নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
জনতার মত
সুন্দরবন দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হোক
প্রকাশ ঘোষ বিধান
সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্য। বাংলাদেশসহ ভারতের প্রকৃতির স্বর্গ জীববৈচিত্রে ভরপুর বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট এই সুন্দরবন। সুন্দরবন বাংলার গর্ব, বিশ্বের গৌরব। জগৎসেরা ও জীববৈচিত্র্যের আধার এই বন বাঙালি জাতির গর্ব। বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসভূমি এই সুন্দরবন। জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা হিসাবে ঘোষণা করে। বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতির পর থেকে এই সুন্দরবন নিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীসহ বিশ্ববাসীর আগ্রহের শেষ নেই। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বিশাল প্রাকৃতিক বন সুন্দরবন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০ হাজার ২শ ৮০ বর্গ কিমি.। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৬ হাজার ১৮ বর্গ কিমি.। এ বনের প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরীসহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতি গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতি শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড। সুন্দরবনে আছে বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, বানর, শুঁকর, গুইসাপসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ৩শ'র বেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং জালের মতো বিছানো প্রায় ৪৫০টি ছোট-বড় নদী। কুমির, হাঙ্গর, ডলফিনসহ ২৯১ প্রজাতির মাছ। সুন্দবন শুধু পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনই নয়, বিশ্বে সুন্দরবনের মতো এত সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য আর কোনো বনে নেই। এই জন্যই সুন্দরবনকে জীববৈচিত্র্যের জীবন্ত পাঠশালা বলা হয়। প্রাণী ও বৃক্ষের বৈচিত্র্যের সমাহার এই বন বৈজ্ঞানিক, নৃতত্ব ও প্রত্নতাত্তি্বক বিবেচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। বিশ্বে বিরল প্রজাতির বাঘ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসভূমি এই সুন্দরবন। বাংলাদেশের মোট আয়তনের ৪.২ শতাংশ এবং মোট বনাঞ্চলের ৪৪ শতাংশজুড়ে থাকা এ বনের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। মূল্যবান প্রাণীজ, জলজ ও বনজ সম্পদ মিলে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের আধার। এই সুন্দরবন শুধু জীববৈচিত্র্যের উৎস নয়, একই সাথে বন সংলগ্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন জীবিকার উৎস হিসাবে অবদান রাখছে। কাঠ, মধু, মৎস, অন্যান্য বনজসম্পদ আহরণের মাধ্যমে ৫-৬ লাখ মানুষ প্রায় সারা বছর জীবিকার জন্য সরাসরি সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল।

১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন দিবস। সুন্দরবন মায়ের মতো। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সুন্দরবনকে ভালো বাসুন। এই প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে খুলনা ও সুন্দরবন সংলগ্ন জেলার উপজেলাগুলোতে ১৪ ফেব্রুয়ারি আঞ্চলিকভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হয়। ২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৪ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ও উপজেলাগুলোতে সুন্দরবন দিবস পালন করা হয়। সুন্দরবন সুরক্ষায় ২০০১ সালে সুন্দরবন একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই সংগঠনটির কর্মকা- অব্যাহত রয়েছে। এরপর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ঢাকাতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সুন্দরবন বনবিভাগ, সুন্দরবন একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন সুন্দরবন দিবসটি পালন করছে।

উপকূল আঞ্চলে মানুষের জীবন প্রবাহের সাথে সুন্দরবন আবর্তিত। আবহমানকাল সুন্দরবনের সাথে মানুষের নিবিড় ঘনিষ্ঠতা। এই অর্থে সুন্দরবনের ভালো-মন্দ এ অঞ্চলের মানুষকে নাড়া দেয়। সুন্দরবন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলীয় জনপথকে আগলে রেখেছে ও রক্ষা করছে প্রাকৃতিক ভারসম্য। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর সিডর, ২০০৮ সালের ২৫ মে আইলাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুন্দরবন মায়ের মতো উপকূলবাসীকে আগলে রেখেছে। এ কথা সত্য যে, সুন্দরবন যদি না থাকতো তাহলে সিডরের প্রচ-তায় উপকূলীয় অঞ্চল প্রাণহীন এক বিরান ভূমিতে পরিণত হতো। সুন্দরবন এলাকার মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। সুন্দরবন দিবসে আলোচনায় অতিথিবৃন্দ, বিশেষজ্ঞরা ও সুন্দরবনপ্রেমীদের জোরালো দাবি রাষ্ট্রীয়ভাবে সুন্দরবন দিবস পালন করা হোক। এ কোনো আবেগ নয়, বাস্তবতায় অত্যন্ত যৌক্তিক। এ অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে বন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেই চলেছে। পর্যটকদের সুন্দবন সম্পর্কে ধারণা দেয়া ও সুন্দরবন ভ্রমণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে খুলনায় ২০০১ সালে খুলনায় তথ্য ও শিক্ষাকেন্দ্র খোলা হয়। তাই এই বনের জীববৈচিত্র্যকে সংরক্ষণের জন্য এখনই প্রয়োজন সকল মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। তাহলে প্রকৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হবে সুন্দরবন। বিকশিত হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন শিল্প। ফলে একদিকে যেমন সুন্দরবন বিশ্বসেরা সম্পদ হিসাবে পরিচিতি হবে, তেমনি এ বনের সুরক্ষার কাজ হবে শক্তিশালী। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বাড়বে ও দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। উপকূলের অবহেলিত জনপদে প্রাণচাঞ্চল্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকা- ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। তাই সরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালিত হলে সুন্দরবনের গুরুত্ব আরো বাড়বে। আর সেই সাথে সুন্দরবন সুরক্ষায় সকলে সচেতন হবে।

প্রকাশ ঘোষ বিধান : সাংবাদিক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২২
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১১২২০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.