নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
জাতীয় মাশরুমে কৃষিবিদদের ভেল্কিবাজি
ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন
সম্প্রতি এক টিভি রিপোর্টার মাশরুম চাষের উপর আমার অভিজ্ঞতা জানতে চায় এবং কিছু ভিডিও চিত্র সংগ্রহ করে। আমি এখনো মাশরুম নিয়ে ব্যবসা শুরু করিনি, যা হচ্ছে তা অনেকটা কোনো রকম খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য- একজন সাধারণ কৃষক যা করে ততটুকুই। পাশাপাশি মাশরুমের নতুন নতুন জাতের চাষ পদ্ধতির উপর কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের দেশে এখনো চাষিদের কাছে আবাদযোগ্য জাত একমাত্র ওয়েস্টার মাশরুম। মাশরুমপ্রেমী হিসেবে মাশরুমের চাষ সম্প্রসারণ এবং এর তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টাকে আমি সব সময়ই ইতিবাচক মনে করি। তাই টিভি রিপোর্টারকে তার হঠাৎ এই মাশরুম চাষির ভাঙা ঘরে আগমণের কারণ জিজ্ঞাসা করিনি। টিভি চ্যানেলটিতে আমি রিপোর্টটি সময়মতো দেখতে পাইনি। আসলে রিপোর্টটি প্রচারের পর আমি এ সম্পর্কে জানি। কিন্তু জল যে বরাবরের মতো ঘোলা সেটি বুঝা গেলো ফেসবুকের কল্যাণে খবরের গল্প এবং ভিডিও চিত্রটি দেখার পর। আমি রীতিমতো বিস্মিত হই! আমাকে একজন গবেষক হিসেবে দেখানো হয়নি, দেখানো হয়েছে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের একজন প্রশিক্ষিত চাষি হিসেবে। বলা হয়েছে আমার সফলতায় উৎসাহ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়েছে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট! আমার গল্পটি শেষ করেই দেখানো হয়েছে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের বাহাদুর কর্মকর্তাদের। তাদের বাহাদুরি বক্তব্যও রিপোর্টে সংযুক্ত। আমি ঐ টিভি রিপোর্টারকে চিনি না, আমি কোনো টিভি রিপোর্টারকে আমার কাছে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ডাকিনি। বলে রাখা ভালো আমাকে নিয়ে প্রিন্ট মিডিয়াতে যত খবর প্রকাশিত হয়েছে তা একজন মাশরুম গবেষক এবং উদ্ভাবক হিসেবে। কিন্তু এতে মাশরুমের কর্তাব্যক্তিদের গায়ে জ্বালা দিতো। আমি কৃষিবিদ নই বলে তারা সব সময়ই আমার গবেষণা কর্মকা-ে অসহযোগিতা করেছেন। আমার কাজকে খাটো করে দেখার চেষ্টা করেছেন। আমার উৎপাদিত মিল্কী মাশরুমকে বন্য মাশরুম হিসেবে পরিচয় করিয়ে বিপণনে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। উৎপাদিত মাশরুম পচেছে। আমি চ্যালেঞ্জ করলে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ডিএনএ টেস্ট করে, কিন্তু তার রিপোর্ট দেয়নি। তবে আমার মাশরুম নিয়ে বরাবরই জল ঘোলা করে বেড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সারা বাংলাদেশের ভোক্তারদের কাছে মাশরুমটি যখন যায়গা করে নিয়েছে তখন তারা দেখালেন আমি তাদের উৎসাহেই এগিয়ে যাচ্ছি। তবে তারা কিন্তু এখনো বিভিন্ন মাশরুম নিয়ে আমার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। যাই হোক জাতীয় মাশরুমের বিশেষজ্ঞদের ভেল্কিবাজিতে আমি মুগ্ধ, অভিভূত। মাশরুম উদ্যোক্তাদের সমালোচনায় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে প্রকল্পের নামে অর্থায়ন বন্ধ আছে, এদের এখন মূলত তেমন কোনো কাজ নেই। আমি মাশরুমের উপ-পরিচালক এবং মাশরুম বিশেষজ্ঞকে ভালো অভিনেতা হিসেবে জানতাম, কিন্তু তারা যে এতো বড়ো নাট্য-নির্মাতা তা জানা ছিল না। আমি অল্পবয়সী টিভি রিপোর্টারকে কোনো দোষ দেব না, কারণ তিনি এই কর্মযজ্ঞের নায়ক নন। তিনি টেরই পাননি তাকে দিয়ে কি করা হচ্ছে। তবে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট যে তাকে বিশেষ উদ্দেশ্যে ডেকেছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় উক্ত টিভি চ্যানেলের কৃষি বিষয়ক আরেকটি অনুষ্ঠানের জন্য স্টুডিওতে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মাশরুম বিশেষজ্ঞকে উপস্থিত হতে দেখে। উক্ত অনুষ্ঠানেও আমার মাশরুম ফার্মের ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়, ভিডিও চিত্রে আমি একজন মাশরুম চাষি আর পেয়ারার টিস্যুকালচারে পিএইচডি করা মাশরুম বিজ্ঞানী যিনি আমাদের মাশরুম চাষে প্রশিক্ষণ দিয়ে, উৎসাহ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করেন বলে ইতিপূর্বে রিপোর্ট করিয়েছেন। আমাদের কৃষিবিভাগ পারেও