নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ২৯ পৌষ ১৪২৪, ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৯
এসএসসি পরীক্ষা ও কতিপয় প্রস্তাব
মাহমুদুল হক আনসারী
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বাগতম। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আরম্ভ হবে। সারাদেশে একযোগে এ পরীক্ষা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় জানা যায়। কোমলমতি শিশুদের এ সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রী অভিভাবক সকলেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় থাকেন। প্রশ্নফাঁস একটি নিয়মিত সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ অভিভাবক সকলেই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে পরীক্ষার ৩ দিন পূর্বে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩০ মি. পূর্বে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস বেশি উদ্বিগ্ন মেধাবী ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক। নিয়মিত ছাত্রছাত্রী পরীক্ষার্থী পড়ালেখা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে। নিয়মিত ক্লাস ও অধ্যয়ন পর্ব নির্দিষ্ট বছর শেষ করে পরীক্ষার মাধ্যমে তারা ভালো ফলাফল আশা করে থাকে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস হওয়ার মতো মারাত্মক শিক্ষা মরণব্যাধিতে ভুগছে সারাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। ১ম শ্রেণি থেকে বিসিএস পরীক্ষা পর্যন্ত এ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি বেসরকারি নিয়োগ পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁসের ব্যাধি ধরা পড়ছে। প্রশ্নফাঁস চক্রের অনৈতিক মেধাবিধ্বংসী এ চক্র শিক্ষা প্রশাসনের উপর থেকে নিচে পর্যন্ত সমপ্রসারিত বলে মনে হচ্ছে। শিক্ষাবোর্ড শিক্ষামন্ত্রী সমাজের শিক্ষিত সচেতন অভিভাবক মহল এ বিষয়ে এখন অনেকটা সোচ্চার। উদ্বিগ্ন আর উৎকণ্ঠার মধ্যে সুশিল সমাজ প্রতিরোধও সমাজ সচেতনতার কথা বলছে। প্রশ্নফাঁস চক্রকে প্রতিরোধ ও কঠোর শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। এ চক্রের হাত এত যে সমপ্রসারিত, খোদ প্রশাসনও তাদের খুঁজে বের করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রশ্ন যারা তৈরি করেন এবং প্রস্তুত করেন, যাদের মাধ্যমে প্রশ্ন বিলি বণ্টন হয়, তারা যদি এ জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তাহলে কীভাবে এ অনৈতিক কাজ বন্ধ করা যাবে সেটাই বড় প্রশ্ন। সরকারের এতোগুলো গোয়েন্দা বিভাগ আছে, তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে সমস্ত পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয় সেটা সচেতন অভিভাবক মহল বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থী কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। প্রশাসনের কতিপয় বক্তব্য আর পরীক্ষার কয়েকদিন আগে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিলেই কী প্রশ্নফাঁস বন্ধ হয়ে যাবে? প্রকৃতপক্ষে প্রশ্নফাঁস ষড়যন্ত্র যেখান থেকে শুরু সেখানেই এ ব্যবস্থা করতে হবে। আসল জায়গায় চিকিৎসা না করে ডালপালা নিয়ে প্রতিরোধ করলে এর সুফল কতটুকু হবে সেটাও অভিভাবক মহলের প্রশ্ন। জাতিবিধ্বংসী ছাত্রছাত্রীদের মেধা প্রতিবন্ধক এ ব্যাধি থেকে যে করেই হোক শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে হবে। নজরদারি করতে হবে প্রশ্ন তৈরি, সংরক্ষণ ও বিলি-বণ্টনে। এ কাজে যারা নিয়োজিত তাদের কড়া নজরদারি রাখা চাই। যাদের মাধ্যমে বিলি বণ্টন তাদের রাষ্ট্র ও অভিভাবকদের গভীর উৎকণ্ঠা সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। এ অপরাধের শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সব ধরনের প্রশ্নফাঁস চক্রান্ত ও যোগাযোগ মাধ্যম কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। এ প্রশ্ন প্রস্তুত ও বিলি বণ্টনের সাথে সম্পৃক্তদের নির্দিষ্টভাবে দায়িত্বের প্রতি সতর্ক করতে হবে। সবকিছু ঠিকভাবে সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্নভাবে রেখে যেনো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। তাদের যেনো পরীক্ষাভীতি ও প্রশ্নফাঁসের গুজব থেকে রক্ষা করা হয়। সব ধরনের সার্বিক নিরাপদ প্রস্তুতি যেনো শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের থাকে। সেটাই ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলের দাবি। ছাত্রছাত্রী অভিভাবক যেনো কোনো অবস্থায় প্রশ্নফাঁস চক্রের শিকার না হন। এ ধরনের যে কোনো সংবাদ পাওয়া মাত্র প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। কোনো অবস্থায় এ অনৈতিক কর্মকা-ে কোনো গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা যাবে না। সামাজিকভাবে শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবক-সচেতন মহলকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও জটিল কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের যেনো উৎকণ্টায় পড়তে না হয় সেটাও সংশ্লিষ্টদের মাথায় রাখতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্র পরিদর্শকদের নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করা চাই। সব ধরনের গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিদর্শকদের কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরীক্ষার্থীদের জন্য করুণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ছাত্রছাত্রীদের সমানভাবে কাউন্সিলিং করার দাবি অভিভাবকদের। কেন্দ্রে কখনো কখনো কতিপয় শিক্ষক অনৈতিকভাবে কিছু কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার কথাও শুনা যায়, এসব চরিত্র যেনো না দেখতে পাওয়া যায় সেটারও নজরদারি রাখতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে কোচিং সেন্টারের পক্ষ হতে তাদের সেন্টারও কোচিং বাণিজ্যের লিফলেট হ্যান্ডবিল প্রচার করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সব ধরনের কোচিং সেন্টারের পোস্টার লিফলেট প্রচারপত্র বিলি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশ থেকে বন্ধ করা চাই। শহর গ্রামে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগে পরে পরিবহণ সংকটে পড়ে। পরীক্ষার সময় পরিবহণের মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয় করে পরীক্ষার্থীদের যেনো পরিবহণ সঙ্কট না হয় সেটাও প্রশাসনকে দেখতে হবে। ফলাফল নির্ণয়ে যেনো কোনো ধরনের কারচুপি ও অনৈতিক মূল্যায়ন না হয়, সঠিক পদ্ধতি ও খাতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে যেনো ফলাফল ঘোষণা হয়। সেটাই পরিক্ষার্থী অভিভাবক শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি। সব ধরনের সমস্ত নিরাপত্তা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবি রাখে দেশবাসী। সমস্ত ধরনের প্রশ্নফাঁস ষড়যন্ত্র থেকে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক মহল যেনো চিরদিনের জন্য মুক্তি পায় রাষ্ট্রের কাছে সে আশাই রাখে সচেতন মহল। আসুন সব ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনৈতিক শিক্ষা বিধ্বংসী কর্মকা-কে একযোগে প্রতিরোধ করি। সকল পরীক্ষার্থীদের প্রতি অজস্র ভালোবাসা আর দোয়া থাকলো।

মাহমুদুল হক আনসারী : কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজানুয়ারী - ২০
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০১
মাগরিব৫:৪০
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২২৫৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.