নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২ ফাল্গুন ১৪২৪, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
নৈতিক চরিত্র সংরক্ষণে বিয়ের গুরুত্ব
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
মানবতার ধর্ম ইসলাম নারী-পুরুষের মধ্যে সুন্দর ও পুত: পবিত্র জীবন যাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ব্যবস্থা করেছে। নোংরামির অভিশাপ থেকে সুরক্ষা দানে ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছে। কেননা নারী-পুরুষের পবিত্রতা ও সতীত্ব রক্ষার বাস্তব হাতিয়ার হল বিবাহ ব্যবস্থা। বিয়ে হল পুরুষ ও নারীর মাঝে সামাজিক পরিবেশে এবং ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক অনুষ্ঠিত এমন এক সম্পর্ক যার ফলে নারী-পুরুষ দু'জনে একত্রে বসবাস এবং পরস্পরের যৌন সম্পর্ক স্থাপন সম্পূর্ণবৈধ হয়ে যায়। বিবাহ একটি শুভ ও ধমীর্য় অনুষ্ঠান যা পালনের মধ্য দিয়ে নারী-পুরুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা হয়। এই বিবাহ অনুষ্ঠানে আনন্দ উল্লাসের নামে বেহায়পনা বা অশ্লীল অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবর্তে ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রাখা অবশ্যই কর্তব্য। ইসলামে বৈরাগ্য নীতির কোন স্থান নেই। ইসলামে সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আদেশ দেয়। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিবাহ না করা ইসলামে নিষিদ্ধ এবং অপরাধ। বিবাহ কেবল ভোগ বিলাসের জন্য নয় বরং বিয়ে হল প্রত্যেক নর-নারীর জীবনকে পুত: পবিত্র, সুন্দর এবং সার্থক করার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ মাধ্যম।

পবিত্র কোরআন শরীফে বিয়ে এবং স্ত্রী গ্রহণের ব্যবস্থাকে নবী রাসুলের প্রতি আল্লাহতায়ালার এক বিশেষ দান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হচ্ছে, হে নবী আপনার পূর্বেও আমি অনেক নবী-রাসুল পাঠিয়েছি এবং তাদের জন্য স্ত্রী ও সন্তানের ব্যবস্থা করেছি। আয়াতের মর্মবাণী থেকে বুঝা যায় বিবাহ আল্লাহ পাকের প্রদত্ত একটি ঐশী বিধান। একই প্রসঙ্গে সুরা নূরে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, এবং বিয়ে দাও তোমাদের এমন সব ছেলে মেয়েদের স্বামী স্ত্রী বা স্ত্রী নেই; বিয়ে দাও তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা বিয়ের যোগ্য হয়েছে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর উপর গুরু দায়িত্ব অর্পিত হয়। সূরা বাকারার ১৮৭ আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, স্ত্রীরা হচ্ছে তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ আর তোমরা তাদের জন্য পোশাক স্বরূপ। অর্থাৎ পোশাক যেমন করে মানব দেহকে সকল প্রকার নগ্নতা, অশ্লীলতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে ঠিক তেমনি বিবাহের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে সেভাবে বাঁচিয়ে রাখে। এ প্রসঙ্গে মিশকাত শরীফে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি বিয়ে করল তার অর্ধেক দিন ঈমান পূর্ণ হল, আর বাকী অর্ধেকের বিষয়ে যেন আল্লাহকে ভয় করে। আরো বলা হয়েছে; স্বামী-স্ত্রী যখন একান্তে বসে আলাপ করে, হাসি খুশী করে তার সওয়াব নফল এবাদতের মতো। তাছাড়া স্ত্রীরা জগতের অস্থায়ী সম্পদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলেও হাদীসে রয়েছে।

বিয়ের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক নরনারীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরশাদ হচ্ছে, তোমরা তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে কর: যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান কর; যেন তারা বিয়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকতে পারে এবং অবাধে যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত না হয়ে পড়ে। (সুরা নিসা আয়াত ২৫) এই আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা বিয়ে করার প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং বিয়ে না করে অবৈধ যৌন সম্পর্ককে নিরুৎসাহিত করেছেন। পবিত্র কোরআনের পাশাপাশি প্রিয় নবী (দঃ) ও সামর্থ্যবানদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রতি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিবাহ না করাকে নিরুৎসাহিত করেছেন। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, দয়াল নবী (দঃ) ইরশাদ করেন, হে যুব সমাজ তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ের সামর্থ্য রাখে তাদের বিবাহ করা কর্তব্য। কেননা বিয়ে দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণকারী, যৌন অঙ্গের পবিত্রতাকারী আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোজা রাখে। এ প্রসঙ্গে হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত কুমারিত্ব এবং অবিবাহিত নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের কোন নিয়ম ইসলামে নেই। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বে বিবাহ না করার পরিণতি সম্পর্কে প্রিয় নবী (দঃ) বলেছেন, যে লোক বিবাহ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে করে না সে আমার উম্মতের মধ্যে শামিল নহে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিবাহ না করার ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে দয়াল নবী (দঃ) বলেন, যা হযরত মা আয়শা (রাঃ) থেকে বর্ণিত বিয়ে করা আমার আদর্শ এবং স্থায়ী নীতি যে লোক আমার এ সুন্নাহ অনুসারে আমল করবে না সে আমার দলভুক্ত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। অভিভাবকের মাধ্যমে নারী নিজেকে বিয়ের জন্য উপস্থাপিত করে আর পুরুষ তা গ্রহণ করে অর্থাৎ ইজাব এবং কবুলের মাধ্যমে একটি বিয়ে সম্পূর্ণ হয়। এর ফলে নারী-পুরুষ পরস্পরের মধ্যে দাম্পত্য জীবন শুরু করার বৈধ অধিকার পায়।

