নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ৪ বৈশাখ ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৩৯
টুপি ফারুকের কাছে জিম্মি ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য বিভাগ
নিয়োগ ও বদলিসহ সবই হচ্ছে টাকায়
স্টাফ রিপোর্টার
মুকুটহীন এক সম্রাটের কাছে জিম্মি ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের সবাই থাকেন নানা আতঙ্কে। কেননা, হাসপাতালে কর্মচারী নিয়োগ থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের বদলি, বদলি ঠেকানো ও ইনজুরি সার্টিফিকেট বাণিজ্যের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। যার অদৃশ্য ইশারার এসব হচ্ছে তিনি আর কেউ নন এএইচএম ফারুক ওরফে টুপি ফারুক। যিনি ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং স্বাচীপের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজের সহোদর ভাই। সে কারণেই ভাইয়ের নাম ভাঙিয়ে নানা কুর্কীতি করে অনিয়মের মাধ্যমে গিলে খাচ্ছে গোটা স্বাস্থ্য বিভাগ। কথামত কাজ না করায় হাসপাতাল পরিচালককে কিছুদিনের মধ্যেই সরিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও চিকিৎসক মহলে প্রচার করছে টুপি ফারুক।

নানা অপকর্মে গত এক বছরে তিনি টাকার কুমির বনে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালসহ স্বাস্থ্য সেক্টরে খাবার ও পথ্য সরবরাহ, ওষুধসহ সামগ্রী সরবরাহ এবং বিভিন্ন নির্মাণ কাজে খবরদারি

করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্বাচীপ ও বিএমএ নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত ক্ষমতাধর ফারুকের কাছে আত্মসমর্পণ করে সুবিধার ভাগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, দৃশ্যমান কোনো আয় রোজগার না থাকলেও টুপি ফারুক গত এক বছরে ময়মনসিংহের স্বাস্থ্যখাত নিয়ন্ত্রণ করে নগরীর পুরহিত পাড়ায় ৬৭ লাখ টাকায় কেনা সাড়ে চার শতক জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ ও একাধিক গাড়িসহ শতকোটি টাকার মালিক বনেছেন। কোটি কোটি টাকার মালিক অথচ দিতে হচ্ছে না আয়করও।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ফারুকের আবদার রক্ষা না হলে নানাভাবে হাসপাতাল ও কলেজ অচলের হুমকি দেয়। উস্কে দেয়া হয় ইন্টার্ণ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের। পরিস্থিতি ঘোলাটে করে প্রতিনিয়ত ফায়দা হাসিল করার চক্রান্তে লিপ্ত থাকেন তিনি। মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে নানা ইস্যু নিয়ে আন্দোলনকে উস্কে দেয়ার নেপথ্যে মূল হাত তারই। সরকারের স্থানীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও রয়েছে টুপি ফারুকের কুকীর্তির এসব খবর। এ নিয়ে ময়মনসিংহ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজের মনোনয়ন নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছেন দলের হাইকমান্ড।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, 'টুপি ফারুক' নামটি গোটা ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এক মূর্তিমান আতঙ্ক। কেননা, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীসহ কর্মচারীদের বদলিসহ সবকিছুই হচ্ছে টুপি ফারুকের নিয়ন্ত্রণে। অদৃশ্য ইশারায় তারই ইচ্ছেমতোই চলছে সবকিছু। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বদলিসহ আউট সোর্সিং ও সিকিউরিটি সার্ভিসে লোকবল নিয়োগে 'ভবিষ্যতে সরকারিভাবে স্থায়ীকরণ করা হবে' আশ্বাস দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। প্রচার রয়েছে, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং ও সিকিউরিটির আওতায় রাহাত, আলী, আজাহারুল, বলাই ঘোষ, শাহজাহান মিয়া, মামুন, সামাদসহ এরকম অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা হারে প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ফারুক। হাসপাতালের খাবারের ঠিকাদার থেকে প্রতি মাসে নগদ দেড় লাখ টাকা, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কেন্টিন পরিচালকের থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকা করে বখরাও নিচ্ছে এই টুপি ফারুক। এছাড়াও ৪র্থ শ্রেণীর কেন্টিনের ঠিকাদার সুলতানকে নগদ ৭ লাখ দিতে হয়েছে কেন্টিন রক্ষায়। ৪র্থ শ্রেণীর এই কেন্টিন আরেকজনকে দেয়া হবে বলে হুমকি দিয়ে এই অর্থ আদায় করে ফারুক। হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার, কনসালটেন্ট, আরপি, আরএস, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সিএ, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসকদের বদলি বাণিজ্যের সাথেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে অসংখ্য। চিকিৎসকদের প্রতিটি বদলির ঘটনায় নগদ ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা লেনদেন করতে হচ্ছে ফারুকের পুরহিত পাড়ার বাসায় গিয়ে।

