নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
মানবহির্ভূত নিষিদ্ধ ওষুধ বাজারে
৮৬টি ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল : তবুও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর
স্টাফ রিপোর্টার
বাজারে এখনো চলছে মানবহির্ভূত নিষিদ্ধ ওষুধ। কোথাও নিষিদ্ধ ওষুধগুলোর তালিকা টাঙানো হয়নি। অথচ দেশে এখন পর্যন্ত ৮৬টি ওষুধ কোম্পানির লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স বাতিলকৃত কোম্পানি ও ওষুধ বিষয়ে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, অনেক চিকিৎসক ও খুচরা ওষুধ বিক্রেতাও কোন ধারণা রাখেন না। আর জনবল সঙ্কটের কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পক্ষেও সারাদেশের হাজার হাজার ফার্মেসি ঘুরে দেখাও সম্ভব হয়ে ওঠছে না। এমন সুযোগে নানা কৌশলে লাইসেন্স বাতিলকৃত অনেক কোম্পানি ওষুধ উৎপাদন ও বিতরণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর তালিকা না থাকায় অনেক চিকিৎসকবা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে নিষিদ্ধ ওষুধ লিখে যাচ্ছে। এভাবে লাইসেন্স বাতিলকৃত অনেক কোম্পানির ওষুধ বাজারে এখনো রয়ে গেছে। জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ওষুধ শিল্প নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিগত ২০১৬ সালে ২০টি ওষুধ কোম্পানির নিবন্ধন বাতিলসহ মোট ৫৬টি ওষুধ কোম্পানির বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপের সুপারিশ করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভায় বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। তার মধ্যে ১৪টি কোম্পানি এ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করতে পারবে না এবং ২২টি কোম্পানি শুধু নন-পেনিসিলিন এ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করতে পারবে বলে সুপারিশ করে কমিটি। তাছাড়া অনুমোদনহীন বা নকল ওষুধ যেসব প্রতিষ্ঠানে (ওষুধের দোকান বা হাসপাতাল) পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি যথাযথ মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি কোম্পানির সব ধরনের ওষুধ ও ১৪টি কোম্পানির এ্যান্টিবায়েটিক উৎপাদন বন্ধ বহাল রাখে আদালত। কিন্তু লাইসেন্স বাতিলকৃত ওসব কোম্পানির ওষুধ ও নিষিদ্ধ এ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় বাজারে রয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, মানবহির্ভূত ওষুধ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। সংস্থাটি পরিদফতর থেকে অধিদফতরে রূপ নেয়ার এক বছর পরও গতিশীল হতে পারেনি। মূলত প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ড ছাড়া কোন কিছুতে পরিবর্তন আসেনি। বরং জনবল, যন্ত্রপাতি ও অভিযান সহায়ক যানবাহনের অবস্থাও আগের মতোই রয়ে গেছে। কর্মসূচী ঘোষণা দিয়েও অধিদফতর সংশ্লিষ্টরা ভেজাল ওষুধ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে না। অধিদফতরের এমন দুর্বলতার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভেজাল ওষুধ। দেশে প্রায় ২'শটি ওষুধ কোম্পানি নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত করছে। তার মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের আবেদন করেই ওষুধ প্রস্তু করে চলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ওষুধ আদালতের সীমাবদ্ধতা। সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকায় ওসব ওষুধ আদালতও অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে জনস্বাস্থ্যের বিপর্যয় ঘটবে।

সূত্র আরো জানায়, দেশে লাইসেন্স বাতিলকৃত কোম্পানির ওষুধ নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, দেশে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি বাড়ানো ছাড়া কোন বিকল্প নেই। একই সাথে বাড়াতে হবে মনিটরিং কার্যক্রম। পরীক্ষার আওতার বাইরে থাকা ওষুধগুলো অবশ্যই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। লাইসেন্স বাতিলকৃত কোম্পানির ওষুধ অবিলম্বে বাজার থেকে তুলে নেয়া জরুরি। পাশাপাশি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের জনবল ও কার্য দক্ষতাও বাড়াতে হবে। কারণ যে কোন ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মান ঠিক না থাকলে গ্রহণকারীর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ওই ধরনের ওষুধ ব্যবহারকারীরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে পারেন। মান বহির্ভূত ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ভেজাল রোধ করতে হলে নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিকল্প নেই। যে কোনভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। জেলা পর্যায়ে সম্ভব না হলেও বিভাগীয় পর্যায়ে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি গড়ে তুলতে হবে। শুধুমাত্র গড়ে তুললেই হবে না, জনবল ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি দিয়ে ল্যাবরেটরিগুলো গতিশীল করে তুলতে হবে। এ বিষয়ে যথাযথ সরকারী সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা থাকতে হবে। কোম্পানিগুলোকে সঠিক মানের ওষুধ বানাতে বাধ্য করতে হবে। শুধু তাই নয়, ওষুধ প্রশাসনের লোকজন যাতে প্রভাবিত না হতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি ল্যাব হবে পুরোপুরিভাবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানকে সকল ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও হুমকি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। যদিও দেশে এখনও ভাল ওষুধ কোম্পানির সংখ্যাই বেশি। তবে কিছু কিছু দেশীয় কোম্পানি মানহীন ওষুধ তৈরি করছে।

অন্যদিকে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনের দায়ে দেশের ৮৬টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। তার মধ্যে এ্যালোপ্যাথিক ৩২টি, ইউনানি ১৬টি, আয়ুর্বেদিক ২৩টি এবং হোমিওপ্যাথিক ১৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৪
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৯৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.