নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
আলোচনায় ই-ভোটিং
নতুনভাবে চালুর পরিকল্পনা সরকার ও ইসি'র : বিএনপি বলছে দুরভিসন্ধি
বিশেষ প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সব বিধিবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, মানুষের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় নির্বাচন ই-ভোটিং প্রবর্তন করার পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ই-ভোটিং বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

রাজপথে সরকারবিরোধী দল বিএনপি মনে করছে, এই ভোট পদ্ধতিতে সরকারের দুরভিসন্ধি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এটি জনগণের ভোটকে নিজ উদ্দেশে সাধনে জালিয়াতি করার প্রচেষ্টামাত্র।

জানা গেছে, ২০১০ সালে এটিএম শামসুল হুদা কমিশনের আমলে চালু হওয়া ভোটিং মেশিন (ইভিএম) দিয়ে ভোটগ্রহণ ও গণনায় নানা যান্ত্রিক ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সে যন্ত্রটি উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুনভাবে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন।

এটিএম শামসুল হুদা কমিশন প্রথম ই-ভোটিংয়ের উদ্যোগ নেয়। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের সবগুলো ওয়ার্ডে এবং নারায়ণগঞ্জ সিটির ৯টি ওয়ার্ডেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করে হুদা কমিশন। তবে সদ্যবিদায়ী কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ কমিশনের আমলে ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ইভিএমে যান্ত্রিক সক্ষমতার অভাবে পুনঃগণনা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকেই ই-ভোটিং বন্ধ রেখে কাগুজে পদ্ধতিতে ফিরে আসে রকিব কমিশন।

এরপর গত বছরের ২৫ জুলাই নির্বাচন কমিশনের এক বৈঠকে ই-ভোটিংয়ের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। এই ?পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের অক্টোবরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ১৯ সদস্যের একটি কমিটি করে কমিশন। যার আহ্বায়ক করা হয় ইসির অতিরিক্ত সচিবকে এবং উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী। সেই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় এখন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিঙ্্ অ্যান্ড মেকাট্রনিঙ্ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারপারসন অধ্যাপক লাফিফা জামালও মনে করেন ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতিতে শতভাগ নির্ভুল ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্ভব। তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে চান তিনি।

তার মতে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে শতভাগ নির্ভুল ভোটগ্রহণ ও গণনা সম্ভব। তবে এটি নির্ভর করছে কিভাবে এটি ব্যবহার বা প্রয়োগ করা হবে। যদি ভোটারের আইডেন্টিটি বা পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত করে ভোটগ্রহণ করা যায় তবে এটি দ্বারা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান অবশ্যই সম্ভব।

ভোটারের আইডেন্টিটি বা পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব দাবি করে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, এ মেশিনে আঙ্গুল ছাপ পদ্ধতিতে ভোটারের আইডেন্টিটি বা পরিচয় শনাক্ত করা হবে। তাই একজনের ভোট অন্য জনের দেয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই কারচুপির কোনো সুযোগ নেই এবং ভোটের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদের (জানিপপ) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, (নতুন) যন্ত্রটি হাতেকলমে দেখা সম্ভব হয়েছে আমার। তাতে আমার কাছে মনে হয়েছে এটি ব্যবহার করে ভোটগ্রহণ করা হলে শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করা সম্ভব।

এ মেশিন নিয়ে সামপ্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে এ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেন, নতুন কোন সিস্টেম চালু হলে প্রথম প্রথম সেটা নিয়ে শোরগোল হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষ সেটার সাথে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবেশি দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) যখন প্রথম ই-ভোটিং চালু হলো তখন অনেকেই এটা নিয়ে শোরগোল করেন। কিন্তু এখন মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এটা নিয়ে কেউ আর কোনো কথা বলছে না।

বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে এ নির্বাচন বিশেষজ্ঞ বলেন, তাদের (বিএনপির) উচিত হবে অনুমান নির্ভর কোনো ধারণায় ঘটনার উপসংহার না টেনে, ঐ মেশিনের নমুনা সংগ্রহ করে তা যাচাই বাছাই ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা। এক্ষেত্রে তাদের যে সব বিশেষজ্ঞ আছে বা যাদের ওপর তাদের আস্থা আছে তাদের সহায়তা নেয়া।

এ যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব বলে মনে করেন অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১২
ফজর৫:০৯
যোহর১১:৫২
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩০সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৩১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.