নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
কয়রার সামিরা পাইলট প্রকল্পের সমম্বিত চাষাবাদে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে ইমতিয়াজ উদ্দিন
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি
কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশাী ইউনিয়নের বতুলবাজার গ্রামের দারিদ্র্য পরিবারের সন্তান সমিরা খাতুন সম্মানিত চাষাবাদ করে তার পরিবারের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আর ধান, মাছ, সবজি চাষ প্রকল্পের মাধ্যমে সংসারের অভাব ঘুচিয়ে স্বামী ছেলে সন্তান নিয়ে ভালো আছে বলে অবিমত ব্যক্ত করেন তিনি।

সরেজমিনে ঘুরে সামিরার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালে 'আইলায়' বতুলবাজ গ্রামসহ কয়রা উপজেলার ৫টি ইউনয়ন সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। দীর্ঘদিন লবণ পানি আটকে থাকার কারণে কয়রা উপজেলার সামাজিক পরিবেশ মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাদ যায়নি সামিরা খাতুনের ঘরবাড়ি, পানির তোরে ভাষিয়ে নিয়ে যায় তার ঘরবাড়িসহ সকল সহায় সম্পদ। পাউবোর বেড়িবাঁধের উপর ২/৩ মাস অতিকষ্ট করে কোনো রকম বসবাস করে। দুই বছর পর লবণ পানির ছোবল থেকে কোনো রকম রক্ষা পেয়ে পরবর্তীতে স্বামীর ভিটায় কোনো রকম মাথা গোজার ব্যবস্থা করেন সামিরা। তার স্বামী খোরশেদ গাজী দরিদ্র জীবন থেকে ঘুরে দাঁড়াবার জন্য নিজের উপজেলা কয়রাসহ ঢাকা, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিল। সেই উপার্জন থেকে পরিবারের খরচের পাশাপাশি কিছু কিছু করে টাকা সঞ্চয় করে রাখে। সামিরা চেষ্টায় গচ্ছিত অর্থ আর স্থানীয় সমিতি থেকে লোন নিয়ে এবং কিছু টাকা ধার করে বাড়ির পাশ্র্বে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে সামিরার পরিবার। সেই জমিতে থাকার ব্যবস্থাসহ কৃষি কাজ শুরু করে। তার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়ায় জেজেএস রেজিলিয়েন্স প্রকল্প। প্রকল্পের কয়রা উপজেলা ম্যানেজার আ. রব রায়হান বলেন, বতুলবাজার গ্রামের দুর্যোগ ঝুঁকি এবং লবণাক্ততার কথা বিবেচনা করে জেজেএস রেজিরিয়েন্স প্রকল্প উক্ত গ্রামে কাজ শুরু করে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে। প্রকল্পের মাধ্যমে সামিরার পরিবারের অসহায়ত্ব এবং পানির সমস্যার কথা বিবেচনায় করে জেজেএস রেজিরিয়েন্স প্রকল্পের সদস্য করা হয় তাকে। প্রতি মাসের মিটিং এ নিয়মিত হাজির হয়ে দুর্যোগে খাপ খাওয়ান, ডাইবে সবজি চাষ, সমন্বিত চাষাবাদ (ধান, মাছ, সবজি) বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষ, পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ বিষয় ধারণা পান এবং সমন্বিত (একই জমিতে ধান, মাছ ও সবজি) চাষাবাদ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন সামিরা। রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের মাধ্যমে কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে সমন্বিত চাষাবাদের উপর প্রশিক্ষণ পান তিনি। রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের কর্মকর্তারা সমিরা খাতুনের জমি পরিদর্শন করে ২০১৫ সালের শেষের দিকে কৃষি কাজে সহযোগিতা হিসাবে প্রায় ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন। উক্ত টাকা দিয়ে লেবার নিয়ে নিজেরা সাথে থেকে ক্যানেল কেটে মাটি দিয়ে চার পাশ্র্বের ডাইক তিন হাত চওড়াসহ উঁচু করে। উক্ত ক্যানেল ও পুকুরে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, কালবাউশ, গলদা চিংড়ি এবং কার্প জাতীয় মাছ চাষ করেন। ডাইকে পুইশাক, কুমড়া, শশা, লাউ, বেগুন, করল্লা, মিনা, বরবটি, কচুরমুখী, ওল, আলু চাষ করেন এবং জমিতে ধান চাষ করে ৪৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকার উৎপাদিত ফসল বিক্রয় করে।

সেই অর্থ দিয়ে ভালোভাবে সংসার চালাচ্ছে। বর্তমানে তাদের জমিতে বেগুন, কুমড়া, ঝাল, ঢেড়শ, পুঁইশাকের চাষাবাদ চলমান রয়েছে। সামিরার দেখাদেখি ঐ এলাকার অনেক কৃষকরা সমন্বিত চাষাবাদ শুরু। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী বলেন, সমন্বিত চাষাবাদের জন্য স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। শুকনা মৌসুমে পানির সমস্যার কারণে সামিরা খাতুন কে জেজেএস রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি বিষয় কয়রা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রেজিলিয়েন্স পকল্পের আওতায় ২০১৭ সালের শেষের দিকে সিম কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার টাকা সহযোগিতা পান। উক্ত টাকা সামরা খাতুন ১৫শ লিটারের একটি পদ্ম ট্যাংকি এবং সেটিং এর মালামাল ক্রয়সহ সাইন বোর্ড ও কিছু সবজি ক্রয় করেন। নিজেদের টাকা দিয়ে ট্যাংকি বসানের ভিত পাকা করেন । ঘরের টিনের চালায় ট্যাংকি স্থাপন করেন। সামিরা বলেন, এখন তাদের পরিবারের সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান হবে। সবজি চাষ করে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারবে। জেজেএস রেজিরিয়েন্স প্রকল্পের সহযোগিতার জন্য তাদের পরিবারের যে উন্নতি হয়েছে তার জন্য জেজেএস, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডো ওয়াইডের প্রতি বেশ খুশি। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার পাল বলেন, এ ধরনের পানির ট্যাংকির ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয় কৃষকদের সবজি চাষসহ খাবার পানির চাহিদা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৩৪৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.