেম পাগল এবং তোমার হাবিবের প্রেমিক। জাগতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে আমরা যেন আল্লাহ তায়ালার প্রিয় ভাজন হতে পারি। আমিন। বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালিন।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮৪৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.