নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ২৯ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬ মাঘ ১৪২৪, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯
জনতার মত
নবাব সলিমুল্লাহর অবদানকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে
মো. ইয়ামিন খান
গত ১৬ জানুয়ারি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর মৃত্যুবার্ষিকী। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে এতটাই অকৃতজ্ঞ এই জাতি কীভাবে হতে পারে তা ভাবতে অবাক লাগে। যার দান করা ৬০০ একর জমির উপর আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল ও বুয়েটের মতো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে আছে। অথচ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এসব প্রতিষ্ঠানে তার জন্য কোনো দোয়ার অনুষ্ঠান করা হয়নি, হয়নি কোনো স্মৃতিচালনমূলক অনুষ্ঠান। পক্ষান্তরে সেই সময়ের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী বা মৃত্যুবার্ষিকী খুব ধুমধামের সাথে পালন করা হয়; সেই সময়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাঙালি বিদ্বেষ বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা সবারই হয়তো জানা আছে। রবি ঠাকুর শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি ব্রিটিশদের সাথে রীতিমতো দেনদরবার করেছিলেন যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা না হয়। সেই সময়ে এক অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ দাম্ভিকতার সাথে বলেছিলেন, মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়; তারা ঠিকমতো কথা বলতেই জানে না। অন্যত্র এক অনুষ্ঠানে তিনি এদেশের মানুষকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, সাত কোটি মানুষের হে মুগ্ধ জননী, রেখেছো বাঙালি করে কিন্তু মানুষ করোনি। শুধু রবীন্দ্রনাথ একাই নয়, অনেক হিন্দু বর্ণবাদী ও ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। বঙ্গসন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার নবাব সলিমুল্লাহকে আজ অনেক শিক্ষার্থী জানে না তা ভাবতে অবাক লাগে। ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ১৮৭১ সালের ৭ জুন জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকে তিনি যেমন ছিলেন ধর্মপরায়ণ তেমনি অভিজাত পরিবারের সন্তান হয়েও সাধারণ মানুষের কাছাকাছি অবস্থান করে তাদের দুঃখ-কষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি অকাতরে দান-খয়রাত করতেন। তিনি সর্বপ্রথম পানীয় জল, ইলেক্ট্রিসিটি ও টেলিফোন ব্যবস্থার মাধ্যমে আধুনিক ঢাকার জন্ম দেন। তিনি জীবনের প্রথম দিকে নবাবীর প্রতি লোভ না করে জনগণের কথা চিন্তা করে মোমেনশাহীর ম্যাজেস্ট্রেসির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯০৩ সালে বড়লাট লর্ড কার্জন ঢাকা সফরে এলে নবাব সলিমুল্লাহ পূর্ব বাংলার সমস্যাগুলো তার কাছে তুলে ধরেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করে বাবার নামে আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (আজকের বুয়েট) প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দোসরদের ক্রমাগত আগ্রাসন থেকে নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষা ও ধর্ম রক্ষায় ছয় মাসের প্রচেষ্টায় সমস্ত পাক-ভারত উপমহাদেশে অল-ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার সম্পদ মানুষের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে ঋণী হয়েছিলেন। সোনালী ব্যাংক সদরঘাট শাখায় এখনও তার বন্ধক রাখা দরিয়া-ই-নূর রক্ষিত আছে। আজ এই মহান ব্যক্তিকে কেন এত অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে? তিনি ঢাবি প্রতিষ্ঠা না করলে কে ভাষা এনে দিত বা কে স্বাধীনতা এনে দিত এমনকি এই বুয়েট না থাকলে কীভাবে বিশ্বমানের ইঞ্জিনিয়ার জন্ম হচ্ছে এটা নিয়ে কেউই উপলব্ধি করছে না। কথিত আছে ঢাকার নবাবদের অনেকেই ব্রিটিশদের দালালি করলেও একমাত্র নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন ব্যতিক্রম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে ব্রিটিশ লাট ও তৎকালীন হিন্দু সমাজের সাথে তার বাদানুবাদ হয়। আজ জাতির উচিৎ নবাব সলিমুল্লাহকে সত্যিকারভাবে জানা।

মো. ইয়ামিন খান : লেখক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমার্চ - ১
ফজর৫:০৫
যোহর১২:১২
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৬:২১সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৩৫৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.