নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯
রুটিন চেকআপ ছাড়াই চলছে ট্রেন
রেললাইন অরক্ষিত থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা
হাবিবুর রহমান
দেশে একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং, রেল সংশ্লিষ্টদের কর্তব্যে অবহেলা, বর্ষায় লাইনের নিচের মাটি সরে যাওয়া, ড্রাইভারদের ওভারটাইমের ক্লান্তি এবং লাইনের ত্রুটির কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটচ্ছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম প্রধান রুটে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার রেলপথে দুর্ঘটনার হার বেশি। গত দুই বছরে ঐ দুটি রুটে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনসহ অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ১ হাজার ২৪৯ লেভেল ক্রসিং গেটের মধ্যে ৩২৬ ক্রসিংয়ে কোনো গেটকিপার নেই, এমনকি সিগন্যালিং ব্যবস্থাও নেই। আবার অনুমোদনহীন লেভেন ক্রসিং এবং ক্রসিংগুলোতে কোনো কর্মী না থাকা রেল দুর্ঘটনার বড় কারণ। শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন লেভেল

ক্রসিংয়ের অভাব নেই।

সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে রেলওয়ে নেটওয়ার্কে মোট এক হাজার ৪১৩ অনুমোদিত এবং ১ হাজার ১২৮ অননুমোদিত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং গেট রয়েছে। অনুমোদিত ১ হাজার ৪০৩ গেটের মধ্যে ৩৭১ ম্যান্ড এবং ১ হাজার ৪২ আনম্যান্ড। ঢাকা-টঙ্গী পর্যন্ত ১১টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এ সকল অননুমোদিত এবং আনম্যান্ড লেভেল ক্রসিং গেটের কারণে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মানদ-ে রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব নয়। পাশাপাশি ট্রেনের গতিও বাড়ানো যাবে না। রেল দুর্ঘটনার জন্য লাইনের দুর্বলতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গার্ড ও চালকদের অসতর্কতাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিংয়ের কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে।

জানা গেছে, মূলত তিন কারণে রেল দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এরমধ্যে লেভেল ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার হার অনেক। দুর্ঘটনা মূলত সড়কে চলা বিভিন্ন পরিবহণ চালকদের অসতর্কতার কারণে হয়ে থাকে। এছাড়াও পয়েন্ট সিগন্যাল লাইনে ত্রুটি ও উন্নয়ন কাজ চলা অবস্থায় ট্রেন লুপ লাইন কিংবা সাইড লাইনে গেলে অনেক সময় লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। তৃতীয় কারণের মধ্যে রয়েছে নিউম্যান ফেইলিওর। অর্থাৎ রেলওয়ের সিগন্যাল, গার্ডসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতদের অসতর্কতা কিংবা অবহেলার কারণেও রেল দুর্ঘটনা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে রেল মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে রেল দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন রেল বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিযোগ-রুটিন চেকআপ ছাড়াই চলছে ট্রেন। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে মূল্যবান জীবন হারাতে হচ্ছে। অথচ এর জন্য দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তারা বলেন, প্রতিটি রেলস্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার ১০ মিনিট আগে রেললাইন এবং ইঞ্জিন ও বগির ত্রুটি আছে কিনা তা চেক করার কথা থাকলেও তা কখনোই হয় না বললেই চলে। ফলে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর জন্য জনবল সঙ্কটকেও দায়ী করা হয়। এদিকে ট্রেনের আগে, ড্রাইভার ইঞ্জিন চালানো কথা বললেও তা সময় মতো চলছে না। নির্দিষ্ট দূরত্বে রেলপথের জন্য যে রেল রক্ষী বা মনিটরিং ব্যবস্থা থাকার কথা তা ফেল করেছে বলেও মন্তব্য করেন রেল বিশেষজ্ঞরা।

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, অরক্ষিত রেল ক্রসিং, অপরিকল্পিত সংযোগ সড়ক এবং সচেতনতার অভাবে রেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়াও রেলের সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলোর অব্যবস্থাপনাও দায়ী বলে মনে করেন। শিগগিরই ৭শ রেল ক্রসিংয়ে লোকবল নিয়োগ ও ক্রসিং ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু হবে। রেলের লাইন সাথে বাড়ছে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের নতুন নতুন পথ। কিন্তু যে সড়কগুলো সংযোগ হয়েছে রেল লাইনের ওপর দিয়ে সেটি অরক্ষিত থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, হচ্ছে প্রাণহানি।

বর্তমানে দেশে সর্বমোট রেল ক্রসিং আছে ২ হাজার ৪শ ৯৭টি। এর মধ্যে ১ হাজার চারশ ১২টি বৈধ ও ১ হাজার ৮৫টি অবৈধ। অবৈধ রেল ক্রসিং এর মধ্যে ৪৫২টি রয়েছে স্থানীয় সরকার এর অধীনে ও ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে রয়েছে ৩৬৩টি অবৈধ রেল ক্রসিং। এর মধ্যে লোকবল নিয়োগ দেয়া হয় নি ৯শ ৪৬টিতে। লোকবল না থাকা ও অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং ছাড়াও সংযোগ সড়কের ত্রুটি দুর্ঘটনা ঘটার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬৮৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.