নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১১ মাঘ ১৪২৬, ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১
বিএনপির ভোটতলা : ন্যাড়ার বেলতলা
রিন্টু আনোয়ার
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের উত্তর ও দক্ষিণ নির্বাচনে- 'সুষ্ঠু হবে না, জালিয়াতি করে ফল নিয়ে যাবে সরকারি দল'- এমনটি বলার পরও নির্বাচনে কিন্তু রয়েছে বিএনপি। কেন এমন স্ববিরোধিতা দলটির? নিশ্চিত পরাজয় জেনেও নির্বাচনে যাওয়া? এর একটি ব্যাখ্যা অবশ্য দিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, গণতন্ত্র ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ব্যাপরটা কি আসলে এমনই?

তার এতো সরলী বক্তব্যের সার খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যুক্তিও বেশ খোঁড়া। সিটি নির্বাচন একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচনে শরিক হওয়া বা জয়-পরাজয়ের সাথে গণতন্ত্র বা কোনো নেতানেত্রীর মুক্তির কী সম্পর্ক? তা কী প্রভাব ফেলবে বিএনপির রাজনীতিতে? সাংগঠনিক শক্তিতে? বা আন্দোলনে? কোনো সিটি বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারদের মন জোগাতে সচরাচর প্রার্থীরা তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা জানান। ঢাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরা সেটাই করছেন। আতিক কিংবা তাপস ফুরফুরে মেজাজে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে ভাসিয়ে দিচ্ছেন। তা করতে গিয়ে তামাশাও কমতি করছেন না। এছাড়া, ক্ষমতার সুবাদে নির্বাচনী কর্মকা- তাদের জন্য বেশ মসৃণ। জয়ের আগেই বিজয়ীর ভাব। ভাব এবং ভঙ্গিতে তারাও সেটা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

বিএনপির জন্য সেটা নেই। পথ তাদের কন্টকাকীর্ণ। অনেকটা বন্দি বা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে চলছে তাদের গণসংযোগ। কিন্তু, বিএনপি প্রার্থীদের কণ্ঠে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা একেবারে সামান্য। সরকারের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ও নেত্রীর মুক্তি দাবি করে কিছু কথামালার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছেন তারা। নগরবাসীর কাছে এসব কথা কদ্দুর আবেদন রাখতে পারবে- গুরুতর প্রশ্ন। পাশাপাশি এ কথাও অস্বীকারের জো নেই- নির্বাচন বলতে যেটা বুঝায় সেটা বাংলাদেশে 'নাই' হয়ে গেছে অনেক আগেই। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে বিদায় কে করেছে, এর পেছনে কে কতোটা দায়ী সেটা ঐতিহাসিক অংশ হয়ে গেছে। নতুন করে সেই আলোচনার দরকার নেই।

আবার সিটি কর্পোরেশনের মতো নির্বাচনে জেতার ব্যাপারে বিএনপির সামর্থ্য দলের জন্য সুফল দেয়নি। এলাকায় উন্নয়ন হয়নি- সেটাও প্রমাণিত। গাজীপুর, রাজশাহী, সিলেট কুমিল্লা, খুলনায় এর আগে জেতার পর বিএনপির মেয়ররা উল্টো নাজেহালের শিকার হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন চালাতে পারেননি। চেয়ারেও বসতে পারেননি ঠিকমতো। মামলার পর মামলায় দফায় দফায় জেল খেটেছেন। এমন জেল খাটার চেয়ে ফেল করা ভালো ছিল বলে অনেকের রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য। এমন দুর্গতির বিনিময়ে দলের জন্যও তারা কিছু করতে পারেননি। পারেননি নিজের কল্যাণে কিছু করতেও। দলের নেতাকর্মীদের কিছু দিতে পারেননি। ক্ষেত্রবিশেষে আরো বিপদে ফেলেছেন। এটাই বাস্তবতা। কথার কথা এবার ঢাকায় বিএনপির ইশরাক-তাবিথরা জিতলেও কি কিছু করতে পারবেন? গণতন্ত্র বা তাদের নেত্রীর মুক্তির ব্যাপারে ভূমিকা রাখার নূ্যনতম সুযোগ তাদের থাকবে? অথবা তাদেরও যে গাজীপুরের মান্নান, রাজশাহীর বুলবুল বা খুলনার মনির মতো দশা হবে না, সেটার কোনো নিশ্চয়তা আছে? বরং সেটার শঙ্কাই বেশি।

অবশ্য সিলেট-কুমিল্লায় বিএনপি দলীয় মেয়ররা তৈরি করেছেন ভিন্ন ইতিহাস। ক্ষমতাসীন দলের আজ্ঞাবহতায় টিকে আছেন তারা। এরপরও আজ্ঞায় ঘাটতি হলেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন সরকারদলীয় এমপি বা মন্ত্রীদের দরবারে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে বিশাল সাইজের বিজ্ঞাপনও দিতেও দেখা যায়। বলতে গেলে সরকারি দলের সঙ্গে মিলেমিশে-ভাগেযোগে শুধু চেয়ারটা ধরে রেখার প্রাণপণ চেষ্টা। দলের তেমন কোনো কাজে আসছেন না। বেশির ভাগ সময় কর্মীদেরও এড়িয়ে চলেন। গণতন্ত্র বা দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ভূমিকা রাখা দূরে থাক, এ নিয়ে কোথাও দু'চারটা কথা বলেছেন- সেটাও দেখা যায় না।

