নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
শিক্ষক নিয়ে দ্বন্দ্ব শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির
আদিতমারীতে সরকারি বই কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী দারুল হুদা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষক নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্বে স্থবির হয়ে আছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম। চলতি বছর ওই প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি না হলেও কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীর নাম করে সরকারি বই সংগ্রহপূর্বক কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের স্বঘোষিত প্রধান শিক্ষক হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সরেজমিন অনুসন্ধানে বিষয়টির কিছুটা সত্যতাও উঠে এসেছে। গত ২২জানুয়ারি বেলা ১১টায় মাদরাসার সাইনবোর্ড সাঠানো ভাঙাচোরা ভূতুরে ভবনে গিয়ে দেখা যায় ভবনের ফাঁকা একটি কামড়ায় তিন যুবক খোস গল্প করছে। অবশিষ্ট চার কক্ষের ওপর শ্রেণির নামের সাইনবোর্ড থাকলেও সেগুলো তালাবদ্ধ। ভাঙা বেড়ার মাঝ দিয়ে ভিতরের যে পরিবেশ পরিলক্ষিত হয় তাতে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রেণিতে কোন ক্লাস হয় বলে মনে হয় না। প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তিন যুবকের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নিজেকে ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক, মাইদুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক, সুরুজ্জামান মৌলভি শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দেন। এসময় শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে কথিত প্রধান শিক্ষক হামিদুল ইসলাম বলেন কিছুক্ষণ আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয়েছে। তবে কত জন শিক্ষার্থীকে ওই দিন পাঠদান গ্রহণ হয়েছে বা মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা কত- এমন কোন প্রশ্নের সদুত্তর বা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হাজিরা বহি দেখাতে পারেননি তিনি। এসময় পঞ্চাশজন শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন বই বিতরণ করার কথা জানালেও তার কাছে কোন তালিকা পাওয়া যায়নি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করে, পহেলা জানুয়ারি পাশের স্কুল থেকে কিছু শিক্ষার্থীকে ইজিবাইকে নিয়ে এসে মিষ্টি মুখ করিয়ে তাদের হাতে বই তুলে দিয়ে ফটোসেশন করা হয়েছে। যদিও ওই শিক্ষার্থীরা আগেই পূর্বের স্কুল থেকে নতুন বই পেয়েছিল। অবশিষ্ট বই কালোবাজারে কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে আশঙ্কা সূত্রটির। এ সকল কাজের জন্য উক্ত হামিদুল ইসলাম কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের সে সময় ঘটনাস্থলে নিয়ে এসে ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করেছিলেন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে সহকারী শিক্ষক ও মৌলভি শিক্ষক পরিচয় দানকারী ওপর দুই ব্যক্তি বলেন, মাদরাসার শিক্ষকদের নূন্যতম কোন সুযোগ সুবিধা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান বন্ধ আছে। বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কয়েকজন জানান, মাদরাসাটি প্রায় চার বছর ধরে পাঠদান বন্ধ। ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত লেখাপড়া হত। কিন্তু সহকারী শিক্ষক থেকে রাতারাতি স্বঘোষিতভাবে হামিদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক হলে শিক্ষকদের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এরপর শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

মাদরাসার জমি দাতা সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, 'পূর্বের শিক্ষকরা বয়স্ক হওয়ায় তারা অব্যাহতিপত্র দেন। এরপর পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তক্রমে মাদরাসার সভাপতি শামছুল ইসলাম ফয়জুর রহমানকে প্রধান শিক্ষক ও ২৬/০৯/২০১৩ইং তারিখে হামিদুল ইসলামকে জুনিয়র মৌলভী আমার পুত্রবধূ ফরিদা খাতুনকে জুনিয়র সহকারী শিক্ষক ও আব্দুল লতিফকে এবতেদায়ী ক্বারী শিক্ষক নিয়োগ দেন। এতে পাঠদানও বেগবান হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সহকারী শিক্ষক হামিদলু ইসলাম নিজেকে প্রধান শিক্ষক জাহির করতে প্রতিষ্ঠানের পূর্বের যাবতীয় কাগজপত্র গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে দায়িত্বশীল দপ্তরগুলো বিভিন্ন কাগজপত্র দাখিল করে। সহকারী শিক্ষক ফরিদা খাতুন ও আব্দুল লতিফকে বাদ দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নতুন করে ০৩(তিন) জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে তাদের কাগজপত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন। এতে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলে শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। শুধু তাই নয় আমার অজান্তেই আমাকে সভাপতি বানিয়ে আমার স্বাক্ষর জাল করে হামিদুল ইসলাশ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজের নিয়োগপত্র তৈরি করেছেন'। নজরুল ইসলাম কখনো সভাপতি ছিলেন না এবং কাউকে নিয়োগপত্র দেননি বলে দাবি তার। বাদ পড়া শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, আমাদেরকে বাদ দিয়ে দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হামিদুল নতুন করে ০৩(তিন) জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এবং তাদের কাগজপত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করাও হয়েছে। যা সর্ম্পূন অনৈতিক। এ কাজের জন্য উপজেলা পর্যায়ের এক জনপ্রতিনিধি ও এক শিক্ষা কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা নিয়ে যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ তার।

বাদপড়া অপর শিক্ষিকা ফরিদা খাতুন জানান, 'অনেক আগেই আমাদের নামীয় প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিস, আদিতমারী; জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, লালমনিরহাট ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকায় দাখিল রয়েছে। কিন্তু সুচতুর হামিদলু ইসলাম আদিতমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দাপ্তরিক কর্মকর্তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তাদের যোগসাজসে নতুন করে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া তিনজনের তথ্য ঢাকায় পাঠানোর চেষ্টা করছে এবং আমাদের বাদ দেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও তা কোন সুরাহ পাইনি'। তিনি তাদের সকলের স্বপদে বহালের পরিবেশ নিশ্চিত ও স্বঘোষিত প্রধান শিক্ষক জালিয়াতির হোতা মো. হামিদলু ইসলামের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৮
ফজর৩:৪৬
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪৩
এশা৮:০৫
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪০২৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.