নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪২০, ২৬ রবিউস সানি ১৪৩৫
মুলাদী হতে পারে বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র
এস এম জহিরুল ইসলাম
বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলা একটি ঐতিহাসিক স্থান। এর অবস্থান বরিশাল জেলার উত্তর সীমান্ত ঘেষে। মুলাদী উপজেলার উত্তর সীমান্তে জয়ন্তী নামে একটি নদী রয়েছে, সেই নদীটি পার হলেই উত্তর-পশ্চিম কোণে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলা, সোজা উত্তর দিকে শরীয়তপুর জেলার ঘোষাইরহাট উপজেলা, পূর্ব সীমান্তে চাঁদপুর জেলা হাইমচর উপজেলা। মুলাদী উপজেলাটি বিভিন্নভাবে ঐতিহাসিক। এই উপজেলার চারপাশ দিয়ে বয়ে গেছে নয়া ভাংগনী ও ছৈলা নদী। মুলাদী উপজেলার মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ৭টি। পৌরসভা রয়েছে ১টি। এখানে শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে ১টি কলেজ ও পর্যাপ্ত পরিমাণে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যাতায়াতের দিক থেকে মুলাদী একটি সহজগম্য এলাকা। মুলাদী যেতে হলে ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি কাজল, এমডি মানিক, এমডি জলতরঙ্গ, এমডি নিউসান-৪, এমভি মর্নিং সান লঞ্চে মুলাদী বন্দরে পৌঁছা যায়। এছাড়াও ঢাকার সায়েদাবাদ, গাবতলী থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাসে রহমতপুর অর্থাৎ বরিশাল বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে লোকাল বাস, টেম্পো অথবা মোটরসাইকেলে মীরগঞ্জ ফেরি পার হয়ে মুলাদী সদরসহ প্রতিটি ইউনিয়নে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সরাসরি লঞ্চে বরিশাল শহরে নেমে নতুল্লাবাদ গিয়ে লোকাল বাসে মুলাদী যাওয়া যায়। মুলাদী রাত্রি যাপন নিয়েও পর্যটকদের কোনো চিন্তা করতে হবে না। মুলাদীতে উপজেলা সদরেই রয়েছে জেলা পরিষদের সুন্দর একটি ডাকবাংলো। এছাড়াও ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে এখানে। খুব অল্প ভাড়ায় এখানে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। যারা সাংবাদিক, কবি, লেখক তারা মুলাদীতে বেড়াতে গেলে পূর্ব থেকে মুলাদী প্রেসক্লাব, মুলাদী রিপোর্টার্স ইউনিটি, স্থানীয় আরজেএফ'র সাথে যোগাযোগ করে গেলে তাদের অতিথি হিসাবেই আপনারা মুলাদীর দর্শনীয় স্থানগুলো উপভোগ করতে পারবেন। মুলাদীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা পর্যটকদের মোটরসাইকেলযোগে দর্শনীয় প্রতিটি স্থান ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করবে। এছাড়াও মুলাদী উপজেলা সদর থেকে বরিশাল শহর মাত্র ১ ঘণ্টার পথ। আপনি ইচ্ছে করলে সারাদিন মুলাদীর ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে বরিশাল শহরে রাত্রী যাপন করতে পারবেন।

কি দেখবেন মুলাদীতে : মুলাদী সদরে যে বন্দরটি অবস্থিত তার নাম মুলাদী বন্দর, একটি বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যর এটি ঐতিহ্যবাহী বন্দর। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সর্ববৃহৎ বন্দর হলো মুলাদী বন্দর। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কাঠের আড়ত এই বন্দরে।। আপনি সুলভমূল্যে এখানে থেকে যে কোনো ধরনের কাঠ কিনতে পারবেন। মুলাদী বন্দরের চারপাশ ঘিরে নদী। আপনি ঘুরে দেখলে ভালো লাগবে। ভাড়া করা নৌকা, ট্রলার বা স্প্রিট বোটে আপনি এসব নদী ঘুরতে পারেন। মুলাদী উপজেলার পাতারচর গ্রামে গেলে আপনি স্বচক্ষে দেখতে পারবেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি'সহ হাজারো গানের সুরকার, গীতিকার শহীদ আলতাফ মাহমুদের জন্মস্থান। সেখানে রয়েছে তার শিশুকাল, যৌবনের অনেক স্মৃতি। ঐ পাতারচর গ্রামেই রয়েছে তার নামে প্রতিষ্ঠিত 'শহীদ আলতাফ মাহমুদ হাইস্কুল' শহীদ আলতাফ মাহমুদের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ সিরাজুল হক মন্টু। তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। কিন্তু মুলাদীর ঐ পাতারচর গ্রামে মিশে আছে তার জীবনের অনেক স্মৃতি। মুলাদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের পাশেই রয়েছে সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী সিরাজুল হক মন্টুর কবর, পাশেই রয়েছে তার নামে প্রতিষ্ঠিত সিরাজুল হক মন্টু স্মৃতি সংসদ। ঐ স্মৃতি সংসদে গেলে তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারবেন। সেখানে সিরাজুল হক মন্টুকে নিয়ে লেখা অনেক বইপত্র ও তার স্মৃতি বিজরিত অনেক কিছু রয়েছে। সিরাজুল হক মন্টু স্মৃতি সংসদেও দায়িত্বে রয়েছে তারই সুযোগ্য ভাতিজা সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান হুমায়ুন। ঐ একই পরিবারের আরেক কৃতি পুরুষ আলহাজ মোশারফ হোসেন মঙ্গু। তিনি বরিশাল-৩ (মুলাদী হিজলা) আসন থেকে ৪ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পাতারচর গ্রামসহ মুলাদী উপজেলা সদরে মোশাররফ হোসেন মঙ্গুর বাড়ি রয়েছে। পর্যটকরা ইচ্ছা করলে সেই বাড়ির আতিথেয়তা গ্রহণ করতে পারেন। মুলাদী উপজেলা সদরে ঘুরে আপনি দেখতে পারবেন ঐতিহ্যবাহী মুলাদী ডিগ্রি কলেজ, মুলাদী ইসলামিয়া মাদ্রাসা, সুসজ্জিত মুলাদী উপজেলা পরিষদ, শহীদ আলতাফ মাহমুদ অডিটোরিয়াম, মুলাদী স্টেডিয়াম ও মামুন সিনেমা হল। স্টেডিয়ামের পাশেই রয়েছে মুলাদী পুলিশ স্টেশন। প্রয়োজনে আপনি সেখান থেকে পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন। মুলাদী পৌর এলাকা ঘুরে দেখার পর আপনি সেখান থেকে বাস, টেম্পো বা মোটরসাইকেলে চলে যেতে পারেন গাছুয়া গ্রামে। সেখানে গেলে দেখতে পারবেন ঐতিবাহী জমিদার বাড়ি। যা মিয়া বাড়ি নামে পরিচিত। সেখানে জমিদারদের পুরনো স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্মৃতি রয়েছে। রয়েছে গাছুয়া আব্দুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছোট্ট একটি খালের উপর পুল পেরুলেই হোসনাবাদ কলেজ। এই জায়গাটি মুলাদী-মৃধারহাট রাস্তার উপর। এখান থেকে সোজা চলে যেতে পারেন মৃধারহাট। এখানে রয়েছে পদ্মার শাখা নদী। ঐ পারেই শরীয়তপুর ও চাঁদপুরের মোহনা। আপনি এখান থেকে চলে যেতে পারেন চরকালেখান গ্রামে। সেখানে আপনি শুনতে পারবেন আলহাজ জামশেদ আলী তালুকদারের জীবন ও কর্মের বিচিত্র্য কাহিনী। এই জামশেদ আলী তালুকদারের অক্লান্ত পরিশ্রমেই এখানে গড়ে উঠেছে চরকালেখান নেছারিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, চরকালেখান আদর্শ হাইস্কুল, চরকালেখান আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ অসংখ্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পর্যটকরা ইচ্ছা করলে এখানে তালুকদার বাড়িতেও আতিথেয়তা গ্রহণ করতে পারেন। চরকালেখান ইউনিয়ন ঘুরে আপনি চলে যেতে পারেন নাজিরপুর ইউনিয়নে। সেখানে গিয়ে আপনি আশ্চর্য হয়ে যাবেন যে, একটি চর অধুষ্যিৎ এলাকায় এই পরিবেশ সৃষ্টি হলো কি করে। আপনি যেখানে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নাজিরপুর হাইস্কুল, দেখতে পারবেন এলাকায় উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান নাজিরপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজ। এখানে এসএসসি ও পিএসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। আপনি নাজিরপুর ইউনিয়ন ঘুরে চলে যাবেন বাটামারা ইউনিয়নে। সেখানে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কুমার সমপ্রদায়। নিজ চোখে দেখতে পারবেন মাটি দিয়ে হাঁড়ি, পাতিল বানানোর দৃশ্য। এ ছাড়াও এখানকার সেলিমপুর গ্রামে দেখবেন ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। সেখানে হস্তচালিত তাঁতের মেশিনে তৈরি হয় গামছা ও লুঙ্গি। এসব এলাকা