নৈতিক চরিত্র সংরক্ষণ, পবিত্রতা এবং সতীত্ব রক্ষার অন্যতম মাধ্যম বিয়ে। বিয়ে হচ্ছে নারী পুরুষের চরিত্রকে পবিত্র রাখার একমাত্র বৈধ উপায়। বিবাহের মাধ্যমে পাপ কর্ম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। জৈবিক চাহিদা পূরণ হয়। মনে প্রশান্তি আসে। বিয়ের ফজিলত অপরিসীম। বিয়ে করার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পথ সহজ হয়। ইসলামে বিবাহের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক যা প্রত্যেক নর-নারীর জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিতাপের বিষয়, জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আজকের নামধারী সভ্য সমাজের কিছু নরকের কীট নর-নারীর এই বন্ধনকে অবজ্ঞা, অবহেলা, জীবন চলার পথের প্রতিবন্ধকতা মনে করে এই পবিত্র বিবাহ বন্ধনকে অবমূল্যয়ান করে বিভিন্ন অপরাধ মূলক তথা সমাজ এবং ধর্ম বিবর্জিত কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে। এ সকল অপকর্মের বিষাক্ত ছোবলে পৃথিবীতে নেমে আসে ভূমিকম্পসহ মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

বিবাহ বর্হিভূত যৌন সম্পর্ক আজ আমাদের নামধারী সভ্য সমাজে মহামারী আকার ধারণ করছে। যার বিষাক্ত ছোবলে জড়িয়ে পড়ছে আজকালের নারী-পুরুষের কিছু অংশ। ইসলাম নিষিদ্ধ সহকর্মী সংস্কৃতি,বয়ফ্রেন্ড, দোস্ত কালচারের প্রদত্ত উম্মাদনা এবং প্রেম, ভালোবাসার আড়ালে পরকিয়ার ন্যায় অভিশপ্ত অভিসার, লিভ টুগেদারের মত ত্রিমুখী এবং চর্তুমুখী সম্পর্কের মত জঘন্য, ঘৃণিত ঘটনায়।

বিবিসি'র এক জরিপ রিপোর্টে উল্লেখ, আমেরিকায় কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাঙ্গনে অর্ধেক নারীই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। রিপোর্টে কর্মক্ষেত্র ও পড়াশোনার জায়গায় নারীরা উদ্বেগজনকভাবে অশ্লীল, নোংরা, অযাচিত স্পর্শ, যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। জরিপে প্রায় ৫৩ শতাংশ নারী জানান, প্রতি ১০ জনে ১ জন নারী যৌন নিপীড়নের শিকার এবং কর্মস্থলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক ৩০ শতাংশ নারী যৌন টার্গেটে পরিণত হয়। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে নারীরা ব্যাপকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার। এসব ঘটনার বেশিরভাগই হুমকি, সামাজিক হেনস্তা বা লজ্জার ভয়ে সেভাবে প্রকাশ হয় না। পাশ্চাত্য সমাজের এ ভয়াবহ কুৎসিত চিত্রকে আড়াল করে তথাকথিত নারীবাদীরা কী করে পশ্চিমা সমাজকে নারী অধিকারের মডেল বলে? তারা কি জানে! নারীর ইজ্জত-সম্মানের সুরক্ষা দিয়ে, তাদের ন্যায্য অধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তামূলক জীবন-যাপনের গ্যারান্টি শুধু ইসলামই দিয়েছে।

ইসলাম হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার আল্লাহতায়ালার প্রদত্ত জীবন বিধান। সৃষ্টিকর্তা তার সৃষ্টি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। ইসলামের শাশ্বত বিধান উপেক্ষা করে শান্তিময় জীবন সম্ভব নয়। আজকের নারী সমাজকে পাশ্চাত্যের সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে আত্মরক্ষা ও সুন্দর জীবন লাভের জন্য ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলা প্রয়োজন। তাহলে আমাদের পরকালীন জীবন হবে শান্তি ও মুক্তির অনবদ্য উপায়। আল্লাহর রাসুল হযরত নবী করিম (দঃ) এর বাণীর চেয়ে উত্তম ও গঠনমূলক নীতি আর কি হতে পারে। তিনি বলেছেন, বংশ মর্যাদা লাভের আশায়, নৈতিক চরিত্র পরিশুদ্ধ রাখা এবং আদর্শ পরিবার ও সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যেই বিয়ে করা উচিত। সুতরাং বিয়ে করার মাধ্যমে আমরা ব্যভিচার থেকে বাঁচতে পারি এবং মনের প্রশান্তি আনতে পারি।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২২
ফজর৩:৪৮
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৪০
এশা৮:০১
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৫১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.