গেল নির্বাচনে গোহারার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা সংসদে যাবেন না। পরে গেছেন। তবে, তিনি নিজে ছাড়া। বগুড়ার পাস করা আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এতে কী লাভ-কী ক্ষতি সেটা তারাই ভালো বোঝেন। তাদের নিশ্চয়ই কোনো হিসাব আছে। সংসদে গেলে নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা দেয়া হয়, এটি তারা জানেন। সংসদে না গেলে তারা বাইরে থেকে 'অবৈধ সংসদের' নিন্দা-সমালোচনা চালিয়ে যেতে পারবেন সেটাও তারা জানেন।

বাংলায় প্রবাদ আছে ন্যাড়ায় বার বার বটতলায় যায় না। বেলতলায় গেলে কী হয়-ন্যাড়া সেটা একবারেই বুঝে ফেলে। ন্যাড়া বলতে আমরা বুঝি ভোলাভালা ধরনের নিরীহ কোনো ব্যক্তি। যেখানে দেশের মানুষও ন্যাড়া হয়ে এখন ভোটবিমুখ। ২০০৯ সালের জানুয়ারির পর জাতীয় বা আঞ্চলিক সবগুলো নির্বাচনেই প্রার্থী কম, ভোটার কম, ভোটও কম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসল-নকল মিলিয়ে ভোট পড়েছিল ৪০ শতাংশ। এর বেশি দেখাতে পারেনি তখনকার নির্বাচন কমিশন। তাতে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪৬ জনের বিনা চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হতে কোনো অসুবিধা হয়নি। সেবার ক্ষমতাসীন দলের ২৬৫ জন বিজয়ী বলে ঘোষিত হন। ২০১৮ সালের শেষের নির্বাচনে আরও কম ভোটার হলেও এক দলের সর্বাধিক প্রার্থী-২৯২ জন জয়ী হন। এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতার মধ্যেও কেন বারবার স্থানীয় বা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি? এটি ছোট, কিন্তু মোটা দাগের প্রশ্ন। কিন্তু, বিএনপি বার বারই যাচ্ছে ভোটতলায়। কেন? তাদের বোধের অভাব? না-কি বাড়তি কোনো বুঝ?

বিএনপি মোটেই ন্যাড়া বা ভোলাভালা নয়। বিশাল দল। তাদের তো আরো বেশি বোঝার কথা। তা'হলে গোলমাল বা ব্যতিক্রমটা কোথায়? ২০১৪ সালে না গেলেও পরে কেন বার বার তাদের এই ভোটতলায় যাওয়া? ভোটগাছের নিচে গিয়ে তারা কষ্ট পায়। নির্বাচন কমিশনের চাতুরি দেখে। এর প্রতিবাদে আন্দোলনের হুঙ্কার দেয়। নেতারা মামলা-হামলায় পড়েন। জেল খাটাসহ নানা আজাবে ভোগেন নেতাকর্মী, সমর্থক সবাই। এর বাইরে যাওয়ার উপায়ও যেন নেই দলটির। বলা হয়ে থাকে, বিএনপি গত নির্বাচনে গিয়েছিল দলের নিবন্ধন বাঁচাতে। পর পর দুবার নির্বাচন না করলে দলের নিবন্ধন থাকে না, সেই আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বিএনপিকে বাদ দেয়া সহজ ছিল কারণ আদালত নির্বাচন কমিশন সবই সরকারের অনুকূলে।

কারো কারো মতে, বর্তমানে বিএনপিও সরকারি ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে নয়। এ কারণে 'যা হয়েছে তা ভালো হয়েছে, যা হচ্ছে তাও ভালো হচ্ছে এবং যা হবে তাও ভালোই হবে।'-এমন একটা অপেক্ষায় আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া তাদের আর গতিও অবশিষ্ট নেই। আরেকটা গতি হচ্ছে- বার বার ভোটতলায় গিয়ে নাজেহাল হয়ে নিজের নাক-কান সব কেটে সরকারের যাত্রা ভঙ্গ করতে।

এমন চরমভাবে বিপর্যস্ততা কাটাতে কোন পথে এগুবে তা ঠিক করতে হবে বিএনপিকেই। টানা এক যুগেরও বেশি ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি না নির্বাচনে, না মাঠে, না কৌশলে কোনোভাবেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে কুলাতে পারছে না দলটি। সেটার লক্ষণও নেই। বাস্তবতাও নেই। এতে ক্ষমতাবলয়ের কাছাকাছি থেকে নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতো সাদা চোখে এ অবস্থায় বিএনপির সামনে দুটি পথ খোলা। হয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর হতাশায় আরও মুষড়ে গিয়ে শেষ হয়ে যাওয়া। নইলে দলকে গুছিয়ে জনবান্ধব কর্মসূচি দিয়ে আবার রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় হওয়া, গোড়ালি শক্ত করে টিকে থাকা। সব সরকারি দল সব সময় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহারের সুযোগ পায় এটাই স্বাভাবিক। আর আওয়ামী লীগ নিরবচ্ছিন্নভাবে সেটি পেয়ে চলছে। আবার সমালোচিতও হচ্ছে। বিএনপি সেই সুফল নিজেদের আমলনামায় নিতে পারছে না। ক্ষমতার সুযোগ বিএনপিও একসময় পেয়েছে। ব্যবহারও করেছে তারা। কিন্তু টিকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ পারছে ছলে, বলে, কৌশলে। এ থেকেও শিক্ষা নেয়া, নিজেদের শুধরানো এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার চিন্তা করতে পারে বিএনপি।

রিন্টু আনোয়ার : কলামিস্ট
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৫
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৭
মাগরিব৫:২৮
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:০০সূর্যাস্ত - ০৫:২৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭২৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.