নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
নিজেদের গৌরবগাঁথা নিজেদেরই সংরক্ষণ করতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার
নিজেদের গৌরবগাঁথা নিজেদেরই সংরক্ষণ ও প্রচার করতে হবে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় একুশে পদকপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিভিন্ন ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলো তুলে ধরতে হবে। আমাদের জামদানি রয়েছে, সেটির অধিকার কেড়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে। আমরা সে অধিকার ফিরে পেয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি পেয়েছি। নকশীকাঁথা ও সিলেটের শীতল পাটির স্বীকৃতি মিলেছে। এগুলো আমাদের অর্জন। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচার করতে হবে। স্বাধীনতার অর্জন যেন কোনোভাবেই নস্যাৎ না হয় সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্বের দরবারে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে সবার সহযোগিতা দরকার। এছাড়া আগামী প্রজন্মের কাছে দেশের ঐতিহ্য তুলে ধরতে আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ইতিহাসও বিকৃতি করা হয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে যে মর্যাদা পাওয়ার কথা ছিল তা হারাতে বসেছিলাম। কারণ, ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা করা হয়। অনেক সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যেন নিজেদের ভাষা ও ঐতিহ্যকে ভুলে না যাই। তবে বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে নতুন ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তারপরও নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি ঠিক রেখে এগিয়ে যাওয়া যায়। তিনি বলেন, জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমিও প্রতিবছর বাংলায় ভাষণ দেই। এখন বিশ্বের অনেক দেশ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে। এছাড়া বিভিন্ন ভাষা নিয়ে গবেষণা ও সংরক্ষণ করতে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করি। তবে বিএনপি-জামায়াত সরকার সেটা বন্ধ করে দেয়। এ সময় তিনি শীতল পাটি ও নকশিকাঁথার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণেরও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা তুলে ধরেন, যা বাঙালি জাতির জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের গৌরব সংরক্ষণ করতে হবে আগামী প্রজন্মের জন্য। এসব গৌরব ও সংস্কৃতি আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমরা সবসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। যে বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে জর্জরিত ছিল তা থেকে আমরা অনেকটা মুক্তি পেয়েছি। আমরা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে থাকতে চাই। সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। বাংলা নববর্ষ পালনের স্বীকৃতি কিন্তু এমনি এমনি আসেনি। এর জন্য আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে হয়েছিল। তিনি বলেন, পাকিস্তানের কিছু প্রেতাত্মা এদেশে এখনও রয়ে গেছে। যার কারণে আমাদের ভাষা, উন্নয়নের প্রতি আঘাত আসে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এখন আমাদের কেউ অবহেলা করতে পারে না। নিজেদের প্রচেষ্টায় আমরা বিশ্বে একটা মর্যাদা পাচ্ছি। আমাদের শিল্প, সাহিত্য ও কলাকুশলীদের খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসা এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া আমাদের দায়িত্ব- যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে পারে। প্রসঙ্গত, ২১ জনকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। যাদের মধ্যে সমাজসেবায় এবার সম্মানজনক এই পদক পাচ্ছেন নিরাপদ সড়কের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস কাঞ্চন। ভাষা আন্দোলনে প্রয়াত আ জ ম তকীয়ুল্লাহর সাথে একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন অধ্যাপক মির্জা মাজহারুল ইসলাম। প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদিকে (হুমায়ূন কামরুল ইসলাম) অভিনয়ের জন্য পদকে ভূষিত করা হয়েছে। সংগীতে পদক পাচ্ছেন শেখ সাদী খান, সুজেয় শ্যাম, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মো. খুরশীদ আলম ও মতিউল হক খান। নৃত্যে মীনু হক, নাটকে নিখিল সেন (নিখিল কুমার সেনগুপ্ত), চারুকলায় কালিদাস কর্মকার এবং আলোকচিত্রে গোলাম মুস্তাফা এবার একুশে পদক পাচ্ছেন। সাংবাদিকতায় রণেশ মৈত্র, গবেষণায় প্রয়াত ভাষাসৈনিক অধ্যাপক জুলেখা হক, অর্থনীতিতে মইনুল ইসলাম, ভাষা ও সাহিত্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম খান (কবি হায়াৎ সাইফ), সুব্রত বড়ুয়া, রবিউল হুসাইন ও মরহুম খালেকদাদ চৌধুরী পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৮৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.