বটে, যাকে তাকে মাশরুম বিশেষজ্ঞ বানিয়ে দেয়। আচ্ছা মাশরুম চাষের উপর আমি কখন প্রশিক্ষণ নিয়েছি? বলে রাখা ভালো আমি ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের অর্থায়নে চালিত মাশরুম প্রকল্পে যখন প্রশিক্ষক ছিলাম তখন এই মাশরুম বিশেষজ্ঞ দিনাজপুরের বাঁশের হাটে- হাজী দানেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবে মাত্র স্নাতকে ভর্তি হন। তিনি কৃষিবিদ কেমনটি হয়েছেন সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও বাঁশ যে তিনি ভালো দিতে পারেন- তার কর্মকা- দেখলে তা বুঝা যায়। আমার স্ত্রীকেও সংবাদের ভিডিও চিত্রে দেখানো হয়। আমার স্ত্রী মাশরুম চাষের উপর শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল, কিন্তু প্রশিক্ষণের দু'দিন পার হবার পর ফালতু ঝামেলা সৃষ্টি করে এই মাশরুমের দুষ্ট ব্যক্তিরা তাকে প্রশিক্ষণ থেকে বাদ দেন। আমার স্ত্রীর অপরাধ তিনি একজন অকৃষিবিদ মাশরুম গবেষকের স্ত্রী। অথচ আজ সেই অবহেলিত নিগৃহীত মাশরুম কর্মী লিলি খানমের মাশরুম গ্রিন হাউজে তিন কেজি ষোল গ্রাম ওজনের একেকটি মিল্কী মাশরুম উৎপাদিত হয়। তারই চাষ ঘরে উৎপাদিত হয় বিশ্ব সেরা বাটন মাশরুম। এশিয়ার সেরা দৈত্যাকার মাশরুমসহ কাপ আম্ব্রেলা, পমপম, স্যাগীমেন, পপলার ইত্যাদি মৌসুমি মাশরুম এখানে উৎপাদিত হয়। এই লিলি খানমের মাশরুম ফার্মেই সংরক্ষিত আছে এবং চাষ হচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত গ্যানোডার্মার বেশ কয়েকটি মূল্যবান স্ট্রেইন যা আর কারো কাছে নেই, যা সন্বন্ধে কোনো ধারণাই তারা রাখেন না। এই লিলি খানমই সাধারণ চাষির মতো আগলে যাচ্ছে এদেশের মাশরুমের একজন নিবিড় গবেষককে। যিনি নিরন্তর মাশরুম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। সম্মানিত পাঠক মাফ করবেন, নিজের ঢোল নিজে পেটালাম। এদেশে কার সময় আছে অন্যের মূল্যায়ন করার। মাশরুম গবেষণা শুরুর আগে থেকেই আমার ব্যক্তিগত মাশরুম ফার্ম ছিল, আমি গবেষণায় মনোনিবেশ করি মাশরুম সম্পর্কে জানতে। মাশরুম নিয়ে আত্মনিমগ্ন ছিলাম বলে মুখোশধারী বিশেষজ্ঞরা আমাকে সহ্য করতে পারতেন না। শুধু আমি নই এরা সহ্য করতে পারতেন না অন্য কোনো পিএইচডি গবেষককেই। উল্লেখ করতেই হয় পেয়ারার চারা কলমের উপর পিএইচডি করা মাশরুম বিশেষজ্ঞ তার নিজের মাশরুমের জ্ঞান সম্পর্কে ভালোই উপলব্ধি রাখেন। তাই তিনি চাননি অন্য কেউ মাশরুম বিষয়ে প-িত হোক। আরো তিনজন পিএইচডি গবেষক প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ শুরু করেও পরে আর এগোতে পারেনি। আমি কিভাবে পারলাম- মাঝে মাঝে ভেবে অবাক হই। পিএইচডির শেষের দিকে সম্প্রতি আমাকে আমার গবেষণার কাজে মাশরুম ল্যাবে একটু যাবার প্রয়োজন হয়েছিল, মাত্র একঘণ্টার কাজ ছিল ল্যাবে। অথচ ঐ কাজটুকুর জন্য আমাকে পাঁচদিন সময় দিতে হয়েছে। অথচ আজ আমাকে রিপোর্টে দেখতে হয় তারা উৎসাহ দেয়, দক্ষতা বৃদ্ধি করে। আসলে তৈরি ছেলের বাবা যে কেউ হতে চায়। কিন্তু দুঃখ হয় এই ভেবে- যারা যে গাছকে বাড়তে দিতে চায়নি- তারা কিভাবে সেই গাছের ফুল-ফলের মালিকানা দাবি করেন। মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কোনো কর্মকর্তা আমার বাসা চিনেন না। তারা কখনো এখানে আসেননি। তাদের কোনো সহযোগিতা আমার দরকার হয়নি। মাশরুম উৎপাদনের অনেক সুখবর আমার ফার্ম থেকে বের হয়েছে, অনেক লোক এসেছে, যোগাযোগ করেছে। মাশরুমের কোনো কর্তারা এখানে আসেননি। অথচ টিভি সাংবাদিক দিয়ে কৌশলে আমার সফলতাকে পুঁজি করে তারা তাদের কর্মকা- হিসেবে জাহির করছে। মাশরুম উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প চলাকালে এরা এদেশে মাশরুমের শাব্দিক প্রতিবিম্ব প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ সালেহ আহমেদকে মারাত্মক অসহযোগিতা করেছে, ফালতু প্রযুক্তির নামে চাষিদের সর্বস্বান্ত করেছে, পথে বসিয়েছে। আর আজ কর্মযজ্ঞহীন হয়ে আহত চাষির সুনামকে কব্জা করে জাহির করছে। এ এক বর্বর চৌর্য বৃত্তি! ধিক এই ভেল্কিবাজ নির্লজ্জ কৃষিবিদদের।

ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৭
ফজর৪:১৫
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫০
সূর্যোদয় - ৫:৩৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৫৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.