নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
ভারত ও পাকিস্তান সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট
রোহিঙ্গা সঙ্কটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ তবুও দৃষ্টি কাড়তে পারেনি ট্রাম্পের
বিশেষ প্রতিনিধি
শিগগিরই দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তান সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেশী দুই দেশ সফরের ব্যাপারে ট্রাম্প আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশ সফরে কোনো আগ্রহ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের। রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ইস্যুও কেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি কাড়ছে না এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কূটনীতিকরা। তবে রোহিঙ্গা সঙ্কটের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিপর্যস্ত হলেও বাংলাদেশ নিয়ে মোটেও আগ্রহ নেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসলেও এবার ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভারত ও পাকিস্তান সফরের সময়ে বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনা সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে

আন্তর্জাতিক পরিম-লের বেশ সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় মিলিয়ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে সরকার। বর্তমান সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে অধিক সংখ্যক শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়া দেশ বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের নজর বাংলাদেশের প্রতি। জাতিসংঘের মহাসচিবসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সফর করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে উদাসীন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত ও পাকিস্তান সফর নিয়ে ইতোমধ্যে হোয়াইট হাউজের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারির শেষে তার দিলি্ল সফর করার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান সফরও তিনি ওই সময় সম্পন্ন করবেন।

এদিকে, গত বুধবার পাকিস্তান সফরে আগ্রহ দেখিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে এক বৈঠকে বুধবার ট্রাম্প নিজে ইসলামাবাদ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। শিগগিরই এ সফর হতে পারে।

জানা গেছে, এর আগে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপ হয়। ওই সময় দুই নেতার মধ্যে ট্রাম্পের দিলি্ল সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়। এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, টেলিফোন আলাপের পরই হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দিলি্ল যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই তারা ভারতে যেতে পারেন। তখনই ট্রাম্পের সফরসূচির ব্যাপারে চূড়ান্ত খবর পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে সমপ্রতি ইরানের সাথে উত্তেজনা ও বিবাদে জাড়িয়ে পরে আমেরিকার। তার ওপর উত্তর কোরিয়াও কথা শুনছে না। এমন পরিস্থিতিতে ভারত কতটা পাশে থাকবে তা জানতেই এই সফর বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, ২০২০ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই আমন্ত্রণ রাখতে পারছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। পরিবর্তে ফেব্রুয়ারির শেষের কয়েকটা দিনই এই সফরের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত ৭ জানুয়ারি মোদি-ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপের মধ্যেই এই সফরের ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের বিদায়ী দূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও দিলি্লতে ফেরার আগে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে এই সফরের ব্যাপারে কথা বলেছেন। জানা গেছে, ঢাকা ও ওয়াশিংটনের প্রাক্তন এই রাষ্ট্রদূত চলতি মাসেই ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

ভারতের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। কাশ্মির ইস্যুতে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মোড়লের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চান।

কূটনীতিকরা বলছেন, এজন্য ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান দুই দেশই সফর করতে আগ্রহী। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোট ব্যাংকে ভারত ও পাকিস্তান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজ দেশে কিছুটা কোণঠাসা ট্রাম্প তাই অভিবাসীদের একটি বৃহৎ অংশকে নিজের পাশে রাখতে চান।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঢাকা সফরের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে আসছে সরকার। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন। সেই আমন্ত্রণ আনুষ্ঠানিক না হলেও ট্রাম্প সব সময় ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ পেয়ে আসছেন।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছেন, ভারত আগে থেকে সফর ঠিক করেছে। ট্রাম্প সম্ভবত আগামী নির্বাচনে ভারতীয় ডায়াসপোরার সমর্থন চায়। তিনি বলেন, ভারতে এলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশেও আসবে এমন কোনো কথা নেই। ওবামাও ভারতে এসেছিলেন কিন্তু সে সময় তিনি বাংলাদেশে আসেননি। পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশে আসতে চান এমন ইঙ্গিত পেলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অবশ্যই তৎপরতা চালানো হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ রফতানির তুলনায় প্রায় ১০ ভাগের ১ ভাগ, যা ৫০ কোটি ডলার। রফতানি ৪শ' ৯০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয় সুতা, কাপড়, যন্ত্রপাতি, স্টিল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, গমসহ খাদ্যশস্য। আর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যায় প্রধানত তৈরি পোশাক। এর বাইরে সিরামিকসহ কিছু সামগ্রী। আমদানি পণ্যগুলোর বেশিরভাগ গার্মেন্টস রফতানির সঙ্গে সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের অস্ত্র ছাড়া আমদানি বাড়ানোর সুযোগ খুবই কম। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়ানোর অনেক সুযোগ আছে। তৈরি পোশাক রফতানিই আরও অনেক বাড়ানো সম্ভব। এছাড়া খাদ্যশস্যসহ আরও অনেক পণ্য রফতানি সম্ভব। কিন্তু তার পথে বাধা কী? বাধা যুক্তরাষ্ট্র নিজেই।

অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে অর্থ দেয়, খাদ্য দেয়, নানা রকম সুবিধাও দেয়। নইলে বাংলাদেশ ডুবে মরত। তাই তার কথা অমান্য করা যাবে না। কিন্তু সত্য বরং বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্রে গড় আমদানি শুল্কহার যেখানে শতকরা ১ ভাগের মতো, সেখানে বাংলাদেশের গার্মেন্টসের ওপর শুল্কহার শতকরা গড়ে ১৫ ভাগ, কোনো কোনো পণ্যে আরও বেশি। গত এক বছরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস রফতানির শতকরা প্রায় ২৩ ভাগ যুক্তরাষ্ট্রে গেছে। এ হিসাবে বিগত বছরগুলোতে প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক বাবদ প্রদান করেছে কমপক্ষে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।

২০১৯ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ। সরকার সে লক্ষ্যে কাজও করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে শুধু অর্থনৈতিক দিকে নজর দিলেই হবে না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগও বাড়াতে হবে। কিন্তু সরকার সেই যোগাযোগ কতটুকু করতে পারছে তা এখন ভেবে দেখার বিষয়। নিম্ন বা মধ্যম যে মাপকাঠিতেই বাংলাদেশকে মাপা হোক না কেন স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ব্যবসা করছে দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু সেই ব্যবসা মার্কিন প্রশাসনে কতটা ইতিবাচক ধারণা ফেলতে পারছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২১
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৫১৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.