নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
তুমব্রু সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মায়ানমার
রোহিঙ্গা সঙ্কটে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কক্সবাজারের ১৩ লাখ মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান প্রতিনিধি ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের নোম্যানসল্যান্ডে অবস্থানকারী সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে মায়ানমার। মায়ানমারের প্রতিনিধিদলের সাথে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ প্রস্তাব দেয়া হয়। অপরদিকে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডবিস্নউএইচও।

জানা গেছে, মায়ানমারের ঢেকিবুনিয়া সীমান্তের তংপিও লিতওয়ে নামক স্থানে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে দুই ঘণ্টা চলে বৈঠকটি। ফিরে এসে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক সাংবাদিকদের বলেছেন, নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের নোম্যানসল্যান্ডে অবস্থানকারী সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে আশ্বাস দিয়েছেন মায়ানমার। এটি জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক ছিল বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। এ দলে আরও ছিলেন বিজিবি কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আব্দুল খালেক, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসকসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা। মায়ানমারের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মংডুর ডেপুটি কমিশনার ইউ ইয়ে হুড, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা, পুলিশ, বিজিপি ও গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, যেহেতু তুমব্রু নোম্যানসল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশে প্রবেশ করেনি, তাই আমরা সেখানে অবস্থানকারী সাড়ে ৬ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে বিজিপির কাছে প্রস্তাব রাখি। আমাদের এ প্রস্তাব তারা চিন্তা ভাবনা করে দেখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখনই নেয়ার ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত তারা দেয়নি। তবে বাকি রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এ বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

অপরদিকে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত ঐ সংস্থা জানিয়েছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাংলাদেশিরা মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। উদ্বাস্তু ও স্থানীয় জনগণকে যথাসম্ভব ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন হু'র আঞ্চলিক প্রধান। তবে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী আর স্থানীয় জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মায়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ। তাদের বেশিরভাগই মূলত কুতুপালং, বালুখালির মতো স্থানে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকলেও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সাথেও প্রায় ৭৯ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মায়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।

ডবিস্নউএইচও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বর্ষাকালের আবহাওয়া, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় ডায়রিয়া ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগ এবং ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে তুলবে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম চালু করেছে। এতে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগেই দ্রুত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে তারা।

ডবিস্নউএইচও'র ধারণা, আগামী বছরে আনুমানিক ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে। তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার দরকার পড়বে। এছাড়া সাধারণ আঘাতের চিকিৎসাসহ হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের জন্যও চিকিৎসাসেবার বন্দোবস্ত করা দরকার। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাও তাদের জন্য প্রয়োজনীয়। সুস্থতার পূর্বশর্তগুলো নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ক্ষেত্রপাল বলেন, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বাসস্থানের সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এরকম পরিবেশে খুব সহজেই সংক্রামক ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিরুপায় হয়ে শরণার্থীদের বাংলাদেশে আসার ছয় মাস পরে গত সোমবার ডবিস্নউএইচও'র কাছ থেকে এই পরামর্শ এলো। তারা বলছে, ঝুঁকির মধ্যে থাকা কক্সবাজারের জনগোষ্ঠী এখনও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো পাওয়াও তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ডবিস্নউএইচও'র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিচালক পুনাম ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কলেরা, হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যাও সামনে আসছে। সমস্যাকে পাহাড় সমান আখ্যা দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, নতুন করে সৃষ্টি হওয়া সঙ্কট মোকাবিলায় ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন পড়বে দাতাদের বাড়তি সহযোগিতার। তাদের সহায়তায় ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ৬
ফজর৫:০৭
যোহর১১:৫০
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:২৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৮০৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.