নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৯ পৌষ ১৪২৪, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৯
বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে আজ
সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন বিক্ষোভের মুখে ইজতেমায় না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মাওলানা সাদ
টঙ্গী থেকে কামরুজ্জামান, দেওয়ান রফিকুল ইসলাম মাখন ও মাহফুজুল আলম খোকন

বিশ্ব মুসলিম উম্মার দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মিলন ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব টঙ্গীর তুরাগ নদ তীরে আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। আজ বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে। ৪ দিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব এবং শেষ হবে ২১ জানুয়ারি।

এদিকে তাবলিগ জামাতের অন্যতম মুরবি্ব, দিল্লীর নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার মাওলানা মোহাম্মদ সাদ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় যাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাবলিগ কর্মী ও কওমিপন্থী আলেমদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কাকরাইলে অনুষ্ঠিত তাবলিগ জামাতের সুরা কমিটির সিদ্ধান্তে মাওলানা সা'দ ইজতেমায় যাচ্ছেন না। মাওলানা সাদ সেখানে ইজতেমায় অংশ না নেয়ার কথা জানিয়েছেন। মাওলানা মোহাম্মদ সাদকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে রাখা হয়েছে বলে ডিএমপি কমিশনার জানান।

ইজতেমায় মুসলিম জাতির সুখ, শান্তি, কল্যাণ, অগ্রগতি ও ঐক্য কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এতে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইজতেমা আয়োজক কমিটি।

এদিকে ইজতেমা ময়দানে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি মুসলি্লরা আসতে শুরু করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলি্লদের স্রোত এখন টঙ্গীমুখী। প্রয়োজনীয় মালপত্র সাথে নিয়ে দলে দলে মুসলি্লরা ময়দানে এসে যার যার খিত্তা ও কামরায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন।

ইজতেমার মুরুবি্ব মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দুই ধাপে অংশ নেবেন দেশের ৩২ জেলার মুসলি্ল। প্রথম ধাপে অংশ নিচ্ছেন বিদেশি মুসলি্লসহ দেশের ১৬ জেলার মুসুলি্লরা।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্যান্ডেল, মঞ্চ, মুসলি্লদের পারাপারে তুরাগ নদের উপর ভাসমান সেতু, টয়লেট, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি পৃথক ৫টি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসলি্লদের ওজু, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্য ইজতেমা মাঠে স্থাপিত ১৩টি গভীর নলকূপ দিয়ে ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয় পানি সরববরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ইজতেমা চলাকালীন ২১টি গার্বেজ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্স) মেজর এ. কে.এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসলি্লদের অগি্ননিরাপত্তা ব্যবস্থা, উদ্ধার, রোগী পরিবহণ (এম্বুলেন্স), তুরাগ নদে দমকল বাহিনীর ডুবুরি টহলসহ বিভিন্ন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মুসলি্লদের নিরাপত্তায় পুলিশের ৭ হাজার সদস্য ও র‌্যাবের ২৫০ থেকে ৩শ জন সদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে। এ বছর গতবারের চেয়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য ও ৫টি ওয়াচ টাওয়ার বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি সিসি ক্যামেরা ইজতেমা মাঠের চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে।

ময়দানের প্রতিটি খিত্তায় ৬ জন করে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরা, চেকপোস্টে, মেটাল ডিটেক্টর, নৌ টহল ও ভিডিও ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মনিটরিং করা হবে। ময়দানে পলিশের পক্ষে থেকে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে থাকবে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কড়া নজরদারি।

প্রথম পর্বের ১৬ জেলা হচ্ছে : ঢাকার একাংশসহ নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, নড়াইল, মাদারীপুর, ভোলা, মাগুরা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, নেত্রকোনা, নরসিংদী ও বগুড়া। এ বছর ১৬০ একর এলাকাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে চটের প্যান্ডেল।

বিদেশি মেহমানদের জন্য এবার তৈরি করা হয়েছে ৪ কামরা বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক নিবাস। ইজতেমায় মুসুলি্লদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭টি ভাসমান পন্টুন ব্রিজ তৈরি করেছে। ইজতেমায় মুসুলি্লদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৫০টি মেডিকেল টিম ফ্রি চিকিৎসাসেবা প্রদান করবে। প্রস্তুত থাকবে ১৪টি এম্বুলেন্স।

এদিকে লাখ লাখ মুসুলি্লর সমাগমকে সামনে রেখে ইজতেমা ময়দানে গতবারের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হয়েছে। অস্থায়ী সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোসহ থাকছে ১৫টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ, পুলিশ ও র‌্যাবের আলাদা কন্ট্রোল রুমসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের কঠোর নজরদারি।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, ইজতেমার মুরুবি্ব এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যেখানে পুলিশ দেয়া দরকার সেখানে পুলিশ দেয়া হবে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ইজতেমা মাঠে একটি কেন্দ্রীয় এবং পাঁচটি সাব-কন্ট্রোল রুম থাকবে। ইতোমধ্যে ইজতেমা মাঠের চারপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ শুরু করছে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে আগত মুসুলি্লদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য একটি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। কেন্দ্রটিতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করা হয়েছে। মাওলানা সাদের আগমন ইস্যুতে জটিলতা নিরসনে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে প্রথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাওলানা সাদ ইজতেমা ময়দানে আসবেন না। এ বিষয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুমে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বলে র‌্যাবের এডিজি (অপারেশন) কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২০
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০১
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.