নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯
আসন নিয়ে দরকষাকষি মহাজোটে
পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জোট নেতারা
কাজী মাহফুজুর রহমান শুভ ও সফিকুল ইসলাম
আওয়ামী লীগের কাছে প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে মহাজোট ও ১৪ দলের শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চলছে দর কষাকষি। মহাজোট নয়, ১৪ দলের শরিকদের এবার দেয়া হতে পারে ১৫টি আসন। বিএনপি নির্বাচনে এলে এবং জাতীয় পার্টি মহাজোটে ফিরে এলে তাদেরও দেয়া হতে পারে ৭০টি আসন। গতকাল আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, এবছরের ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এ লক্ষে ইতিমধ্যেই নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ভোট চাইছেন দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাপার শক্তিশালী মনোনয় প্রত্যাশীরা মাঠ চয়ে বেড়াচ্ছেন। বসে নেই ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও। জানা গেছে, নির্বাচনের দিনক্ষন

ঘনিয়ে আসায় এবার জনগণের দোয়ারে-দোয়ারে (পাড়া-মহল্লায়) ভোট চাইছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা। আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধ লড়াইয়ে এরইমধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠ চয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজ নিজ এলাকার আনাচে-কানাচে ওঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন। তৃণমূলের মনজয়ের শেষ চেষ্টা করছে সর্ব শক্তি দিয়ে। এরইমধ্যে মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৭০টি আসন ও ১০/১২টি মন্ত্রণালয় দাবি করেন। তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সাথে শরিক হয়ে থাকতে চাই। তবে ৭০টি আসন আর চাহিদা মতোর মন্ত্রণালয় না দিলে এককভাবে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেয়ার হুমকী দেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

যেসব আসন চাইবে জাপা : একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সমপ্রতি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে ১০০ আসন চেয়ে একটি তালিকা পাঠিয়েছে জাতীয় পার্টি। সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে চাওয়া আসনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বহু আসন রয়েছে। যা শুধু আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টি নয় আগামীতে ক্ষমতায় আসতে মূখ্য নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারে এসব আসন। আওয়ামী লীগের কাছে যেসব ১০০ আসন চেয়ে প্রার্থী তালিকা দিয়েছে জাতীয় পার্টি। এই তালিকায় বর্তমান তালিকায় জাপার ৩৪ সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে। জাতীয় পার্টির চাওয়া আসনগুলো মধ্যে যেমন বিভাগীয় জেলার সদরের আসন রয়েছে। তেমনি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনও দাবি করা হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ তারমধ্যে রয়েছে : ঢাকা-১ আসনে সালমা ইসলাম, ডেমড়া-যাত্রাবাড়ী-কদমতলী মিলিয়ে ঢাকা-৫ আসনে মীর আব্দুস সবুর আসুদ, ঢাকা-৬ আসনে সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ, ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরের প্রধান আসন ময়মনসিংহ-৪ এ রওশন এরশাদ। রংপুর-১ মশিউর রহমান রাঙা, তাজুল ইসলাম চৌধুরী কুড়িগ্রাম-২, এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১, শ্রম প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মজিবুল হক চুন্নু কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে নাসিম ওসমান, সিলেট-৫ আসনে সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৫ আসনে পানি সম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জিয়াউদ্দিন বাবলুসহ অনেকের নাম তালিকায় রয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত দশম সংসদ নির্বাচনের সময় জাপার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কাছে জমা দেয়া ৭০ প্রার্থীর নাম এবারও বহাল আছে। বাকি ৩০ জনের নাম জাপার জোটের শরিক নেতাদের থেকে নেয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এককভাবে ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা তারা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করেছেন। এরমধ্যে সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে ৭০ জনের নাম প্রথম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সমঝোতায় আসন ভাগাভাগি হবে। আওয়ামী লীগের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে সরকার গঠন করবে এরশাদের জাপা। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ১৪ দলের সাথে লড়বে দলটি। শক্তিশালী বিরোধী দলের জায়গায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চায় জাতীয় পার্টি।

এ বিষয়ে জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম এক সদস্য জানান, যেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বদনাম রয়েছে সেখানে জাপার পক্ষ থেকে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দেয়া হতে পারে। অর্থাৎ নিশ্চিত বিজয় হবে এমন পরিকল্পনা থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করবে জাতীয় পার্টি।

