নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
জমি রক্ষায় সাংবাদিক সম্মেলন
ভূমি হারানোর আতঙ্কে লামার ১১ পরিবার
লামা থেকে মো. ফরিদ উদ্দিন
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বৈক্ষমঝিরি পাড়ার ১১টি পুনর্বাসিত পরিবারকে প্রতিপক্ষ কর্তৃক ভোগদখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদ হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বহু অর্থ ও কায়িক শ্রমে সৃজিত ফলজ-বনজ বাগান, বসতঘর, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ জমি হারানোর আতঙ্কে রয়েছে পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে লামা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্য জহিরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্য ছিদ্দিক আলী, আবুল হোসেন, আবদুল খলিল, মো. মোস্তফা, মো. সোলায়মান, সাইফুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১১ পুনর্বাসিত পরিবারের পক্ষে জহিরুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ৮০র দশকে সরকার কর্তৃক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বন্দোবস্তপ্রাপ্তরা জমিতে বসবাস করে আসলেও স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত নেতা আমিনুল হক আজাদের দোকর রাবার লীজ বন্দোবস্তির কারণে বর্তমানে তারা উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রয়েছেন। শুধু তাই নয়, ১৯৯৭ সাল থেকে ঐ জামায়ত নেতা একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে হয়রানি করছেন। এ পর্যন্ত তারা থানা, আদালত ও ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানে ১০টি মামলা দিয়েছেন। এক পর্যায়ে জামায়াত নেতার নামে দোকর বন্দোবস্তি (লীজ প্লট) বাতিলের জন্য গত ৫ জানুয়ারি ক্ষতিগ্রস্তরা বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। বর্তমানে জামায়াত নেতার ছেলে আতাউল্যাহ ও স্ত্রী মমতাজ বেগম কতিপয় ক্ষমতাশালী লোকদ্বারা মামলা হামলাসহ বিভিন্নভাবে জমি দখলে নিবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগে আরও জানা যায়, ১৯৮১-৮২ সালে ভূমিহীন পরিবারদের পার্বত্যাঞ্চলে পূনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ২৯৪ নং দরদরী মৌজার ১২ নং সীটের জি/৪৪৯, ৯৮, ৯৯ ও আর/১১১৪, ১২১৯, ১৪১৮, ৯১৫, ১৪৮০, ১২৫৮, ১২৫৫ নং হোল্ডিং মূলে বৈক্ষমঝিরিতে ২৫ একর পাহাড়ি জায়গা বন্দোবস্ত পায় আবুল হোসেন, আবদুল খলিল, রহিমা বেগম, আবদুল রশিদ, আবদুল মজিদ, ইউনুছ, আলী আকবরসহ অন্যরা। বন্দোবস্তি পাওয়ার পর থেকে ঐ জমিতে ফলজ ও বনজ বাগান ও বসতঘর সৃজন করে ভোগদখল করে আসছেন পুনর্বাসিত পরিবারগুলো। ১৯৯৪-৯৫ সালের দিকে ঐ জমির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে বান্দরবান জেলার তৎকালীন জামায়াতের আমির আমিনুল ইসলাম আজাদের। তিনি তার হোল্ডিংয়ের আওতায় বন্দোবস্তকৃত জমির ট্রেসম্যাপ করে একই জায়গার ওপর রাবার লীজ প্লট হিসেবে ২৫ একর জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বান্দরবান জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন (লীজ মোকাদ্দমা নং- ৫৬ (ডি) ৯৪-৯৫, তাং ২৩-৩-১৯৯৫, লামা, ২৯৪ নং দরদরী মৌজা প্লট নং-১০, দাগ নং-২৪৩৩,২৪১০,২৩৯২)।

প্রভাবশালী জামায়াত নেতা তৎসময়ে প্রশাসনকে সরজমিন যাচাই করার সুযোগ না দিয়ে মিথ্যা ও তৎসংক্রান্ত যাবতীয় মনগড়া রিপোর্ট করিয়ে নিজের অনুকুলে প্লটটি বরাদ্দ নেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক তা অনুমোদন দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় জামায়াত নেতা ঐ জমি দখলের চেষ্টা করেন। ফলে পুনর্বাসিত ১১ পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমির পাশাপাশি ঐ গ্রামের একটি মসজিদ ও মাদ্রাসা উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে। জামায়াত নেতার একের পর এক মিথ্যা মামলার হাজিরা ও অভিযোগের কারণ দর্শাতে আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ঐ পরিবারগুলো। একপর্যায়ে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জামায়াত নেতা আমিনুল হক আজাদ মৃত্যুবরণ করলে, একই ধারাবাহিকতায় তার স্ত্রী মমতাজ বেগম লামাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা মামলায় জড়াতে থাকেন ওই পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যদের। সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পুনর্বাসিত পরিবারের সদস্যরা জমি রক্ষায় প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৯২০৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.