নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৪, ৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৯
প্রশ্নফাঁসে দায়ী কারা?
আজহার মাহমুদ
বাংলাদেশে এখন প্রশ্নফাঁস একটি জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত কয়েক বছর থেকে এই সমস্যাটা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন যেকোনো পরীক্ষায় শোনা যায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। প্রশ্নফাঁস এখন সাধরণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশি কিছু না বলে আমরা বর্তমান এস এস সি পরীক্ষার কথা নিয়ে ভাবলেই তার উত্তর পাবো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে অপরাধী কারা? আবার প্রশ্নটা অন্যভাবে বললে বলা যায়, অপরাধী যেই হোক না কেনো এই অপরাধ থামছে না কেনো? প্রশাসন কি ব্যর্থ? শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মনে এই বিষয়টি এখন পরিষ্কার। যদি তা না হয়, তবে চলতি এস এস সি পরীক্ষায় বাংলা থেকে শুরু করে গণিত, পদার্থ বিজ্ঞানের মতো প্রশ্নও ফাঁস হয় কীভাবে। এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর দোষ না চাপিয়ে সকলের সচেতন হতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা? সাধারণ মানুষ কিংবা অভিভাবকদেরতো আর প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়নি। যাদের এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাদের আগে সচেতন হওয়াটায় জরুরি। এদের ভেতর থেকেইতো এসব হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাওয়া স্কুলের অধ্যক্ষের মতে, প্রশ্নে ফাঁসে দায়ী অভিভাবকের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা যদি টাকা না পায় কিংবা প্রশ্নপত্র নেয়ার মতো সুযোগ না পায় তবে তারা কখনোই এই পথে আসবে না। তারা এখনো শিশু, তাদের যেদিকে প্রলোভিত করা হবে সেদিকেই তারা যাবে। চট্টগ্রাম বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় চট্টগ্রামের শিক্ষকসহ ১৯ জনকে আটক করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আটক কিংবা গ্রেপ্তারই এ সমস্যার সমাধান নয়। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে পারাই এই সমস্যার সমাধান। কিন্তু এতে ব্যর্থ প্রশাসন। এসকল শিক্ষার্থীদের থেকে শুধু জানা যাবে তারা ফেসবুক এবং হোয়াটসএপ থেকে প্রশ্ন কিনে নিয়েছে এবং পড়ে সেটা সবাইকে ছড়িয়ে দিয়েছে। আসলে এটা একটা ব্যবসা। পরীক্ষা আসলেই এই ব্যবসায় মেতে উঠে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি। টাকা দিয়ে এখন নিজের পেশাকেও বিক্রি করে দিতে পারে মানুষ। টাকার কাছে হার মানে না এমন কী আছে তা আমার জানা নেই। নিজের সম্মান, সততা এবং মনুষ্যত্বকেও এখন টাকায় বেঁচাকেনা করা যায়। কিছু কিছু বিত্তবানরা এই সুযোগ কজে লাগায়। তারাই তাদের সন্তানদের রাতারাতি ভালো ফলাফলের জন্য এভাবে টাকা দিয়ে প্রশ্নপত্র কিনে দিচ্ছে। বলা যায় আগ্রহ সৃষ্টির মূলে অভিভাবক। টাকা না পেলে প্রশ্ন কীভাবে পাবে? মূল অপরাধেতো তারাই। আর এর জন্য দুর্ভোগ পোহতে হয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের। যাদের এই দিকে কোনো চিন্তা নেই তারাও এখন এই সমস্যার সাথে আটকে যাচ্ছে। তাদের ভেজালহীন খাতাগুলো এখন ভেজালযুক্ত খাতার সাথে মিশে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষার খাতার মূল্যায়ন কীভাবে করা হবে। সধারণ শিক্ষার্থীদের মনে এখন এই বিষয় নিয়ে আতংক। আমি নিজেও একটি গোপন অনুসন্ধান চালিয়ে খবর নিলাম একটি এম.সি.