গত এক বছরে ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগে চিকিৎসকসহ ৪০০ জনের বদলির ঘটনা ঘটেছে বলে স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক জানান। স্থানীয়দের দাবি বদলির এই সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বদলির ঘটনায় বেপরোয়া ফারুক অন্তত অর্ধশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ফারুক প্রথম দিকে ডা. জহির ও ডা. মুন-এর মধ্যস্থতায় বদলি বাণিজ্য করলেও পরে তাদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ার নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে এখন এই কাজের দায়িত্ব দিয়েছে ডা. খুরশেদকে। বদলির প্রতিটি ঘটনায় ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদের মাধ্যমে হচ্ছে এই লেনদেন। হাসপাতালের ইনজুরি সার্টিফিকেট বাণিজ্যের সাথেও রয়েছে ফারুকের আঁতাত। বিভিন্ন ওয়ার্ডের সিএদের বদলির হুমকি দিয়ে আদায় করছে চাহিদার ইনজুরি সার্টিফিকেট। বদলি ঠেকাতেও বহু চিকিৎসক ফারুকের সাথে যোগাযোগ করে আগাম নগদ অর্থ লেনদেন করে রেখেছেন বলে প্রচার রয়েছে।

এসব নানা কারণে ক্ষমতাধর ফারুককে হাসপাতালের চিকিৎসকরাসহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও বিএমএ নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত তাকে সমীহ করে চলেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বদলির জন্য ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের নেতৃত্বে একটি কমিটি রয়েছে। টুপি ফারুক এই কমিটির কোনো সদস্য না হলেও প্রতিটি বদলির সভায় তার তালিকার একটি সিস্নপ যাচ্ছে। এই সিস্নপ ধরেই বদলি করা হচ্ছে। সর্বশেষ একটি আদেশে ২১ জনকে বদলি করার ১৪ দিনের মাথায় ২০ জনের বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিটি বদলির আদেশেই ঘটছে এরকম স্থগিতাদেশের ঘটনা। প্রচার রয়েছে একবার বদলির আদেশ জারি করিয়ে এবং আরেকবার আদেশ স্থগিত করিয়ে এই ফারুক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব করেই গত এক বছরে এক সময়কার কপর্দকহীন টুপি ফারুক এখন টাকার কুমির বনে গেছেন। স্বাচীপের কেন্দ্রীয় মহাসচিবের ভাই এমন পরিচয়ের কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের কেউই তার অপকর্ম ও দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না। ফারুকের দাপট নিয়ে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক নেতা বলেন, নিজের ভাই এমপি হতে পারেন, এই ধারণা থেকেই ফারুক যে দাপট শুরু করছে। তার ভাই এমপি হলে ফারুকের কারণে এ শহরে চিকিৎসক কেন কারোই কোনো মূল্যায়ন থাকবে না। আরেকজন নেতা বলেন ডা. আজিজের শুরুতে ক্লিন ইমেজ ছিল। এখন তার ভাইয়ের কারণে সেই ক্লিন ইমেজ আর নেই। দলীয় হাইকমান্ড থেকে ডা. আজিজের ব্যাপারে এখন আর তেমন আগ্রহ নেই বলে জানা গেছে।

স্থানীয় চিকিৎসকদের একাধিক সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ক্ষমতাধর রাজনীতিক ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ও তার পরিবার কিংবা আমিনুল হক শামীম পরিবারের সদস্যদের দ্বারা কোনো চিকিৎসক নির্যাতিত হয়নি অথচ কেবল স্বাচীপ নেতার ভাই- এমন পরিচয়ে টুপি ফারুক দাবরিয়ে বেড়াচ্ছে। ময়মনসিংহের স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন বিষয়টি নিয়ে এখই ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ জরুরি। আর ময়মনসিংহের সচেতন ব্যক্তিরা আশা করছেন প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৮৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.