নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
বিএনপি'র গঠনতন্ত্র নিয়ে সমালোচনামুখর আ'লীগ
সফিকুল ইসলাম
বিএনপি'র একটি প্রতিনিধিদল গত ২৮ জানুয়ারি দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। সংশোধনীতে গঠনতন্ত্রের ৭(ঘ) ধারা বাদ দেয়া হয়। বিএনপি'র গঠনতন্ত্রের ৭(ঘ) নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত কোনো ব্যক্তি দলের যে কোনো পর্যায়ে কমিটির সদস্য বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

বিএনপির গঠনতন্ত্রে ৭(ঘ) ধারা বাদ দেয়ার পর পর বিভিন্ন সভা/সেমিনারমুখর হয়ে উঠে সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা। এ সুযোগ হাতছাড়া করেননি আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এদিকে বিএনপি'র গঠনতন্ত্র নিয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির এই মহাসচিব আওয়ামী লীগ নেতাদের নিজেদের চরকায় তেল দিতেও পরামর্শ দেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ আলোচনা সভার আয়োজক ২০ দলীয় জোটের শরিক দল ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)। প্রশ্ন রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, গঠনতন্ত্র আমাদের দলের। অথচ ঘুম হারাম আপনাদের। আমরা কাকে চেয়ারপারসন করলাম, কি করলাম না; তা নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন? তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হয়েছেন। গঠনতন্ত্রেই আছে- চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করবেন তারেক রহমান। বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপিকে নিয়ে এত না ভেবে নিজের পার্টির অবস্থা দেখুন। ক্ষমতায় না থাকলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন, সেটি চিন্তা করে দেখুন।

এদিকে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭(ঘ) ধারা বাদ প্রসঙ্গে সোমবার গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির একটি গঠনতন্ত্র আছে। আমি জানি না আপনাদের কাছে সেটা আছে কি না। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির গঠনতন্ত্র কি আছে সবার কাছে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র কিন্তু আসলে খোঁজেও পাওয়া যায় না। আপনারা যদি তাদের গঠনতন্ত্রটা পড়েন আর পজিশনের লোক গুণে দেখেন দেখবেন গঠনতন্ত্র মানা হয় না। ওটার ধারও কেউ ধারে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা সুবিধা তাদের (বিএনপি) গঠনতন্ত্রে আছে যিনি চেয়ারপারসন, তার হাতে সব ক্ষমতা। যে ক্ষমতা আমারও নেই। অর্থাৎ আমাদের গঠনতন্ত্রে নেই। আমাদের গঠনতন্ত্রে ক্ষমতা প্রেসিডিয়াম ও কার্যকরী কমিটির হাতে। চূড়ান্ত ক্ষমতা নেবে আমাদের কাউন্সিল। শেখ হাসিনা বলেন, কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ সংশোধন করে দিল। দুর্নীতি, ফৌজদারি কার্যবিধি বা মামলায় আসামি হলে দলে থাকতে পারবে না। সেটা তারা সংশোধন করে নেয়। একইদিন ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, যখন মামলার রায় হবে, তখন মিউ করে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। কীভাবে বের হলো, রাতের অন্ধকারে এক কলমের খোঁচায় বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা নির্বাসনে চলে গেল! 'ফখরুল সাহেব বলুন, রাতের অন্ধকারে ৭ ধারা কোথায় পাঠালেন? সকালে তিন সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দল ইসির কাছে পাঠালেন। তাহলে কি আদালতের রায় ইসির ইচ্ছা অনুযায়ী হবে? ইসি কি আদালতকে বলবে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে না, যদি রায় তাদের পক্ষে না আসে।'

দুর্নীতিবাজদের রক্ষার করার উদ্দেশ্যেই বিএনপি সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বলে মনে করে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির নেতারা ইতোমধ্যেই বুঝতে পেরেছেন, তাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তাদের রক্ষা করতে দলের গঠনতন্ত্রের ৭(ঘ) ধারা বাতিলের প্রয়োজন হয়েছে। তাই তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ইসিতে জমা দিয়েছেন।

সরকারি দলটির নেতাদের ভাষ্য, বিএনপি যে দুর্নীতিপরায়ণদের দল, গঠনতন্ত্র থেকে ৭(ঘ) ধারা বাদ দিয়ে সেটা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা আবারও প্রমাণ করেছেন। বিএনপির এই কৌশল বাস্তবায়িত হবে না। কারণ, বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গণ-প্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলেও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক দৈনিক জনতাকে বলেন, বিএনপির ছোট বড় সব নেতাই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। ফলে বিএনপি তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭(ঘ) ধারা বাদ দিয়ে দলের নেতাদের রক্ষা করতে চায়। তিনি বলেন, এটা করে তারা আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা দুর্নীতির আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। তিনি বলেন, বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশে বিষয়টি সংযোজন হয়েছে। বিএনপির দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় দলের গঠনতন্ত্র থেকে ৭(ঘ) ধারা বাদ দিলেও গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) থেকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নাই।

এ বিষয়ে সরকারি দলটির সভাপতিম-লীর আরেক সদস্য এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু বলেন, গঠনতন্ত্র থেকে ৭(ঘ) ধারা বাদ দেয়ার মাধ্যমে বিএনপির হীনমানসিকতা প্রমাণ পেয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি নির্বাচন কমিশনে সংশোধিত যে গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে, তা মূলত দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দিতে। বিএনপি এর মধ্যদিয়ে প্রমাণ করেছে এই দলটি দুর্নীতিবাজদের দল। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির জন্ম, দুর্নীতি ও কুচক্রী মহলের কুপরামর্শে। আমরা যে এতদিন বলে এসেছি, বিএনপি দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী ও সন্ত্রাসী দল এটা প্রমাণ হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৫
ফজর৪:৫৪
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১২সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৫৯২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.