নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৯ পৌষ ১৪২৪, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৯
বরিশালে পৌর এলাকায় অবৈধভাবে চলছে ৩ ইটভাটা
জনদুর্ভোগ
বরিশাল প্রতিনিধি
জেলার উজিরপুর পৌর সদরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তিনটি ইটভাটার কার্যক্রম। পৌর নগরীর প্রাণেকন্দ্রের প্রায় দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে এসব ইটভাটাগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ঘণবসতিপূর্ণ পৌর এলাকার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ইটভাটাগুলোতে দেদারসে পোড়ানো হচ্ছে কয়লার পরিবর্তে কাঠ।

সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব ইটভাটা স্থাপনে দেখা দিয়েছে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ। সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি গেজেট আকারে আনুষ্ঠানিকভাবে উজিরপুর পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হলে ইট ভাটাগুলো পৌর এলাকার মধ্যে পরে। সেই থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ভাটাগুলো আগের মতো চলে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ আইন অনুযায়ী জনবসতি এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে (যেখানে আনুমানিক ৫০টি পরিবার বাস করে) ইটভাটা করার নিয়ম নেই। এছাড়া পৌর এলাকার মধ্যে কোনো ইটভাটা করা যাবে না। পাশাপাশি সংরক্ষিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা সদর, সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন বনভূমি, অভয়ারণ্য, জলাভূমি ও কৃষি প্রধান এলাকাসহ পরিবেশ সঙ্কাটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

সরকারি এ আইন অমান্য করলে পাঁচ বছরের জেল ও জরিমানার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন বিল ২০১৩ পাস করা হয়েছে। তারপরেও এ আইন অমান্য করে উজিরপুর পৌরসভার ফসলি জমি ও ঘণবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা তৈরি করে চালানো হচ্ছে কার্যক্রম। সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের পরমানন্দসাহা গ্রামের ঘণবসতিপূর্ণ এলাকার মাত্র একশ গজের মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা মেসার্স হাজী ব্রিকস নামের ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ। কয়লার পরিবর্তে জ্বালাীি হিসেবে এসব কাঠ দিয়েই পোড়ানো হচ্ছে ইট। পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় ফসলি জমিতে গড়ে ওঠেছে ওই ভাটা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে ঐ এলাকার গাছপালা ও লতাপাতা কালো-বিবর্ণ হয়ে গেছে।

ঐ গ্রামের দিনমজুর আবুল হোসেন বলেন, ইট ভাটার কারণে গত কয়েক বছর ধরে গ্রামের ফলজ গাছগুলোতে ফল ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। একইভাবে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌর নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের কালিরবাজার গ্রামের কয়েক শতাধিক বাসিন্দাদের। সেখানে জনবসতি এলাকার ২০০ গজের মধ্যে এবিএস ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। যদিও ঐ ভাটায় কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। তবুও পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে জনদুর্ভোগের কমতি নেই। ঐ গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, এই ভাটার কারণে গাছপালা ও মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। ভাটা সংলগ্ন একই এলাকার আবুল সরদার জানিয়েছেন, ইট ভাটার কারণে প্রতিবছর তার ঘরে নতুন ঢেউটিন লাগাতে হয়। এছাড়া পৌরসভার উত্তর রাখালতলা গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠেছে এসবিআই ব্রিকস। সেখানেও একই অবস্থা। উজিরপুর পৌরসভার মধ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এই তিন ইটভাটার চারপাশে ঘণবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাটবাজার ও সড়ক-মহাসড়ক। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়ার বিরূপ প্রভাবে মরে যাচ্ছে গ্রামগুলোর ফলদ, ওষুধি গাছ। ইতোমধ্যে ঐসব গ্রামের অধিকাংশ ফলদ গাছের ফল ধরাও বন্ধ হয়ে গেছে।

পৌর এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সবগুলো ভাটা মালিকরা বলছেন, তারা ইটভাটার অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. আহসান হাবিব বলেন, বরিশালে নীতিমালার বাইরে গড়ে ওঠা ইটভাটার সংখ্যাই বেশি। পরিবেশ আইন অনুযায়ী জনবসতির এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। সে অর্থে পৌর সদরের মধ্যে গড়ে ওঠা সব ইটভাটাই অবৈধ। ঐসব ইটভাটার পরিবেশ বিভাগের কোনো ছাড়পত্র নেই। পরিচালক আহসান হাবিব আরও জানান, খুব শীঘ্রই ঐ এলাকায় গিয়ে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২০
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০১
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২২২৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.