নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
গাইবান্ধায় আখ খামারে সংঘর্ষে নিহত সাঁওতাল টুডুর লাশ উত্তোলন
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গাইবান্ধার সাহেবগঞ্জ আখ খামারে ১৪ মাস আগে সংঘর্ষে নিহত সাঁওতাল রমেশ টুডুর লাশ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের সিন্টাজুড়ি গ্রাম থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রমেশের লাশ তুলে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। লাশ উত্তোলনের সময় গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. রাফিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামার এলাকায় আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। এরমধ্যে তীরবিদ্ধ হন নয় পুলিশ সদস্য ও গুলিবিদ্ধ হন চার সাঁওতাল। পরে তারমধ্যে তিন সাঁওতাল মারা যান। নিহত শ্যামল হেমভ্রম (৩৫) ও মঙ্গল মাদ্রির (৫০) লাশ ময়নাতদন্ত শেষে সৎকার করা হলেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই পুলিশ প্রহরায় রমেশ টুডুর মৃতদেহ আদিবাসী পল্লীর সিন্টাজুড়ি গ্রামে দাফন করা হয়। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় স্বপন মুরমু বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ওই মামলা নিয়ে সাঁওতালদের আপত্তি থাকায় তাদের পক্ষে পরে গত ২৬ নভেম্বর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আরেকটি একটি এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু তার এজাহারটি সাধারণ ডাইরি হিসাবে থানায় নথিভুক্ত করেন পুলিশ। এরপর থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে রমেশ টুডুর মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্তের জন্য হাই কোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট মামলাটি পিবিআই গাইবান্ধাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আনোয়ার হোসেন জানান, ওই আদেশের প্রেক্ষিতে গাইবান্ধার পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করার জন্য গাইবান্ধার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করেন। ওই সময় রমেশ টুডুর মৃত্যু নিয়ে পরিবার ও পুলিশের দুই রকম বক্তব্য ছিল। রমেশের পরিবার ও আন্দোলনকারীরা বলছিলেন, ওই বছরের ৬ নভেম্বর পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে রমেশ আহত হন। কিন্তু গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িতে গোপনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চারদিন পর ১০ নভেম্বর ভোররাতে তিনি মারা যান। তবে ওই সময়ের গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেছিলেন, রমেশ টুডুর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হয়ে তার মৃত্যু হয়নি। রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৯৬২ সালে আখ চাষের জন্য গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ এলাকায় এক হাজার ৮৪২ একর জমি অধিগ্রহণ করে। কয়েকবছর আগে ওই জমি ইজারা দিলে সেখানে ধান, পাট, তামাকসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হয়। এরপর অধিগ্রহনের চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনে এসব জমি ফেরতের দাবিতে আন্দোলনে নামে সাঁওতাল সমপ্রদায়ের লোকজন। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিগত ২০১৬ সালের ১ জুলাই এই খামারের প্রায় ১০০ একর জমিতে ঘর নির্মাণ করে তারা বসবাস শুরু করে এবং সেখানে ধান, পাট ও মাসকালাই চাষ করে। বাকি জমিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ আখ রোপন করে। এরপর ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ ওই জমিতে আখ কাটতে গেলে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারিদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষ বাধে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৩
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৫৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.