নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
ডিসিসিআই আয়োজিত সেমিনারে বিশিষ্টজন
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে নদীপথের উন্নয়নের বিকল্প নেই
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে টেকসই নদীপথের উন্নয়নের বিকল্প নেই জানিয়ে বিশিষ্টজনরা বলেছেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি এবং এক্ষেত্রে নৌপরিবহণ খাতের অবস্থান আরো নাজুক। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'র (ডিসিসিআই) উদ্যোগে আয়োজিত 'আভ্যন্তরীণ নৌপথ : আর্থিক সম্ভাবনার সুযোগ' শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। বিশিষ্টজনরা বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও আমরা আমাদের নদীপথের ব্যাপারে বরাবরই উদাসীন ছিলাম এবং নৌপরিবহণের জন্য মোট নদীপথের ৬ ভাগের ১ ভাগ অংশে প্রয়োজনীয় নাব্যতা রয়েছে। বন্দরসমূহে পণ্য খালাস ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংগ্রহের সময় বাঁচানো সম্ভব হলে আমাদের ব্যবসায় ব্যয় অনেকাংশে হরাস পাবে। দেশের প্রধান বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বন্দরের স্টোরেজ ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং বন্দরের সেবা প্রদানে দক্ষতা বাড়ানো একান্ত আবশ্যক। সরকার পাঁনগাঁও এবং পায়রাবন্দর স্থাপনের মাধ্যমে দেশের নৌপথের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে পাঁনগাঁও বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতায় ৩টি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২টি, বিআইডবিস্নউটিসি'র ৩টি এবং বেসরকারি মালিকানায় ৫০টি জাহাজ পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। মংলাবন্দর দীর্ঘদিন যাবৎ পরিচালিত হলেও বড় জাহাজের কন্টেনার হ্যান্ডলিং-এর জন্য এখন পর্যন্ত এখানে কোনো ক্রেন নেই।

তারা বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি মালিকানায় পরিচালিত বন্দরসমূহের সুষ্ঠু বিকাশে নীতিমালা ও আইন প্রণয়নের উপর জোরারোপ করতে হবে। পণ্য খালাসে জটিলতা ও ব্যয় হরাসে গভীর সমুদ্র এলকায় ভাসমান বন্দর স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে বহু আগে থেকেই। একইসঙ্গে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণে শিল্পকারখানা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা আরো সম্প্রসারণের জন্য দেশের ব্যবসায়ী মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় কম। এসময় তারা আভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর সব ধরনের কার্গো হ্যান্ডলিং-এর সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং এ বিষয়ক প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সংস্কারের উপর আহ্বান জানান। এছাড়াও তারা 'ন্যাশনাল মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি' নামে একটি কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের বেশি রয়েছে, তবে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় নীতিমালার সংস্কার করা হলে প্রবৃদ্ধির এ ধারাকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হতে ৯ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এজন্য আমাদের সকল সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং স্থলবন্দরসমূহের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিয়োজিত মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের উপর বিশেষভাবে জোরারোপ করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের সাথে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যকরভাবে চালু করতে হলে ভারতের সাথে এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা প্রয়োজন। ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে আয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই বরং আমাদের বন্দরের পাশাপাশি সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধি পাবে। এসময় তিনি দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাসের জন্য কাস্টম অধিদফতরের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা আরও বাড়ানোর উপর জোরারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বিশেষত চট্টগ্রাম বন্দর হতে কন্টেইনার পরিবহণে আমরা সড়ক ও রেলপথের উপর বেশিমাত্রায় নির্ভরশীল। তবে এক্ষেত্রে নৌপথ ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে সময় এবং ব্যবসায় ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। আমরা প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহের সাথে নৌপথ ও সমুদ্রবন্দরসমূহের সাথে যোগযোগ বাড়াতে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদের নৌ-মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান নূর-ই-আলম চৌধুরী, ঢাকা চেম্বারের আহ্বায়ক ও সামিট এ্যালায়েন্স পোর্ট লিমিটেড-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির রিজভী, ডিসিসিআই'র প্রাক্তন সভাপতি হোসেন খালেদ, মায়ার্স্ক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর কান্ট্রি অপারেশন্স ম্যানেজার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম চৌধুরী, ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির, পরিচালক হোসেন এ সিকদার, ইমরান আহমেদ, খন্দ, রাশেদুল আহসান প্রমুখ।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৭৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.