নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৯ পৌষ ১৪২৪, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৯
শিশু নির্যাতন বেড়েছে
একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেই চলেছে- যা আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকেই সামনে আনে। বলার অপেক্ষা রাখে না, পত্রপত্রিকায় পাতা উল্টালে জানা যায় নৃশংস ঘটনা অহরহ ঘটছে, আক্রান্ত হচ্ছে নারী ও শিশু। ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের ব্যবহারও রোধ হয়নি- এমতাবস্থায় যখন জানা যাচ্ছে যে, শিশু নির্যাতন বেড়েছে- তখন তা সন্দেহাতীতভাবে আশঙ্কাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে; যা নিরসনের কোনো বিকল্প থাকতে পারে না বলেই আমরা মনে করি। সংশ্লিষ্টদের এটা আমলে নেয়া প্রয়োজন, মানুষের হিংস্রতা বা শিশুদের সঙ্গে এমন নেতিবাচক আচরণের কারণ কি? শিশুদের প্রতি নৃশংসতা কিংবা নির্যাতনের ঘটনা রোধ হচ্ছে না কেন?

প্রসঙ্গত, সমপ্রতি জানা গেল, দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। অতি সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত স্টেট অব চাইল্ড রাইটস ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ ছাড়া তিনি বলেছেন. সামগ্রিকভাবে নির্যাতনের অবস্থা খুবই খারাপ। গত বছর নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্টদের শিশু নির্যাতনের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সমীচীন। এ ক্ষেত্রে বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি আমলে নিতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না যে, অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে তারা আরও বেশি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে শিশু নির্যাতনকারী যেই হোক না কেন, তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে শিশু হত্যা এবং ধর্ষণ নিয়ে ১০টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ২০১৭ সালে গড়ে প্রতি মাসে শিশু হত্যা হয়েছে ২৮টি এবং ৪৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিচারহীনতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া উঠে আসে এমন বিষয়ও যে, ২০১৭ সালের ১২ মাসে জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মোট ৩ হাজার ৮৪৫ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭১০ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে। ৮৯৪ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ফলে শিশু অধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে- হত্যা, ধর্ষণসহ সকল ধরনের শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া এবং রায় দ্রুত কার্যকরের পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়া শিশু আইন-২০১৩-এর প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং আইনের বিধিমালা চূড়ান্ত করার তাগিদ দেয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। আমরা মনে করি, সামগ্রিক এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব শিশু নির্যাতন বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

সর্বোপরি বলতে চাই, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু পরিবেশের ভেতরে বড় করতে হবে। যদি তার পরিবর্তে শিশুদের জীবন হয়ে ওঠে অনিশ্চিত এবং নির্যাতনের শিকার হতে থাকে তারা, তবে এই ভয়াবহতা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে শিশুর যথাযথ সুরক্ষায় সরকার সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৫
ফজর৪:৪০
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৬
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৬সূর্যাস্ত - ০৫:৩১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৭৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.