নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৩০ মাঘ ১৪২৫, ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০
ভাষা দিবসে মাতৃভাষার কথা
মাহমুদুল হক আনসারী
প্রতিবছর মাতৃভাষা দিবস আসলে ভাষা নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। ২১ শে ফেব্রুয়ারি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলা ভাষা দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। '৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতি দুনিয়াবাসীকে ভাষার জন্য আন্দোলন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পৃথিবীতে মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেয়ার ইতিহাস বিরল। সেক্ষেত্রে বাঙালি জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে। ভাষা আন্দোলনে তাজা রক্ত বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আত্মদান করেছেন রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার, সালামসহ নাম না জানা আরো অনেকে। তাদের প্রতি বিনম্র লাখো কোটি শ্রদ্ধা ও স্মরণ করবে জাতি চিরদিন। যাদের তাজা রক্তে বাংলা ভাষা অর্জন এখনো তাদের ত্যাগের দাবি স্বাধীন সার্বভৌম বাঙালি জাতি পূরণ করতে পারেনি। এখনো বাংলা ভাষা মায়ের ভাষা হিসেবে রাষ্ট্রের সবগুলো সেক্টরে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেনি। দেশের বুদ্ধিজীবী, চিন্তাবিদ, গবেষক সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারীদের নিকট মায়ের ভাষা প্রাধান্য পায়নি। মায়ের ভাষার উপর বিদেশি ভাষা এখনো চর্চায় এগিয়ে। মাতৃভূমির মাতৃভাষার উপরে বিদেশি ভাষার আধিপত্য বিস্তার করছে অসংখ্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ে বাংলার পরিবর্তে বিদেশি ভাষায় পাঠ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অলিগলিতে দেশের হাজার হাজার শিশু বিদেশি ভাষা শিক্ষায় বড় হচ্ছে। অসংখ্য বিদ্যালয় বিদেশি ভাষার উপর শিক্ষা বিস্তার চলছে। উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি পরিবার তাদের সন্তানদের বিদেশি ভাষার শিক্ষার প্রতি অগ্রসর বেশি। দেশের প্রচলিত সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাকার্যক্রম এক প্রকার হ য ব র ল। সরকারি, আধা-সরকারি বিদ্যালয়ের সিলেবাসে কিছুটা মিল থাকলেও বেসরকারি বিদ্যালয়ের সিলেবাস স্কুল কর্তৃপক্ষের খেয়াল খুশিতেই তৈরি হয়। জগাখিঁচুড়ি পাঠ্য তালিকা ইচ্ছেমতো সিলেবাস ছাত্রছাত্রীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। শিশু শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এক এক ক্লাসে কয়েক ডজন করে পাঠ্যবই চাপিয়ে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীর শক্তি সার্মথ্য ও মেধার চিন্তা না করে শিক্ষার নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অঙ্কুরেই মেধার বিনাশ করা হচ্ছে। বেসরকারি বিদ্যালয় কোন নিয়মে কোথায় কীভাবে প্রতিষ্ঠা হবে তার কোনো সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই ইচ্ছেমতো যত্রতত্র প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনে স্কুল গড়ে উঠছে। বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর, বাসা-বাড়ির অলিগলিতে চমকপ্রদ স্কুলের নাম দিয়ে ব্যাঙের ছাতার মতো স্কুল প্রতিনিয়ত প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ, বেতন-ভাতা প্রদানের কোনো নিয়মই তারা মানছে না। এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার নামে প্রচুর বেতন-ভাতা অভিভাবক থেকে আদায় করা হয়। ওখানকার ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার মান যাই হোক না কেনো, তাদের ড্রেস, পোশাক-আশাক, আনুষঙ্গিক সব কিছু ব্যয়বহুল। শিক্ষার্থীদের থেকে মোটা অঙ্কের ভর্তি ফি, মাসিক বেতন আদায় করা হয়। ধনীক শ্রেণির আলালের ঘরের দুলালরা এখানকার শিক্ষার্থী। তারা যখন ঐসব বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা শেষ করে বের হয় তখন তারা বাংলায় কথা বলতে পারে না। মায়ের ভাষা, নানার ভাষা, দাদা-দাদির ভাষা তারা বোঝে না। তারা জেলে, কৃষক, কুমার, কামার কি তা নির্ণয় করতে পারে না। ফলে একই দেশের একই ছাদের নিচে বসবাসকারী এদেশের আগামী দিনের প্রজন্মরা হয়ে উঠছে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের। ভিন্ন ধারার শিক্ষা কার্যক্রমে এমন ধরনের চরিত্র তৈরি হচ্ছে জাতির মধ্যে। বেসরকারি এসব স্কুল ঠিক কোন মন্ত্রণালয় অথবা স্থানীয় কোন প্রশাসনের অনুমোদনে গড়ে উঠছে সেটাও ঐসব স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রদর্শন করতে পারে না। দেশে নিয়ম মোতাবেক প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া যেখানে কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত পরিচালনা করা সম্ভব হয় না সেখানে মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় কী করে কোনো অনুমতি ব্যতিরেকে যত্রতত্র গড়ে উঠছে সেখানেই শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের কথা। রাষ্ট্রের সবগুলো সুবিধা-অসুবিধা দেখার দায়িত্ব সরকারের। সরকারের নির্দিষ্টকাজ জানান দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন আছে। তাদের গোচরেই অনুমতি অনুমোদন নিয়েই রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় কাজ করার কথা। কিন্তু সেখানে শিক্ষার মতো বিশাল একটি জাতীয় সেক্টরের কাজ জানান দিতে সংশ্লিষ্ট কোনো মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতটুকু ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ সেটা অভিজ্ঞ পাঠক মহলই ঠিক করবেন। ভাষা নিয়ে লিখতে গিয়ে শিক্ষার নানা নিয়ম অনিয়মের কথা বলেই ফেললাম। আসলে একটি দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। পরিবার থেকে সমাজ ও রাষ্ট্র সবখানেই শিক্ষার গুরুত্ব, মান নিশ্চিত করতে হবে। তবেই কাঙ্ক্ষিত জাতীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব। মাতৃভাষার কথা শুধুমাত্র ভাষা দিবসে সীমাবদ্ধ না রেখে অন্তরে-মননে-চিন্তা-চেতনায় স্থান করে দিতে হবে। কথায় কাজে আমার মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও বাস্তবায়ন দেখাতে হবে। এখনো যেসব প্রতিষ্ঠান মাতৃভাষাকে কোণঠাসা করে বিদেশি ভাষা চর্চায় বেশি দুর্বলতাদের মাতৃভাষার অনুসরণে ফিরে আসতে হবে। মাতৃভাষা জাতীয় ভাষা হিসেবে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে তার মর্যাদা কায়েম করতে হবে। সমস্ত মন্ত্রণালয় হিসেব-নিকেশ, প্রেসক্রিপশন, সাইনবোর্ড ইত্যাদিতে আমার মাতৃভাষার সঠিক মূল্যায়ন চাই। বিদেশি অক্ষরের উপর আমার মায়ের ভাষার শব্দ চালু হোক সেটাই ভাষা দিবসের দাবি ও প্রত্যাশা।

মাহমুদুল হক আনসারী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীফেব্রুয়ারী - ২৪
ফজর৫:০৯
যোহর১২:১২
আসর৪:২২
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৬:২৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭০২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.