কিউ প্রশ্ন ৩০০ টাকার বিনিময়ে আমাকে একজন ব্যক্তি বিক্রি করবে। ফেসবুকে একটি গ্রুফে তার প্রকাশ্য পোস্ট পাওয়ার পর তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম এবং তার সাথে কথা বলে জানলাম সে প্রশ্ন বিক্রি করে। তার আইডির নাম ইংরেজীতে এম ডি আকাশ। প্রকাশ্যে সে পোস্ট করে বলছে তার কাছে থেকে প্রশ্ন কিনতে পারবে। এভাবে যদি প্রকাশ্যে প্রশ্ন বিক্রি করা হতে পারে তবে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কতটুকু উন্নত বলা যাবে সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। তবে প্রশ্ন ফাঁস কখনো ফেসবুক কিংবা ইন্টারনেট বন্ধ করে রোধ করা যাবে না। এর মূল হোতাদের ধরতে হবে। প্রশ্নপত্রের যারা নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্বে রয়েছে তাদের ভেতরেও তদন্ত করতে হবে। মোবাইলে ছবি তুলে নিলেইতো কাজ শেষ। এরপর হাজার নিরাপত্তা দিলেও কোনো কাজ হবে না। এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষণ কাউন্সিল'র সভাপতি কলামিস্ট মাহমুদুল হক আনসারী। তিনি বলেন প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। প্রশাসনের এতোগুলো চোখকে ফাঁকি দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার মতো দুঃসাহস কি করে পায়? তিনি আরো বলেন, সবগুলো পরীক্ষার পূর্বে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারীর কথা বলা হয়, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়নি। এভাবে বিভিন্ন জনের মতামত আর বিশ্লেষণের পরেও এর সঠিক কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছেনা। এটি আমাদের দেশের শিক্ষার্থী এবং প্রজন্মের জন্য বড় একটি অভিশাপ বলে মনে হচ্ছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে অধিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়। পরিক্ষার আগে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া, ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়া, পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল থাকলে গ্রেফতারসহ নানান ধরনের পদক্ষেপ থাকার পরেও এর কোনো সুফল পাচ্ছে না কেউ। অব্যাহত রয়েছে প্রশ্নফাঁস। প্রতিদিন গণমাধ্যমসহ সকল পত্র-পত্রিকায় শিরোনাম থাকে প্রশ্নফাঁস নিয়ে। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে আটক এবং গ্রেফতার করা হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষকদেরসহ বিভিন্ন জনকে। কিন্তু এর পরেও প্রশ্নফাঁস রোধ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষাখাত একদিন নিশ্চিতভাবে অন্ধকার পথে চলে যাবে। ভাষার মাসে দেশের এমন এক বির্পযয় দেখে কখনো একজন দেশপ্রেমিক বসে থাকতে পারে না। দেশকে ভালোবাসলে এই সমস্যার সমাধানে সকলের এক হয়ে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের হতে হবে সচেতন। সন্তানদের এই পথ থকে সরিয়ে আনতে পারবেন তারাই। সন্তান এই অপরাধের সাথে জড়িত আছে কি না সেটা অভিভাবকদের জানার কথা। তাই অভিভাবকরা সচেতন হলে এই সমস্যার কিছুটা উন্নতি হবে।

এছাড়া মূল দায়িত্ব কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। প্রশ্ন ফাঁসকারীরা যখন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কাজ করছে তখন মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবেই। এই ব্যর্থতাকে কাটানোর জন্য তদন্ত করতে হবে উচ্চ কর্মকর্তাদের উপর। যাদের হাতে প্রশ্নের দায়িত্ব থাকে নজর রাখতে হবে তাদের। নজর রাখতে হবে প্রশ্নের নিরাপত্তাদানকারীদের ওপর। তারাই নিরাপত্তা না দিয়ে তার অবমূল্যায়ন করতে পারে। এই চক্রের সাথে জড়িত থাকতে পারে বড় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি। তা না হলে এই চক্রকে বের করতে এত সময় নেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। এই জাতীয় সমস্যা নিয়ে এখন দেশের প্রতিটি মানুষ উদ্বিগ্ন। সকলেরই এখন বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন। এই প্রশ্ন দূর করার দায়িত্ব সরকারের, মন্ত্রণালয়ের, প্রশাসনের। তাই সরকারের কাছে প্রত্যাশা রইলো প্রশ্নফাঁসের মতো ভয়ংকর সমস্যা থেকে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের মুক্তি দেয়া।

আজহার মাহমুদ : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৭৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.