ঘুরেফিরে আপনি চলে আসবেন সফিপুর ইউনিয়নে। সেখানে দেখতে পাবেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কুদ্দুস মোল্লা বীর বিক্রম এর স্মৃতি বিজরিত জন্মস্থান। শুনতে পারবেন তার জীবনের আশ্চর্যজনক কিছু ঘটনা। সেখানে আপনি প্রবীণ সংবাদিক এস এ গফুর মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা নিতে পারেন। যারা মুলাদীর বিভিন্ন ইতিহাস ঐতিহ্য জানতে যাবেন, তারা যেতে পারেন উপজেলার কাজিরচর গ্রামে। সেখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী খাসেরহাট বন্দর। এখানে গেলে দেখতে পারবেন একই পরিবারের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩ জন শাহজাহান হাওলাদার, আমির হোসেন লালু পালোয়ান ও চুন্নু মোল্লার কবর। জানতে পারবেন মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকার কথা। আপনি সেখানে গেলে আলোকিত জমিদার সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদউদ্দিন মৃধার জীবন ও কর্ম নিয়ে ইতিহাস শুনতে পারবেন দেখতে পারবেন তার রেখে যাওয়া স্মৃতি। এরপর আপনি চলে যাবেন দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামে। সেখানে গেলে দেখতে পারবেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আরিফ মাহমুদের সুসজ্জিত বাড়ি ও তার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি স্যুটিং স্পষ্ট। পাশেই রয়েছে আরিফ মাহমুদ ডিগ্রি কলেজসহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে রয়েছে প্যাদারহাট বন্দর। যে বন্দরে সপ্তাহে চারদিন হাট বসে। মুলাদী-হিজলা ব্রিজ পেরিয়ে ওপারে গেলে দেখতে পারবেন হিন্দু জমিদার, ঐতিহাসিক ধনুসিকদার বন্দরসহ অনেক দর্শনীয় স্থান।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দরকার : লেখায় যেসব স্থানের কথা উল্লেখ করলাম তাছাড়া মুলাদীতে প্রচুর ঐতিহ্যবাহী এলাকা ও নির্দশন রয়েছে। মুলাদী নদী বেষ্টিত উপজেলা হওয়াতে বড় সমস্যা হলো, প্রতি বছরই কোনো না কোনো গ্রাম বিলীন হয় নদীগর্ভে। আবার নতুন নতুন চর পড়ে। বর্তমানে মুলাদী উপজেলা অনেক অনাবাদী চর পড়ে রয়েছে। সরকার যদি ঐসব এলাকা চিহ্নিত করে একটি পর্যটন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন তা হলে দেশ-বিদেশি পর্যটরা এখানে এসে স্বস্তিতে কিছু সময় কাটাতে পারবেন। মুলাদী উপজেলা ইতিহাস ঐতিহ্য জানতে পারবেন। সাথে সাথে মুলাদী উপজেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী, তাদের কর্ম এবং রেখে যাওয়া স্মৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে। নতুন প্রজন্মের কাছে মুলাদী হবে একটি আলোকিত স্থান। এ ব্যাপারে সরকারের সাথে সাথে স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ও আগ্রহী ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে আসতে পারেন। মুলাদী পর্যটন কেন্দ্র হলে সেখান থেকে সরকার যেমন রাজস্ব পাবেন তেমনি উদ্যোক্তরা ব্যবসায়ী কাজে লাভবান হবেন।

এস এম জহিরুল ইসলাম : লেখক


Fatal error: Uncaught exception 'PDOException' with message 'SQLSTATE[HY000]: General error: 26 file is encrypted or is not a database' in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php:7 Stack trace: #0 /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php(7): PDO->query('Update newsHitC...') #1 /home/janata/public_html/lib/index.php(135): require('/home/janata/pu...') #2 /home/janata/public_html/web/details.php(10): lib->newsHitCount() #3 /home/janata/public_html/web/index.php(28): include('/home/janata/pu...') #4 /home/janata/public_html/index.php(15): include('/home/janata/pu...') #5 {main} thrown in /home/janata/public_html/lib/newsHitCount.php on line 7