সূত্রমতে, গত দশম জাতীয় সংসদ (২০১৪ সাল) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো ৬০ আসনে প্রার্থীতা চাইলেও শেষ পর্যন্ত পেয়েছে ১৮টি। এবার তারা একশ আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে। দশম সংসদ নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টি ৫ আসন চেয়ে পেয়েছিল ৩টি। আগামী নির্বাচনে দলটি ১৫ আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে। অন্যদিকে গত নির্বাচনে ৭টি আসনে নৌকা প্রতীকে লড়াই করা জাসদ এবার দ্বিগুণ আসন দাবি করছে। নির্বাচনের আগেই ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আসন নিয়ে এখন থেকেই দরকষাকষি শুরু করেছে। শরিকরা এবার বিগত বছরের চেয়ে বেশি আসন চান।

এদিকে শরিক সব দলই আগামী নির্বাচনের জন্য তাদের দলীয় প্রার্থীর তালিকাও ইতোমধ্যে তৈরি করে ফেলেছে। বেশিরভাগ দলই নিজস্ব প্রার্থীর তালিকার পাশাপাশি দরকষাকষির জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাও করে রেখেছে। জয়লাভের সম্ভাবনা বিবেচনায় এনেই এসব তালিকা করা হচ্ছে বলে দাবি শরিক দলগুলোর নেতাদের। সব মিলিয়ে ১৪ দলের শরিকরা আগামী নির্বাচনে ৭০ থেকে ৮০টি আসনের নিশ্চয়তা চাইছে আওয়ামী লীগের কাছে। গেল নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে মাত্র ১৬টি আসনে ছাড় দিয়েছিলো আওয়ামী লীগ।

শরীক নেতারা জানান, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আগামী নির্বাচনে অন্তত ১৫টি আসনে জোটের মনোনয়নের নিশ্চয়তা চাইছে। তবে দলের পক্ষে ৩০টি আসনের দলীয় প্রার্থী তালিকা তৈরি করে রাখা হয়েছে। দলের সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের ঢাকা-৮ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশার রাজশাহী-২ আসনসহ বর্তমান সংসদের নির্বাচিত দলীয় ছয় এমপির আসন তাদের প্রত্যাশায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে। একইভাবে জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কুষ্টিয়া-২ ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতারের ফেনী-১ আসনসহ ১৫টি আসন চাইছে দলটি। জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পিরোজপুর-২ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলামের মাদারীপুর-৩ অথবা অন্য যেকোনো আসন এবং তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর চট্টগ্রাম-২ ও মহাসচিব এমএ আউয়ালের লক্ষীপুর-১ আসনসহ ১৫টি আসনের দাবি তুলেছে এ দুই দল। জোটের আরেক শরিক সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার চট্টগ্রাম ১ আসনসহ অন্তত ছয়টি আসন চায়। গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলীর সিলেট-১ আসনসহ ১০টির বেশি আসনে মনোনয়নের নিশ্চয়তা চায়। কমিউনিস্ট কেন্দ্র চাইছে দলের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. অসীত বরণ রায়ের জন্য দুইটি আসন। এছাড়া ন্যাপ, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি এবং বাসদসহ শরিক অন্য দলগুলো মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে 'যথাযথ মূল্যায়ন' আশা করছে আওয়ামী লীগের কাছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ দলীয় জোটের শরিক একজন নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ একটু সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলে তখন শরিক দলের নেতাদের ভুলে যায়। আর যখন বিপদে পড়ে তখন তাদের কথা মনে পড়ে। আগামী নির্বাচনে তাদের কৌশল কি হবে তা নিয়ে শরিকদলগুলো শঙ্কায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। আরেকজন নেতা বলেন, শরিক নেতাদের মধ্যে কয়েকজন সুবিধা পেয়ে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন। এতে করে অন্য দলের নেতারা খুবই ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে তরিকত ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এমএ আউয়াল বলেন, সমস্যা তো দলের ভেতরেও থাকে, জোটে থাকা তো অস্বাভাবিক না। অনেকের মনে কষ্ট থাকতে পারে সেটা তাদের বিষয়। তবে আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতাকা তলে ঐক্যবদ্ধ।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১৯
ফজর৩:৫৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১২
সূর্যোদয় - ৫:২২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০৭৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.